বিষয়বস্তুতে চলুন

উইকিসংকলন:লিপিশালা

আলোচনা যোগ করুন
উইকিসংকলন থেকে
(উইকিসংকলন:প্রশাসকদের আলোচনাসভা থেকে পুনর্নির্দেশিত)
সাম্প্রতিক মন্তব্য: Hrishikes কর্তৃক ৪ দিন আগে "২০০০-পূর্ব বাংলাদেশি কর্মের কপিরাইট মেয়াদ" অনুচ্ছেদে

লিপিশালা উইকিসংকলন সম্প্রদায় আলোচনা পৃষ্ঠা। যে কোন প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা মন্তব্য করুন মুক্ত মনে। আপনি যেকোন বর্তমান আলোচনায় মন্তব্য করতে পারেন অথবা একটি নতুন শুরু করতে পারেন। এছাড়া এটি উইকিসংকলনের প্রশাসন সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার জন্য নিবেদিত পাতা। এখানে প্রশাসন সংক্রান্ত বিষয়ে যেকোনো প্রসঙ্গ তুলে ধরতে পারেন। উইকিসংকলনের যেকোন সদস্য প্রশাসন সংক্রান্ত বিষয়ে এখানে মন্তব্য রাখতে পারেন।

সার্বজনীন আচরণবিধি ও প্রয়োগ নির্দেশিকার বার্ষিক পর্যালোচনা

[সম্পাদনা]

আপনাকে জানানো হচ্ছে যে, সার্বজনীন আচরণবিধি ও প্রয়োগ নির্দেশিকার বার্ষিক পর্যালোচনার সময়কাল শুরু হয়েছে। আপনি ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত যেকোন পরিবর্তনের প্রস্তাব দিতে পারেন। বার্ষিক পর্যালোচনার নির্ধারিত ধাপগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম। আরও বিস্তারিত জানতে এবং মেটা-উইকির UCoC পাতায় চলমান আলোচনায় অংশ গ্রহণ করতে এখানে ক্লিক করুন

সার্বজনীন আচরণবিধি সমন্বয় কমিটি (ইউ৪সি) একটি বৈশ্বিক দল, যা সার্বজনীন আচরণবিধির ন্যায্য ও ধারাবাহিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে কাজ করে। এই বার্ষিক পর্যালোচনাটি ইউ৪সি কর্তৃক পরিকল্পিত ও বাস্তবায়িত হচ্ছে। ইউ৪সি এবং এর দায়িত্বসমূহ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে, আপনি ইউ৪সি সনদ দেখতে পারেন

দয়া করে এই তথ্যটি আপনার সম্প্রদায়ের অন্যান্য সদস্যদের সাথে এবং অন্য যে কোনও উপযুক্ত স্থানে শেয়ার করুন।

-- ইউ৪সি-এর সহযোগিতায়, কিগান (WMF) (আলাপ)

২১:০২, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি)

(এই বার্তাটি উইকিসংকলন:প্রশাসকদের আলোচনাসভা পাতায় পাঠানো হয়েছিল ও একটি পুনর্নির্দেশের কারণে এখানে পোস্ট করা হচ্ছে।)

PageImages এক্সটেনশন যোগ

[সম্পাদনা]

সুধী, উইকিসংকলনে PageImages এক্সটেনশন যোগ করার জন্য সম্প্রদায়ের মতামত ও সমর্থন চাওয়া হচ্ছে। এই এক্সটেনশন যোগ করলে উইকিসংকলনের পাতায় যুক্ত ছবির থাম্বনেল তৈরি করে বাইরের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে তা প্রদর্শিত হবে। উল্লেখ্য সকল উইকিপিডিয়া প্রকল্পে এই এক্সটেনশন ইতিমধ্যে অনেকদিন ধরেই যুক্ত। -- বোধিসত্ত্ব (আলাপ) ১৫:০৩, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি)উত্তর দিন

সমর্থন সমর্থন -- হৃষীকেশ (আলাপ) ১৫:২০, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি)উত্তর দিন
সমর্থন সমর্থন - বোধিসত্ত্ব (আলাপ) ১৫:৫৫, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি)উত্তর দিন
সমর্থন সমর্থন জয়শ্রীরাম সরকার (আলাপ) ১৬:৫১, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি)উত্তর দিন
সমর্থন সমর্থন Nettime Sujata (আলাপ) ১১:১৪, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি)উত্তর দিন
সমর্থন সমর্থন মাহির২৫৬ (আলাপ) ১৪:৫৩, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি)উত্তর দিন
সমর্থন সমর্থনতারুণ্য আলাপ১৫:০৬, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (ইউটিসি)উত্তর দিন
সমর্থন সমর্থন Tausheef Hassan (আলাপ) ১৫:৩৭, ১৭ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি)উত্তর দিন

২০০০-পূর্ব বাংলাদেশি কর্মের কপিরাইট মেয়াদ

[সম্পাদনা]

সুধী,

আশা করি আপনারা সকলেই ভালো আছেন। বাংলাদেশে (ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে) প্রকাশিত কর্ম এবং বাংলাদেশি (ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানি) লেখকদের কপিরাইট মেয়াদ সম্পর্কিত একটি প্রস্তাবনা আমরা উত্থাপন করছি।

প্রস্তাবনা: বাংলাদেশি/পূর্ব পাকিস্তানি নাগরিকের বা বাংলাদেশে/পূর্ব পাকিস্তানে প্রকাশিত কর্মের ক্ষেত্রে

  1. ২০০০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে প্রকাশিত সাহিত্যিক কর্মের ক্ষেত্রে কপিরাইট মেয়াদ: লেখকের মৃত্যু + ৫০ বছর;
  2. ২০০০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে প্রকাশিত সরকারি কর্মের ক্ষেত্রে: প্রকাশ + ৫০ বছর;
  3. ২০০০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে প্রকাশিত ছবি কর্মের ক্ষেত্রে: প্রকাশ + ৫০ বছর;
  4. এবং ২০০০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে প্রকাশিত কর্মের ক্ষেত্রে কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২-এর অধ্যায় ৩ কর্তৃক প্রণীত অন্যান্য মেয়াদ সমূহ

