পাতা:শ্রীশ্রীহরি লীলামৃত.djvu/৮২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


. ব্যাধিযুক্ত হ’য়ে কেন এত কষ্ট পালি ॥ । T এতদিন পরে যদি এলি মম ঠাই । আশা যাওয়া করে প্রভু গোলোকের বাযে । "হরি হরি বল সাধু কহিছে তারক। আদি খণ্ড । দোহাই ওঢ়ার্কাদির বাবা হরিচাদ । গলা ঝাড়ে ডাক ছাড়ে যেন সিংহনাদ । দণ্ডমাত্র রামকুমারের গলা ঝাড়ি । বলে আমি যাইব না নারিকেলবাড়ী ॥ তোমরা গৃহেতে যাও আমি গৃহে যাই। দেখ গিয়া গোলোকের গলা ফুলা নাই। রামচাদ যাহা যাহা ব’লে দিয়াছিল। বাটীতে আসিয়া সত্য তাঁহাই দেখিল ॥ সেই সব প্রকাশিল বাটীতে আসিয়া । গোলোক উন্মত্ত হ’ল সে কথা শুনিয়া ॥ প্রভুকে দেখিব বলে ওঢ়ার্কাদি যায় । লোটাইয় পড়ে গিয়া ঠাকুরের পায় ॥ প্রভু বলে এত দিন কেন নাহি আলি। যাও বাপ গৃহে যাও আর ভয় নাই। শুনিয়া গোলোক প্রেমে কম্পিত হইলা । অনিমিষ নেত্রে রূপ দেখিতে লাগিল । শঙ্খচক্র গদা পদ্ম চতুর্ভ জধারী। পরিধান পিতাম্বর মুকুন্দ মুরারী ॥ রূপ দেখি ঝোরে আখি ছাড়ে দীর্ঘশ্বাস । বলে আমি আর না করিব গৃহবাস । গোলোক বলেন আমি কা’র বাড়ী যা’ব । চরণে নফর হয়ে পড়িয়া রহিব ৷ প্রভু বলে ঘরে যাও ওরে বাছাধন । -চির দিন মোরে বলে থাকে যেন মন । গোলোক বলেন হরি চিনেছি তোমায় । চির দাস বিক্রীত হইতু তব পায় ॥ প্রভু বলে বিকাইলি পাইলাম তোরে। কর গিয়। গৃহকাৰ্য্য যা’ব তোর ঘরে ॥ গোলোক চলিল ঘরে প্রভুর কথায় ! সময় সময় ওঢ়ার্কাদি আসে যায়। 'মাসান্তর পক্ষান্তর সপ্তাহ অন্তরে . মাঝে মাঝে যাইত প্রভুকে দেখিবারে। দশরথ মহানন্দ মাতিল তাহাতে । গ্রাম্য লোক প্রমত্ত হইল সেই মতে ॥ হরিচাদ গোলোকের ভাব প্রেমবশে । এই ভাবে হরি বোলা হইল গোলোক । বদন-ঠাকুরের উপাখ্যান । , পয়ার । - গোলোক পাগল হ’ল ঠাকুরের ভক্ত । " ভক্তি ভাবে আত্মহারা সদাই উন্মত্ত ॥ গাঢ় অনুরাগ অষ্ট সাত্ত্বিক বিকার । নাহি মানে বেদবিধি বীর অবতার ॥ বীরেতে বীরত্ব যেন তুল্য হনুমান । ধীর রসে ঐ অদ্বৈত শক্তি অধিষ্ঠান ॥ উন্মত্ত স্বভাব সদা নাহি ছুটে কতু । শয়নে স্বপনে ভাবে হরিচাদ বিভু ॥ অনুক্ষণ আসে প্রভু গোলোকের ঠাই। ক্রমে প্রেমে ভাবাবিষ্ট বদন গোলাই ৷ গোলোকের খুল্লতাত ঠাকুর বদন।। সেই যে বদন হরেকৃষ্ণের নন্দন ॥ । হইল অসাধ্য ব্যাধি উদরে বেদন । অহরহ বেদনায় বিষম যাতন ॥ আয়ুৰ্ব্বেদ নিদান মতের চিকিৎসক । খণ্ডজ্ঞানী মুষ্টিযোগ মুমন্ত্র পারক। অনেকে দেখিল রোগ আরোগ্য না হয়। অবশেষে দেখিলেন এক মহাশয় ॥ . তিনি এসে বুলিলেন বেদন সারিব। উদরেতে ফোটা দিয়া ঘা বানা’য়ে দিব ॥ গছড়ার রসদ্বারা দিল ষোল কোট । চৰ্ম্মে ঠোস পড়ে শেষে ঘ হ’ল ষোলট। ৷ মাসেক পর্যন্ত সেই করে মুষ্টিযোগ । - নিদারুণ জ্বালা হ’ল নাহি সারে রোগ ॥ একে ত ঘায়ের ব্যথ ব্যৰ্থ। পুরাতন । উভয় ব্যথার জ্বালা নাহি নিবারণ ॥ ক্রমে বৃদ্ধি বেদনাতে অস্থিচৰ্ম্মসার । অদ্য কিম্বা কল্য মৃত্যু এরূপ আকার ॥ কেহ বলে চিকিৎসায় নাহি প্রয়োজন।. . কেহ বলে বৈদ্য নাথ প্রতি দেহ মন ॥ কেহ বলে আর কিছু নাহি হরি বল। কেহ বলে বাচ যদি ওঢ়ার্কাদি চল ॥ জগত জীবন তিনি জগতের কৰ্ত্ত । মরিলে বাচা’তে পারে সবে কহে বাৰ্ত্ত। আত্ম স্বার্থ সমর্পণ করহ তাহয়। চল যাই ওঢ়াক ঠাকুর কি কয়। g y