রাজমালা (ভূপেন্দ্রচন্দ্র চক্রবর্তী)/প্রথম পরিচ্ছেদ/৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন


(৮)

বারঘর ত্রিপুর ও চতুর্দ্দশ দেবতার উদ্বোধন

 রাণী বারটি পুত্র প্রসব করিলেন। প্রথম পুত্র দৃক্‌পতি হেড়ম্বরাজ্যে রহিয়া গেলেন, বাকী একাদশপুত্র ত্রিপুরা রাজ্য আলো করিতে লাগিলেন। ইঁহাদের নাম দাক্ষিণ, দক্ষ, দ্রুমায়ু, দ্রবিণ, দৃষ্টঘ্ন, ভৃগু, দুর্দ্ধর, দ্রুহ, দুষ্মায়ু, দৌবিরি এবং দম্প। ত্রিলোচনের এই বার পুত্রকে বারঘর ত্রিপুর কহে। ইঁহারাই রাজবংশ। দৈবাৎ যদি কোন রাজার পুত্র সন্তান না জন্মে তবে ইঁহাদের মধ্য হইতে রাজা নির্ব্বাচন করিতে হয়। ইঁহাদের শরীরের গঠন ও রূপ চন্দ্রবংশেরই অনুরূপ, ইঁহারা গৌর বর্ণ, উচ্চতা শোভন মত, উন্নত নাসিকা, কর্ণ পরিমিত, সিংহস্কন্ধ, বিশাল বক্ষ ও ক্ষীণোদর। ইঁহারা তেজোময়, শুদ্ধ শান্ত, দেব দ্বিজে ভক্তিমান, হরিহর দুর্গাভক্ত।

 ত্রিলোচনের রাজত্বের উল্লেখযোগ্য ঘটনা চতুর্দ্দশ দেবতার পূজক সমুদ্রতীর হইতে আনয়ন। শিবের আজ্ঞামত দ্বীপ হইতে পূজক আনা হয়। ইঁহারা চন্তাই দেওড়াই নামে প্রসিদ্ধ। প্রথমে ইঁহারা আসিতে চান নাই, পরে যখন শুনিলেন ত্রিপুর শিব কর্ত্তৃক নিহত হইয়াছে এবং শিবপুত্র ত্রিলোচন রাজ্যেশ্বর তখন ইঁহারা আসিলেন। শুভদিনে রাজধানীতে ইঁহাদের প্রধান চন্তাই আসিলেন, মহারাজ চতুর্দ্দশ দেবতার পূজার ভার ইঁহার হস্তে ন্যস্ত করিলেন। সেইদিন হইতে আজ পর্য্যন্ত এ ভাবেই পূজা হইয়া আসিতেছে। আষাঢ় মাসের শুক্লা অষ্টমী তিথিতে পূজার উদ্বোধন হয়। পূজায় চতুর্দ্দশ দেবতা প্রকট হন।