এই প্রস্তাবনা লিখিতভাবে উপস্থাপনে সার্বিক সহায়তার জন্য MS Sakibকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ।

আইনি বিশ্লেষণ ও যৌক্তিকতা

[সম্পাদনা]

বর্তমান বাংলাদেশি ভূখণ্ডে কপিরাইট আইনসমূহের ক্রম নিচে উল্লেখ করা হলো:

আইন সময়কাল সাধারণ মেয়াদ
ভারতীয় কপিরাইট আইন ১৯১৪ ১৯১৪ - ১৯৬২ ৫০ বছর
কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২
(১৯৭৮ সাল পর্যন্ত সংশোধিত)
১৯৬২ - ২০০০ ৫০ বছর
কপিরাইট আইন, ২০০০
(২০০৫ সাল পর্যন্ত সংশোধিত)
২০০০ - ২০২৩ ৬০ বছর
কপিরাইট আইন, ২০২৩ ২০২৩ - বর্তমান ৬০ বছর
যেকোনো আইন রহিতকরণের ক্ষেত্রে:
দ্য জেনেরাল ক্লজেজ অ্যাক্ট, ১৮৯৬
(২০১৮ সাল পর্যন্ত সংশোধিত)

অর্থাৎ ২০০০ সালের আইনে কপিরাইটের সাধারণ মেয়াদ প্রথমবারের মতো ৫০ বছর থেকে বৃদ্ধি করে ৬০ বছরে উন্নীত করা হয় এবং ২০২৩ সালের আইনেও তা চলমান থাকে। 

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগতে পারে যে, ২০০০ সালের পূর্বে প্রকাশিত যে কর্মগুলোর কপিরাইট মেয়াদ তখনো শেষ হয়নি (যেমন, ১৯৯০ সালের একটি প্রকাশনা), সেগুলো কি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই বর্ধিত ৬০ বছরের মেয়াদের আওতায় চলে আসবে? শুরুতে মনে হতে পারে, যেহেতু নতুন আইনে সাধারণ মেয়াদ ৬০ বছর, তাই পুরনো সব বিদ্যমান কর্মও হয়তো এই সুবিধা পাবে। কিন্তু আইনের আক্ষরিক ব্যাখ্যা অনুসরণ করলে আমরা বিপরীত চিত্র দেখতে পাওয়া যায়। 

দ্য জেনেরাল ক্লজেজ অ্যাক্ট, ১৮৯৬ ও সাধারণ আইনি কর্যধারা অনুযায়ী, কোনো আইনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলে নতুন কোনো বিধান ভূতাপেক্ষভাবে (Retroactively) পেছনের কর্মের ওপর কার্যকর হয় না। ২০০০ সালের আইনের কোথাও স্পষ্টভাবে বলা নেই যে, পূর্বের কর্মগুলোর মেয়াদও ভূতাপেক্ষভাবে বৃদ্ধি পাবে। বরং এই আইনের ১০৫ নং ধারা অনুযায়ী ১৮ জুলাই, ২০০০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে যেকোনো কর্মের মেয়াদ বর্ধিত করা হয়নি। 

আইন দেখুন
ধারা ১০৪
ইংরেজীতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ
কপিরাইট আইন, ২০০০

১০৪। এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজীতে অনূদিত একটি পাঠ প্রকাশ করিবে যাহা এই আইনের অনূদিত ইংরেজী পাঠ (Authentic English Text) নামে অভিহিত হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, এই আইন ও উক্ত ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে এই আইন প্রাধান্য পাইবে।

উল্লেখ্য, ধারা ১০৪ অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার একটি নির্ভরযোগ্য অনূদিত পাঠ প্রদান করেছে। ইংরেজি ও বাংলা পাঠের সাথে সংঘর্ষ হলে, বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাবে। সেক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত বাংলা পাঠ হতে আসতে হবে। তবে ইংরেজি পাঠ সংযুক্ত রাখা হয়েছে বোঝার সুবিধার্থে এবং আইনের ইন্টেন্ট বা উদ্দেশ্য পরিষ্কার করার জন্য।

ধারা ১০৫
রহিতকরণ, হেফাজত এবং ক্রান্তিকালীন বিধান
কপিরাইট আইন, ২০০০

১০৫। (১) The Copyright Ordinance, 1962 (Ordinance no XXXIV of 1962) এতদ্বারা রহিত করা হইল।

(২) যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি এই আইন কার্যকর হওয়ার পূর্বে এমন কোন কাজ করিয়া থাকেন যা দ্বারা তিনি সংশ্লিষ্ট সময়ে আইন মোতাবেক কোন কর্মের পুনরুৎপাদন বা সম্পাদনের জন্য অথবা এই আইন কার্যকর না হইলে ঐরূপ পুনরুৎপাদন বা সম্পাদন বৈধ হইত এমন কোন কর্মের পুনরুৎপাদন বা সম্পাদনের জন্য কোন প্রকার ব্যয় বা দায় এর জন্য দায়ী হন, সেক্ষেত্রে এই ধারার কোন কিছুই ঐরূপ কাজ হইতে বা তৎসূত্রে উদ্ভূত কোন অধিকার বা স্বার্থ খর্ব বা ক্ষুণ্ণ করিবে না, যদি না এই আইনবলে পুনরুৎপাদন বা সম্পাদন করিবার অধিকারী ব্যক্তি চুক্তিভঙ্গের দরুণ বোর্ড যেরূপ নির্ধারণ করে ঐরূপ ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে সম্মত না হন।

