পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৭০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঠুকণ্ঠক করে পথে পথে ঘুরতে মনে আরাম পাই। দুঃখের ভার তাতে খানিক হালকা হয় । পৃথিবীর অন্য কোনো মানুষের হয়। কিনা জানি না, এ রকম টানা রিকশায় পথে পথে উদ্দেশ্যহীন ঘুরে বেড়ানাের একটা কিন্তু নেশা আছে, খানিকটা পালিয়ে বাঁচার স্বস্তি মেলে তাতে । খানিক দূর আসার পর নদীর কাপড়েব দোকানের সামনে রসিদকে দাঁড় করিয়ে নেমে পড়লাম । বললাম, দাঁড়াও আসছি, বলে দোকানে ঢুকে স্বল্প সময়ের পছন্দে দামী সায়া ব্লাউজ কিনলাম । কিনতে ভালো লাগল, তাই কিনিলাম । না। কিনলেও কোনো ক্ষতি ছিল না । আবার উঠলাম। রিকশায় । বললাম, চলো ! --কোথায় যাব ? তাহ বাজার ? --যেদিকে খুশি । চল তো ! রাসিদ। বেঁটেখাটাে মানুষ। ডান পা ঘায়ে পুঁজে বিষাক্ত, পঙ্গু, ওতেই নোচে নেচে রিকশা টানে। দেখলেই মনে হয়, হাঁপাচ্ছে, ধুকছে। রসিদ ঘন্টি বাজিয়ে দিয়ে চলতে লাগিল । প্ৰায় একঘণ্টা চলার পর শহরের দক্ষিণপ্ৰান্তে কলেজ পাড়ার প্রাচীন রেস্তোরী অনিন্দিতায় এসে থামল রসিদ । বললাম, স্ট্যাণ্ডে গিয়ে চা খাও । এই নাও, টাকা নাও । খদের পেলে চলে যেও । ঘণ্টা দেড় ঘণ্টা পর একবার পারো যদি আসবে । এখানেই থাকিব । অনিন্দিতায় চায়ের দর একটু বেশি । নানা রকম টেস্ট, সিঙাড়া, চপ, রোল খেতে পারি। রসিদ সস্তা দোকানে চা খেয়ে নেবে। আমি দোকানে ঢুকলাম, হাতে কাপড়ের বড় প্যাকেট, “নন্দী বস্ত্ৰালয় সাথে রইল। এখন দুপুর একটা । কেবিনে ঢুকেই চমকে গেলাম । আজ ৫/৭ বছর বাদে দেখলাম। ওকে । চিনতে একটু কষ্ট হয়েছিল। চোখে চশমা আগে ছিল না । মাথায় এত চুলও ছিল না । কবি কবি দেখাচ্ছে ওকে । ভারিকি মাংসল হয়েছে আদিল । বয়সেরও ছাপ পড়েছে সামান্য । সামনাসামনি বসলাম । হাতে হীরের আংটি মনে হলো । ঘড়িটা চকচক করছে সোনালী আভায় । বসতেই চােখ তুলে তুলে নরম করে দেখল আমাকে । চোখের ইশারা করে শুধালো, ভালো তো ? এ রকম করে অপরিচিত, ঘনিষ্ঠ কেউ ঢের দিন বাদে ইশারায় দূরত্বে রেখে কুশল শুধালে বন্ধুকে অহংকারী এবং নিজেকে তুচ্ছ মনে হয়, আঘাত লাগে । তবুও বসলাম । বন্ধু এবার দোকানের ছেলেগুলোকে ডাক দিয়ে কি সব মূল্যবান খাবারের নাম করলে 1 ছেলেটা প্লেট সাজিয়ে ফিরিবে এখনই । চন্দন সোম শুধালো, এই কলেজে চান্স পেয়ে গেলে, শুনেছি। কোথায় আছ ? খুঁজছি। S.