বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:হুতোম প্যাঁচার নক্সা-দ্বিতীয় ভাগ.pdf/৩৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
রামলীলা।
২৯

করে ব্যাড়াচ্চে, রাঁড়, খোট্টা, বাজে লোক ও বেণের দলই বারো আনা। রণক্ষেত্রের চার দিকে ব্যেড়ার ধারে চার পাঁচ থাক্ গাড়ির সার, কোন গাড়ির ওপোর অ্যাক‍্জন শৌখিন ইয়ার দুচার দোস্ত ও দুই একটি মেয়েমানুষ নিয়ে মজা কচ্চেন। কোন খানির ভেতোরে চিনে কোট ও চুলের চ্যেনওলা চার জোন ইয়ার ও একটী মেয়ে মানুষ, কোন খানিতে গুটি কত পিল ইয়ার টেক্কা জ্যাঠা ইস্কুলের বই বেচে পয়সা সংগ্রহ করে গোলাবি খিলি ও চরসে মজা লুটচে। কতকগুলি গাড়ি নিছক্ খোট্টা মারওয়ারী ও মেড়ুয়াবাদী, কতকগুলি খোসপোশাকি বাবুতে পূর্ণ।

 আমাদের হজুর এই সকল দেখ‍্তে দেখ‍্তে থম্নুমল বাবু হাত ধরে ক্রমে রণক্ষেত্রের দরজায় এসে পৌঁছিলেন—সেথায় বেজায় ভীড়। দশ বারোজন চৌকীদার অনবরত সপাস‍্প্ করে বেত মাচ্চে, দু জন সার্জ্জন সবলে ঠেলে রয়েছে তথাপি রাখ্তে পাচ্চে না থেকে থেকে “রাজা রামচন্দ্রঙ্গীকা জয়”! বলে খোট্টারাও রণক্ষেত্রের মধ্যহতে বানরেরা চেঁচিয়ে উঠচে। সকলেরি ইচ্ছা, রামচন্দ্রের মনোহর রূপ দেখে চরিতার্থ হবে, কিন্তু কার্ সাধ্য সহজে রামচন্দ্রের সমীপস্থ হয়।

 হুজুর অনেক কষ্টেসৃষ্টে ব্যাড়ার দ্বার পার হয়ে রণক্ষেত্রে প্রবেশ করে বানরেব দলে মিস‍্লেন। রণক্ষেত্রের অন্য দিকে লঙ্কা। মনে করুন সেথায় সাজা রাক্ষসেরা ঘুরে ব্যাড়াচ্চে ও বেড়ার নিকটস্থ মালভরা গাড়ির দিকে মূকন্যেড়ে হিঁ হিঁ করে ভয় দেখাচ্চে। সাজা বানরেরা লাফাচ্চে ও গাছ পাতরের বদলে ছেঁড়া কুঁপো ও পাঁকাটি নিয়ে ছোড়া ছুড়ি