(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিত আইনের অধীন কোন কর্মের কপিরাইট ছিল না এমন কোন কর্মের ক্ষেত্রে এই আইনের অধীন কপিরাইট থাকিবে না।   (৪) এই আইন কার্যকর হওয়ার অব্যবহিত পূর্বে যেক্ষেত্রে কোন কর্মের কপিরাইট বিদ্যমান ছিল ঐরূপ কপিরাইটের অন্তর্ভুক্ত অধিকার, এই আইন কার্যকর হওয়ার তারিখ হইতে, কর্মটি যে শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত ঐ শ্রেণী সম্বন্ধে ধারা ১৪-এ উলি্লখিত অধিকার হইবে এবং যদি উক্ত ধারা দ্বারা কোন নতুন অধিকার প্রদত্ত হয়, তাহা হইলে উক্ত অধিকারের মালিক-

(ক) এই আইন কার্যকর হওয়ার পূর্বে কর্মটির কপিরাইটের সম্পূর্ণ স্বত্ব-নিয়োগ হইয়া থাকিলে, উক্ত নিয়োগপ্রাপ্ত স্বত্বাধিকারী স্বার্থের উত্তরাধিকারী হইবেন।
(খ) অন্যান্য ক্ষেত্রে, ঐ ব্যক্তি হইবেন যিনি উপ-ধারা (১) এর অধীন বাতিলকৃত আইনে কর্মটির কপিরাইটের প্রথম স্বত্বাধিকারী ছিলেন।

  (৫) এই আইনে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে, কোন ব্যক্তি এই আইন কার্যকর হওয়ার অব্যবহিত পূর্বে কোন কর্মের কপিরাইট অথবা কোন অধিকার বা অধিকারের অন্তর্গত কোন স্বার্থের অধিকারী থাকিলে, তাহার ক্ষেত্রে এই আইন কার্যকর না হইলে যে সময়ের জন্য তিনি ঐরূপ অধিকার বা স্বার্থের অধিকারী হইতেন তাহা অব্যাহত থাকিবে।  
(৬) এই আইনের কোন কিছুই উহা কার্যকর হওয়ার পূর্বে কৃত কোন কাজ কপিরাইট লঙ্ঘনজনিত কাজ হিসাবে ব্যাখ্যায়িত হিসাবে গণ্য হইবে না, যদি ঐ কাজ অন্যভাবে ঐরূপ অধিকারলঙ্ঘন গঠন না করিয়া থাকে।  
(৭) এই ধারায় ভিন্নরূপ কিছু না থাকিলে, রহিতকরণের ফলাফলের বিষয়ে ১৮৯৭ সনের জেনারেল ক্লজেস এ্যাক্ট (১৮৯৭ সনের ১০নং আইন) প্রযোজ্য হইবে।

Section 105
Repeals, savings and transitional provisions
Authentic English Text of Copyright Act, 2000

105. (1) The Copyright Ordinance, 1962, (Ordinance no XXXIV of 1962) is hereby repealed.

(2) Where any person has, before the commencement of this Act, taken any action whereby he has incurred any expenditure or liabilities in connection with the reproduction or performance of any work in a manner which at that time was lawful or for the purpose of or with a view to the reproduction or performance of a work at a time when such reproduction or performance would, but for the coming into force of this Act, have been lawful, nothing in this section shall diminish or prejudice any rights or interests arising from or in connection with such action which are subsisting and valuable at the said date, unless the person who, by virtue of this Act, becomes entitled to restrain such reproduction or performance agrees to pay such compensation as, failing agreement, may be determined by the Board.

(3) Copyright shall not subsist by virtue of this Act in any work in which copyright did not subsist immediately before the commencement of this Act under any Act or Ordinance repealed by sub-section (1). 

(4) Where copyright subsisted in any work immediately before the commencement of this Act, the rights comprising such copyright shall, as from the date of such commencement, be the rights specified in section 14 in relation to the class of works to which such work belongs, and where any new rights are conferred by that section, the owner of such rights shall be⎯

(a) in any case where copyright in the work was wholly assigned before the commencement of this Act, the appointed assignee; and
(b) in any other case, the person who was the first owner of the copyright in the work under any Act or Ordinance repealed by sub-section (1) or his legal representatives.

(5) Except as otherwise provided in this Act, where any person was entitled immediately before the commencement of this Act to copyright in any work or any right in such copyright or to an interest in any such right, he shall continue to be entitled to such right or interest for the period for which he would have been entitled thereto, if this Act had not come into force.

(6) Nothing contained in this Act shall be deemed to render any act done before its commencement an infringement of copyright if that act would not otherwise have constituted such an infringement.

(7) If there is nothing otherwise provided by this section, the General Clauses Act, 1897 (Act X of 1897) shall apply with respect to the effect of repeals.

উপরের ধারা ১০৫(৫) অনুসারে সিদ্ধান্তে আসা যায়, নতুন আইন প্রবর্তনের পূর্বে যে কর্মগুলোর কপিরাইট বহাল ছিল, সেগুলোর মেয়াদকাল নির্ধারণের ক্ষেত্রে ধরে নিতে হবে যেন ২০০০ সালের আইনটি পাসই হয়নি। অর্থাৎ, পুরোনো কর্মগুলোর ক্ষেত্রে ১৯৬২ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী পূর্বনির্ধারিত ৫০ বছরের মেয়াদই বলবৎ থাকবে।

ধারা ১০৫(৫) এর একটি ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:

বিষয় বাংলা ইংরেজি ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব এই আইনে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে Except as otherwise provided in this Act সাধারণ হেফাজত। আইনে ভিন্ন কিছু উল্লেখ নেই।
কে? কোন ব্যক্তি where any person বাংলাদেশি কর্মের প্রণেতা
কখনকার কর্ম? এই আইন কার্যকর হওয়ার অব্যবহিত পূর্বে was entitled immediately before the commencement of this Act ১৮ জুলাই, ২০০০ এর পূর্বে
কী? কোন কর্মের কপিরাইট অথবা কোন অধিকার বা অধিকারের অন্তর্গত কোন স্বার্থের অধিকারী থাকিলে to copyright in any work or any right in such copyright or to an interest in any such right কপিরাইট সুরক্ষা
সময়কাল তাহার ক্ষেত্রে এই আইন কার্যকর না হইলে যে সময়ের জন্য তিনি ঐরূপ অধিকার বা স্বার্থের অধিকারী হইতেন such right or interest for the period for which he would have been entitled thereto, if this Act had not come into force. ২০০০ এর আইন না থাকলে ৫০ বছর মেয়াদি সুরক্ষা থাকতো।
ক্রিয়া তাহা অব্যাহত থাকিবে he shall continue to be entitled to ৫০ বছর সুরক্ষা পাবে


