পাতা:শ্রীশ্রীহরি লীলামৃত.djvu/২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।



প্রস্তর ঘাটেতে এনে,  রেখে গেল সেই স্থানে,
একখানি পাথর না দেয়।।
সন্ধ্যা হইল উর্ত্তীর্ণ,  সেই পাথরের জন্য,
হুহু শব্দ উঠিতেছে জলে।
বিলের যত পাথর,  সব হয়ে একত্তর,
সেই জল বৃদ্ধি হ’য়ে চলে।।
যে ঘরে পাথর ছিল,  জলেতে ভাঙ্গিয়া নিল,
মধুমতী নদীর মাঝেতে।
দেবশীলা স্বপ্না দেশে,  বলে গেল কালিদাসে,
কলুষ পশিল এ গ্রামেতে।।
সে কালীদাসের সূত,  নিধিরাম জেষ্ঠ্য পুত্র,
তিনি হন পরম নৈষ্ঠিক।
শ্রীনিধিরামের ঘরে,  দুই পুত্র জন্ম ধরে,
মোচন রাম, কনিষ্ঠ কার্ত্তিক।।
জেষ্ঠ্য শ্রীমোচন রাম,  অশেষ গুনের ধাম,
ঠাকুর মোচাই নামে খ্যাত।
সফলা নগরী এসে,  বাস করিলেন শেষে,
পঞ্চ পুত্র ল’য়ে আনন্দিত।।
যশোমন্ত সনাতন,  প্রাণকৃষ্ণ রাম মোচন,
রনকৃষ্ণ এ পাঁচ সন্তান।
সর্ব্ব জেষ্ঠ্য যশোমন্ত,   তার হ’ল পঞ্চ পুত্র,
এ পঞ্চের ঠাকুর আখ্যান।।
এ বংশে জন্মিল যত,  শুদ্ধ শান্ত কৃষ্ণ ভক্ত,
সবে মত্ত হরি গুন গানে।
কৃষ্ণ ভকতির গুনে,  তার এক এক জনে,
সাধু কি বৈষ্ণব সবে মানে।।
এ কয় পুরুষ মাঝে,  মত্ত সাধু সেবা কাজে,
কৃষ্ণ প্রেম ভক্তি নিরবধি।
কেহ বা হ’ল সন্নাসী,  কেহ বৃন্দাবনবাসী,
তাতে বংশে ঠাকুর উপাধি।।
ঠাকুরের এ বংশেতে,  হরি চাঁদ অবনীতে,
করিলেন জনমগ্রহণ।
কহিছে তাঁরকচন্দ্র,  অবতীর্ণ হরিচন্দ্র,
হরি হরি বল সর্ব্বজন।।


অথ যশোমন্ত চরিত্র কথা


প্রণাম শ্রীযশোমন্ত ঠাকুরের পায় ।
জনমে জনমে যেন পদে মতি রয় ।।
ঠাকুর বৈষ্ণব বলে উপাধি যাহার ।
আমি মূঢ় কিবা গুন বর্নিব তাহার ।।
বৈষ্ণব সঙ্গেতে সাধু কীর্ত্তন করিত ।
ভাবেতে বিভোর হ’য়ে কত ভাব হত ।।
অশ্রু কম্প স্বেদ বীর বীভৎস পুলক ।
লোমকূপ কন্ডু লোম ঈষৎ কন্টক ।।
অষ্ট সাত্ত্বিক দশাতে বাহ্য হারা হ’য়ে ।
প্রেম স্বরে কহিতেন কাঁদিয়ে কাঁদিয়ে ।।
মম দেহগৃহে কৃষ্ণ এইমাত্র ছিল ।
দেখিতে দেখিতে যেন কাহা লুকাইল ।।
কাহারে বাপরে কৃষ্ণ কাহা বলরাম ।
কাহারে আমার সেই শ্রীদাম সুদাম ।।
করুণা করিত সাধু বাৎসল্য প্রকাশি ।
কোন দিন কৃষ্ণ গোষ্ঠে পোহাইত নিশি ।।
শুদ্ধরাগ ভক্তি শুদ্ধ কৃষ্ণ অনুরাগী ।
বৈষ্ণবেরা যশোমন্তে বলিত বৈরাগী ।।
বৈষ্ণব উপাধি বৈষ্ণবের পদ সেবি।
অন্নপূর্ণা মাকে সবে বলিত বৈষ্ণবী ।।
বৈরাগী ঠাকুর আর ঠাকুর বৈষ্ণব ।
এ হেন উপাধিতে হইল জনরব ।।
যত কিছু সংসারেতে করিতেন আয় ।
যত্র আয় তত্র ব্যয় বৈষ্ণব সেবায় ।।
গো-সেবা করিত বহু করিয়া যতন ।
দুই তিন গাভী সদা থাকিত দোহন ।।
ঘৃত বানাইত দধি করিয়া মন্থন ।
বৈষ্ণবেরা দধি দুগ্ধ করিত ভোজন ।।
মন্থন সময় হ’লে বৈষ্ণবাগমন ।
বৈষ্ণবের মুখে তুলে দিতেন মাখন ।।
নির্মল দয়ার্দ্র চিত্ত না মেলে এমন ।
একদিন শুন এক আশ্চর্য্য ঘটন ।।
ভাণ্ডপুরে ঘৃত লয়ে সাধু গেল হাটে ।
ঘৃত বেচিলেন এক দ্বিজের নিকটে ।।
ব্রাহ্মণ বলেন সাধু বৈশ হেথাকারে ।
মূল্যসহ ভাণ্ড দিয়া যাব কিছু পরে ।।
ব্রাহ্মণ এল না ফিরে মূল্য নাহি দিল ।
ঘৃতভাণ্ড লয়ে দ্বিজ পালাইয়া গেল ।।
উত্তীর্ণ হইল সন্ধ্যা হাট ভেঙ্গে যায় ।
নির্জ্জনে বসিয়া সাধু কৃষ্ণগুণ গায় ।।
গৃহেতে পশিয়া সাধু মৌন হ’য়ে রয় ।
ঠাকুরাণী বলে হাট বেসাতি কোথায় ।।
কোথায় ঘৃতের ভাণ্ড কিছুই না দেখি ।
কি হয়েছে ওহে নাথ বসিয়া ভাব কি ।।