১. দ্বন্দ্ব: "এই আইনে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে" - এই বাক্যাংশটি "দ্বন্দ্ব নিরোধ" হিসেবে পরিচিত। বাক্যাংশটি মূলত একই বা ভিন্ন আইনের সাথে দ্বন্দ্ব রোধে ঢালাওভাবে ব্যবহৃত হয়। ধারা ১০৫(৫) চাচ্ছে পূর্বের প্রদত্ত আইনি সুরক্ষার মেয়াদ অব্যাহত রাখতে। এই মেয়াদের অব্যাহতি ঢালাওভাবে সকল বাংলাদেশি কর্মের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু এই ঢালাওভাবে প্রয়োগ সহজেই অপ্রত্যাশিত দ্বন্দ্ব তৈরি করতে পারে। এই দ্বন্দ্ব বর্তমানে প্রতীয়মান না হলেও, ভবিষ্যতে কোনো মামলায় আবিষ্কৃত হতে পারে। ফলে আপাত দৃষ্টিতে দ্বন্দ্ব না থাকলেও, সুরক্ষার খাতিরে এই দ্বন্দ্ব নিরোধ অংশ যুক্ত করেন আইন প্রণেতারা।

এখন প্রশ্ন হতে পারে দ্বন্দ্ব আছে নাকি নেই? এই উপধারার সাথে কী প্রকারের দ্বন্দ্ব হওয়ার সুযোগ আছে? উদাহরণ স্বরূপ ধরি, ৬২-এর আইনে লোকসংস্কৃতির মেয়াদ ছিল ২৫ বছর কিন্তু নতুন আইন সেটাকে অসীম সুরক্ষা দিয়েছে। যেহেতু লোক সংস্কৃতির প্রকাশকাল নেই বা থাকলেও সেটি ২০০০ সালের পরে প্রকাশিত হলে সেটি আর লোকসংস্কৃতি বলে বিবেচিত হবে না। তাহলে এখানে দ্বন্দ্ব প্রতীয়মান হওয়ার সুযোগ আছে। পুরাতন আইনের অধীনে থাকলে, আইনের ইচ্ছা অনুযায়ী এরা অসীম সুরক্ষা পাবে না। তাই এক্ষেত্রে আইনের মূল অংশ প্রাধান্য পাবে। উল্লেখ্য এটি একটু উদাহরণ মাত্র এবং বাস্তবতার সাথে মিল নেই।

আমাদের আলোচ্য বিষয় হলো সাধারণ সাহিত্যকর্ম, ছবি, সরকারি কর্ম ইত্যাদি। এই বিষয়সমূহে এরূপ কোনো দ্বন্দ্ব নেই আইনে।

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, আইনে তো নতুন ৬০ বছর মেয়াদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই ধারা চাচ্ছে আগের মেয়াদ অব্যাহত রাখতে, তাহলে এটা কি দ্বন্দ্ব?

আইনি ব্যাখ্যার সুপ্রতিষ্ঠিত 'অপ্রয়োজনীয়তার বিরুদ্ধে নীতি' (Rule Against Redundancy) অনুযায়ী এই ধারণাটি পুরোপুরি যৌক্তিক নয়। আইনে কখনোই কোনো অর্থহীন বা অপ্রয়োজনীয় ধারা যুক্ত করা হয় না। যদি ২৪ থেকে ৩৩ ধারার সাধারণ ৬০ বছরের নিয়মটিকেই ১০৫(৫) ধারায় উল্লেখকৃত 'ভিন্নরূপ বিধান' হিসেবে ধরে নেওয়া হয়, তবে ১০৫(৫) ধারাটির কোনো প্রয়োগই অবশিষ্ট থাকে না। আইনশাস্ত্রে একটি প্রতিষ্ঠিত নীতি হলো, 'বিশেষ বিধান সাধারণ বিধানের ওপর প্রাধান্য পায়' (Lex specialis derogat legi generali)। আইনের ২৪ থেকে ৩৩ ধারা হলো কপিরাইট মেয়াদের একটি General Provision, যা আইন পাসের পর থেকে নতুন কর্মের জন্য প্রযোজ্য। অন্যদিকে ১০৫(৫) ধারা হলো পুরোনো কর্মের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট বিশেষ বিধান।

প্রকৃতপক্ষে এখানে "ভিন্নরূপ বিধান" বলতে বোঝানো হয়েছে: যদি আইনের অন্য কোথাও স্পষ্টভাবে লেখা থাকত যে "পুরোনো 'কোনও' কর্মের মেয়াদও ভূতাপেক্ষভাবে বৃদ্ধি পাবে", কেবল তখনই সেটি কার্যকর হতো।

২. কে?: "কোন ব্যক্তি" - বাংলাদেশি কর্মের প্রণেতাকে বুঝানো হয়েছে। কপিরাইট আইন, ২০০০ এর ২(২৭) ধারা অনুযায়ী:

(২৭) "বাংলাদেশী কর্ম" অর্থ এমন সাহিত্য, নাট্য, সংগীত বা শিল্প কর্ম-

(ক) যাহার প্রণেতা বাংলাদেশের নাগরিক; বা

(খ) যাহা প্রথম বাংলাদেশে প্রকাশিত হইয়াছে; বা

(গ) অপ্রকাশিত কর্মের ক্ষেত্রে, যাহার প্রণেতা উহা তৈরীর সময় বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন;

৩. কখনকার কর্ম?: "এই আইন কার্যকর হওয়ার অব্যবহিত পূর্বে" - কপিরাইট আইন, ২০০০ কার্যকর হয়েছে ১৮ জুলাই, ২০০০ খ্রিস্টাব্দে। অর্থাৎ উক্ত তারিখের পূর্বে প্রকাশিত যেকোনো কর্মের ক্ষেত্রে এই ধারা প্রযোজ্য।

৪. কী?: "কোন কর্মের কপিরাইট অথবা কোন অধিকার বা অধিকারের অন্তর্গত কোন স্বার্থের অধিকারী থাকিলে" - সাধারণ কপিরাইট সুরক্ষা।

৫. সময়কাল: "তাহার ক্ষেত্রে এই আইন কার্যকর না হইলে যে সময়ের জন্য তিনি ঐরূপ অধিকার বা স্বার্থের অধিকারী হইতেন" / "such right or interest for the period for which he would have been entitled thereto, if this Act had not come into force." -

এই অংশে বলা আছে যে, এই আইন কার্যকর না হইলে কিন্তু আইন যেহেতু কার্যকর হয়েছে, এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে যে, তাই এই অংশ প্রযোজ্য নয়। এখানে আমাদের পূর্ববর্তী 'অপ্রয়োজনীয়তার বিরুদ্ধে নীতি' যুক্তি প্রযোজ্য। আর এই বাক্যাংশটি শর্তমূলক (conditional clause) নয়। এখানে "এই আইন কার্যকর না হইলে" ("if this Act had not come into force") একটি counterfactual / irrealis / hypothetical / unreal conditional clause.

আরও নির্দিষ্টভাবে, এটি হলো:

  • একটি শর্তবাচক উপবাক্য
  • যা past perfect রূপে আছে
  • এবং একটি অবাস্তব অতীত শর্ত প্রকাশ করছে
  • ব্যাকরণ আলোচনায় একে প্রায়ই প্রতিবাস্তব (counterfactual), অবাস্তব (irrealis), বা কাল্পনিক (hypothetical) বলা হয়

এতে এই অর্থ নেই যে আইনটি সত্যিই কার্যকর হয়নি। এর অর্থ হলো যে এই অধিকার বা স্বার্থ নির্ধারণের উদ্দেশ্যে এমন একটি অবস্থা কল্পনা করতে হবে, যেখানে এই আইন কখনোই কার্যকর হয়নি; এবং সেই অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কত সময়ের জন্য ওই অধিকার বা স্বার্থের অধিকারী হতেন, তা নির্ধারণ করতে হবে।

অতএব বাক্যটি একটি আইনগত-কাল্পনিক তুলনা ব্যবহার করছে:

বাস্তব অবস্থা: আইনটি কার্যকর আছে।

কল্পিত অবস্থা: আইনটি কার্যকর হয়নি।

তারপর আইনটি জিজ্ঞেস করছে: এই কল্পিত অবস্থায় ব্যক্তি কোন সময়কাল পর্যন্ত অধিকারী হতেন?

এটি আইন প্রণয়নে খুবই সাধারণ একটি কৌশল। এখানে “অসম্ভব” কথাটির অর্থ গোঁজামিল বা অযৌক্তিক নয়; বরং এটি অধিকার নির্ণয়ের জন্য একটি প্রতিবাস্তব মানদণ্ড।

৬. ক্রিয়া: "তাহা অব্যাহত থাকিবে" ("he shall continue to be entitled to"): এখানে "আব্যাহত"কে বাংলাদেশ সরকার ইংরেজিতে continue শব্দ ব্যাবহার করা হয়েছে।

বাংলা একাডেমি আইন, ২০১৩ দ্বারা কার্যরত বাংলা ভাষা বিষয়ক বাংলাদেশি রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলা একাডেমি। বাংলাদেশ সরকার তার নিজের সরকারি কাজে বাংলা ব্যবহারে বাংলা একাডেমির নিয়ম মানতে নির্দেশনা দেয়।[১] তাদের প্রকাশিত আধুনিক বাংলা অভিধান অনুযায়ী নকশা, মডেল ও ডিজাইনের সংজ্ঞা নিচে দেওয়া হলো। উল্লেখ্য, এই সংজ্ঞাসমূহ মানতে আইন বাধ্য (binding) নয়

অব্যাহত /অব্ব্যাহতো/ [স. 7+| 17 + sqrt(27) + 5 ] বিণ, ১ অপ্রতিহত, অবাধ (অব্যাহত গতি)। ২ অব্যর্থ। ৩ অপ্রতিবন্ধ।

অপ্রতিহত অর্থ বাধাহীনভাবে।

অর্থাৎ, এই অংশ দ্বারা বলা হয়েছে। তার আগের মেয়াদ continue করবে। আগে যা ছিল তাই থাকবে। এবং তার মেয়াদে কোনো বাধা থাকবে না। অনেকে প্রায়োগিক অর্থ ভেবে বলতে পারেন যে, এই আইন শুধু চাচ্ছে যে অধিকার খর্বকারী মেয়াদ না কমাতে। কিন্তু অব্যাহত-এর বুৎপত্তিগত এবং সকল সংজ্ঞা অনুযায়ী, মেয়াদে বাধা দেবে না। এটি উভয়দিকে কাজ করে। শুধুমাত্র একদিকে নয়। সংজ্ঞার ক্ষেত্রে প্রয়োগ ভিন্ন মানুষ ভিন্নভাবে নিতে পারে। এজন্য বুৎপত্তিগত ব্যাখ্যা মেনে নেওয়া শ্রেয়। আইনের ইন্টেন্ট বুঝার জন্য ইংরেজি অনুবাদ ব্যাবহার করা যেতে পারে। ইংরেজিতে "continue" শব্দ ব্যাবহার করা হয়েছে। যা বুঝায়, আগে যা ছিল তাই থাকবে। অর্থাৎ আগের ৫০ বছর মেয়াদ বলবৎ থাকবে।

ধারা ১০৫(১): কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২ রহিত করা হয়েছে। এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয়। ধারা ১০৫, আগের আইনের অধীন প্রকাশিত কর্মসমূহ নিজ নতুন আইনের আওতায় আত্তীকরণ করেনি, যেমনটা কপিরাইট আইন, ২০২৩ করেছে। অর্থাৎ, আগের কর্মসমূহের লাইসেন্স বিবেচনা কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২ এর আলোকে করতে হবে।

ধারা ১০৫(২): কোন মামলা বা অপরাধ ২০০০ এর আগে সংঘটিত হলে, তা আগের আইনের অধীনে বিচার হবে।

ধারা ১০৫(৩): কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২ এর অধীন বিবেচিত কপিরাইটহীন অসুরক্ষিত কর্ম নতুন করে সুরক্ষা পাবে না।

ধারা ১০৫(৪): এই ধারায় "অধিকারের পরিধি বা প্রকৃতি" ব্যাখ্যা করা হয়ছে; "মেয়াদ" নয়। ১০৫(৪)-এর আশ্রয় নিয়ে প্রস্তাবের আরেকটা বিরোধিতা করা যেতে পারে যে ধারা ১০৫(৪)-এ বলা হয়েছে, পুরোনো কর্মগুলো নতুন আইনের "ধারা ১৪-এ উল্লিখিত অধিকার" পাবে। ফলে, যেহেতু কর্মটি নতুন আইনের (১৪ ধারার) অধীনে চলে আসছে, তাই এর মেয়াদও নতুন আইনের ৬০ বছর হওয়া উচিত।

উ: আইনের দৃষ্টিতে "অধিকারের পরিধি বা প্রকৃতি" এবং "অধিকারের মেয়াদ" সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি বিষয়। ধারা ১০৫(৪) অত্যন্ত সতর্কতার সাথে শুধুমাত্র "ধারা ১৪"-এর কথা উল্লেখ করেছে, যেখানে কপিরাইটের মেয়াদ নিয়ে একটি শব্দও নেই। ধারা ১৪ কেবল সংজ্ঞায়িত করেছে কপিরাইট বলতে কী কী 'কর্ম' বোঝায় এবং সেসব 'কর্ম'-এর কোন কোন অধিকার একচেটিয়াভাবে পাওয়া যায়। অর্থাৎ, ধারা ১০৫(৪) পুরোনো কর্মগুলোকে কেবল ধারা ১৪-তে থাকা নতুন ধরনের অধিকার ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু সেই অধিকারটি কতদিন বজায় থাকবে, অর্থাৎ সময়কাল বা মেয়াদের বিষয়টি ঠিক তার পরের উপধারা ১০৫(৫)-এ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ১০৫(৫)-এ পরিষ্কার বলা হয়েছে, অধিকার যা-ই হোক না কেন, ব্যক্তি ঠিক সেই "সময়ের জন্য" অধিকার ভোগ করবেন, যা তিনি এই নতুন আইন না এলে পেতেন (অর্থাৎ ৫০ বছর)।

ধারা ১০৫(৫): ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

ধারা ১০৫(৬): ধরুন এক প্রকারের পুনঃব্যবহার অনুমতি ১৯৬২ সালের আইনে দেওয়া হলেও, ২০০০ সালের আইনে দেওয়া হয়নি। তাহলে ২০০০ সালের আগে সেই কর্ম কেউ পুনঃব্যবহার করে থাকলে, সেটি নতুন আইনের আওতায় দণ্ডনীয় নয়।

ধারা ১০৫(৭): দ্য জেনেরাল ক্লজেজ অ্যাক্ট, ১৮৯৬ এর ৬ষ্ঠ ধারা বাংলাদেশের যেকোনো আইনের রহিতকরণের প্রভাব নির্ধারণ করে। কপিরাইট আইন, ২০০০-এর ১০৫(৭)-এ তা উল্লেখ করা আছে। ১০৫(৭)-এ উল্লেখ করা না থাকলেও, এই আইন বলবৎ থাকতো। কপিরাইট বাদেও এই ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশের সকল আইন অ-ভূতাপেক্ষ (Non-retroactive) যদিনা নতুন আইনে আলাদা করে উল্লেখ না থাকে।

দ্য জেনেরাল ক্লজেজ অ্যাক্ট, ১৮৯৬ এর ৬(গ) ধারা অনুযায়ী, নতুন আইনে অন্যথায় উল্লেখ না থাকলে, নতুন আইন নাগরিকের পূর্ব আইনের আওতায় প্রাপ্ত রাইট (অধিকার)কে প্রভাবিত করবে না। কপিরাইট এর নামানুসারেই একপ্রকারের রাইট বা অধিকার। কপিরাইট আইন, ২০০০ এর ধারা ১০৫ এই অংশের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। affect অর্থ প্রভাবিত করা। সেটা অধিকার বৃদ্ধি বা হ্রাস উভয় ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ১৯৬৩ সালের প্রকাশিত কোনো প্রকাশনার ক্ষেত্রে, কর্মের স্রষ্টা ৫০ বছরের অধিকার পেয়েছিলেন তার কর্মের উপর। আমি জনগণ, ৫০ বছর পর এটি মুক্তভাবে ব্যাবহারের অধিকার পেয়েছিলাম। নতুন আইন যেহেতু পূর্বের কর্মের ব্যাপারে কিছু বলেনি; শুধু নতুন কর্মের জন্য নতুন বর্ধিত অধিকার দিয়েছে। তাই এই আইন অনুযায়ী নতুন আইন আমার পূর্বে প্রাপ্ত অধিকারকে প্রভাবিত করবে না। সেটা যেকারো লাভ বা ক্ষতি যেজন্যই হোক না কেনো। ২০০০ এর আইনের ১০৫(৫)-এ এই আইনের নীতিমালাকে প্রয়োগ করা হয়েছে।

6. Where this Act, or any Act of Parliament or Regulation made after the commencement of this Act, repeals any enactment hitherto made or hereafter to be made, then, unless a different intention appears, the repeal shall not-

(a) revive anything not in force or existing at the time at which the repeal takes effect; or
(b) affect the previous operation of any enactment so repealed or anything duly done or suffered thereunder; or
(c) affect any right, privilege, obligation or liability acquired, accrued or incurred under any enactment so repealed; or
(d) affect any penalty, forfeiture or punishment incurred in respect of any offence committed against any enactment so repealed; or
(e) affect any investigation, legal proceeding or remedy in respect of any such right, privilege, obligation, liability, penalty, forfeiture or punishment as aforesaid;

and any such investigation, legal proceeding or remedy may be instituted, continued or enforced, and any such penalty, forfeiture or punishment may be imposed as if the repealing Act or Regulation had not been passed.


কপিরাইট আইন, ২০২৩:

এবার বর্তমানে বলবৎ 'কপিরাইট আইন, ২০২৩'-এ আসি। বলা যেতে পারে, নতুন আইনের ১২৭(২)(ক) ধারায় যেহেতু (২০০০-এর আইনে থাকা) পুরোনো অধিকারগুলো বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে, তাই পুরোনো কর্মগুলোও ৬০ বছর মেয়াদ পাবে। কিন্তু ১৮৯৭ সালের জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্টের ৬(c) ধারা অনুযায়ী, রহিতকৃত আইনের অধীনে নির্ধারিত অধিকারের কাঠামো (যেমন ৫০ বছরের সীমা) অপরিবর্তিত থাকে। ফলে ২০২৩ সালের আইনটি কেবল সেই অবস্থাকেই সংরক্ষণ করে, যা ২০০০ সালের আইনের অধীনে অর্জিত হয়েছিল। যেহেতু ২০০০ সালের আইনটি ১০৫(৫) ধারার মাধ্যমে পুরোনো কর্মগুলোর মেয়াদকে সুনির্দিষ্টভাবে ৫০ বছরেই আটকে দিয়েছিল এবং অতিরিক্ত দশ বছর যুক্ত করার পক্ষে স্পষ্ট কোনও বিধান রাখেনি, তাই ২০২৩ সালের আইনও সেটিকে নতুন করে ৬০ বছরে উন্নীত করেনি। নিচে ২০২৩ সালের আইনের রহিতকরণ ধারাটি দেওয়া হলো: 

১২৭। (১) কপিরাইট আইন, ২০০০ (২০০০ সনের ২৮ নং আইন), অতঃপর উক্ত আইন বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্বারা রহিত করা হইল।

(২) উক্তরূপ রহিতকরণ সত্ত্বেও উক্ত আইনের অধীন-

(ক) কৃত কোনো কাজ-কর্ম, গৃহীত কোনো ব্যবস্থা, প্রণীত কোনো বিধি, জারীকৃত প্রজ্ঞাপন বা নোটিশ বা বিজ্ঞপ্তি, প্রদত্ত আদেশ, স্বত্বনিয়োগ, নিবন্ধন বা লাইসেন্স, এই আইনের বিধানাবলির সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, রহিত বা সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত, বলবৎ থাকিবে, এবং এই আইনের সংশ্লিষ্ট ধারার অধীন কৃত, গৃহীত, প্রণীত, জারীকৃত বা প্রদত্ত বলিয়া গণ্য হইবে;
(খ) উক্ত আইনের অধীন সূচিত কোনো কার্যধারা অসম্পূর্ণ থাকিলে উহা উক্ত আইন অনুযায়ী এইরূপে সমাপ্ত করা হইবে, যেন উক্ত আইন রহিত হয় নাই;
(গ) দায়েরকৃত কোনো মামলা বা মোকদ্দমা কোনো আদালতে চলমান থাকিলে উহা এমনভাবে নিষ্পত্তি করিতে হইবে যেন উক্ত আইন রহিত হয় নাই;
(ঘ) উক্ত আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত বোর্ড এইরূপে বহাল থাকিবে যেন উহা এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে; এবং
(ঙ) কপিরাইট অফিসে নিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহিতপূর্বে যে শর্তাধীনে চাকুরিতে নিয়োজিত ছিলেন, এই আইনের বিধান অনুযায়ী পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত, সেই একই শর্তে চাকুরিতে নিয়োজিত থাকিবেন এবং পূর্বের নিয়মে বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি প্রাপ্য হইবেন।

উল্লেখ্য যে কপিরাইট আইন, ২০২৩ তার পূর্বসূরী আইন (শুধুমাত্র ২০০০ এর আইন)-এর অধীন প্রকাশিত কর্ম ১২৭(২)(ক) দ্বারা নিজের মধ্যে আত্তীকরণ করে। কিন্তু ২০০০ এর আইন, তার পূর্বসূরি ১৯৬২এর আইনের জন্য তা করে না। ফলে ১৯৬২ এর অধীন প্রকাশিত কর্ম ২০০০ বা ২০২৩ এর আইন আত্তীকরণ করে না এবং উত্তরসূরি আইনসমূহ তাদের নিজ নিজ হেফাজত ধারা অনুযায়ী ১৯৬২ এর অধীন কর্মগুলোতে ১৯৬২ এর আইন বলবৎ রাখে। ১৯৬২ হতে ২০০০ এর আইনে মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছিল কিন্তু ২০০০ থেকে ২০২৩ এর আইনে করা হয়নি/ তাই পূর্ববর্তী কর্মের মেয়াদ অপরিবর্তিত রাখার বিষয়ে কোনো ধারা যুক্ত করা হয়নি বা যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা ছিল না। কিন্তু আইনের ইচ্ছা অনুযায়ী মেয়াদ বৃদ্ধি করতে হলে, তা আলাদা ভাবে যুক্ত করতে হতো, যা করা হয়নি।

নিরপেক্ষভাবে বিচার করলে, আইনের এই আক্ষরিক ও অ-ভূতাপেক্ষ (Non-retroactive) ব্যাখ্যাটিই আইনিভাবে অধিকতর নিরাপদ ও প্রচলিত। কারণ, কোনো অধিকারের মেয়াদ বা ব্যাপ্তি যদি পেছনের তারিখ থেকে বাড়াতে হয়, তবে আইনে তা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে লিখে দিতে হয়।

আন্তর্জাতিক উদাহরণ

আন্তর্জাতিক রীতির দিকে তাকালেও অ-ভূতাপেক্ষতার প্রমাণ মেলে। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রের কপিরাইট মেয়াদ বৃদ্ধির আইন, Sonny Bono Copyright Term Extension Act (CTEA 1998)-এর 102(b) ধারায় বিদ্যমান কপিরাইটগুলোর মেয়াদও ভূতাপেক্ষভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা ছিল। একইভাবে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কপিরাইট মেয়াদ নির্দেশিকা (Directive 93/98/EEC)-এর Article 10-এ (Application in time) অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলা হয়েছিল যে, এই নির্দেশিকা পাসের দিন যেসব কর্ম কপিরাইট দ্বারা সুরক্ষিত আছে, সেগুলোর মেয়াদ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া, যুক্তরাজ্যের 'The Duration of Copyright and Rights in Performances Regulations 1995-এ যখন মেয়াদ বাড়ানো হয়, তখন এর পার্ট-৩ (Transitional Provisions)-এ 'Extended and revived copyright' শিরোনামে বিদ্যমান কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। বাংলাদেশের আইনে বিদ্যমান কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির পক্ষে এমন কোনো স্পষ্ট ঘোষণা বা আইনি ভাষ্য নেই।

কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২:

আমাদের চূড়ান্ত গন্তব্য ১৯৬২ সালের কপিরাইট অধ্যাদেশ। কপিরাইট আইন, ২০০০ পূর্ববর্তী আইনের মেয়াদসমূহ সংরক্ষণ করে। কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২-এর মেয়াদসমূহ নিচে দেওয়া হলো:

CHAPTER III
TERM OF COPYRIGHT
The Copyright Ordinance, 1962

18. Term of copyright in published literary, dramatic, musical and artistic works.-

Except as otherwise hereinafter provided, copyright shall subsist in any literary, dramatic, musical or artistic work (other than a photograph) published within the life-time of the author until fifty years from the beginning of the calendar year next following the year in which the author dies. Explanation-In this section, the reference to the author shall, in the case of a work of joint authorship, be construed as a reference to the author who dies last. 

19. Term of copyright in posthumous work.-

(1) In the case of a literary, dramatic or musical work or an engraving, in which copyright subsists at the date of the death of the author or, in the case of any such work of joint authorship, at or immediately before the date of the- death of the author who dies last, but which or any adaptation of which, has not been published before that date, copyright shall subsist until fifty years from the beginning of the calendar year next following the year in which the work is first published or, where an adaptation of the work is published in any earlier year, from the beginning of the calendar year next following that year. 
(2) For this purposes of this section, a literary, dramatic or musical work or an adaptation of any such work shall be deemed to have been published, if it has been performed in public or if any records made in respect of the work have been sold, or offered for sale, to the public. 

20. Term of copyright in cinematographic works, records and photographs.­ 

(1) In the case of a cinematographic work, copyright shall subsist until fifty years fro.n the beginning of the calendar year next following the year in which the work is published. 
(2) In the case of a record, copyright shall subsist until fifty years from the beginning of the calendar year next following the year in which the record is published.  
(3) In the case of a photograph, copyright shall subsist until fifty years from "the beginning of the calendar year next following the year in which the photograph is published. 

20A. Term of copyright in broadcast.-

In the case of a broadcast, copyright shall subsist until twenty-five years from the beginning of the calendar year next following the year in which the broadcast first took place.

21. Term of copyright in anonymous and pseudonymous work.-

(1) In the case of a literary, dramatic, musical or artistic work (other than a photograph), which is published anonymously or pseudonymously, copyright shall subsist until fifty years from the beginning of the calendar year next following the year in which the work is first published.
Provided that where the identity of the author is disclosed before the expiry of the said period, copyright shall subsist until fifty years from the beginning of the calendar year next following the year in which the author dies. 
(2) In sub-section (1), references to the author shall, in the case of an anonymous work of joint authorship be construed,­ 
(a) where the identity of one of the authors is disclosed as references to that author; 
(b) where the identity of more authors than one is disclosed, as references to the author who dies last from amongst such authors. 
(3) In sub-section (1), references to the author shall, in the case of a pseudonymous work of joint authorship, be construed,­ 
(a) where the names of one or more (but not all) of the authors are pseudonym and his or their identity is not disclosed, as references to the author whose name is not a pseudonym, or, if the names of two or more of the authors are not pseudonyms, as references to such one of those authors who dies last; 
(b) where the names of one or more (but not all ) of the authors are pseudonyms and the identity of one or more of them is disclosed, as references to the author who dies last from amongst the authors whose names are not pseudonyms and the authors whose names are pseudonyms and are disclosed; and 
(c) where the names of all the authors are pseudonyms and the identity of one of them is disclosed, as references to the author whose identity is disclosed or, if the identity of two or, more of such authors is disclosed as references to such one of those authors who dies last. Explanation-s-Pot the purposes of this section, the identity of an author shall be deemed to have been disclosed, if either the identity of the author is disclosed publicly by both the author and the publisher or is otherwise established to the satisfaction of the Board by that author. 

22. Term of copyright in Government works and in works of International Organisations.-

(l) Copyright in a Government work shall, where government is the first owner of the copyright therein, subsist until fifty years from the beginning of the calendar year next following the year in which the work is first published. 
(2) In the case of a work of an international organisation to which the provisions of section 53 apply, copyright shall subsist shall until fifty years from the beginning of the calendar year next following the year in which the work is first published. 

23. Term of copyright in unpublished work.-

(1) If a work, whose author's identity is known, is not published posthumously within fifty years after the death of the author, such work shall fall into the public domain after fifty years from the beginning of the calendar year next following the year in which the author dies. 
(2) If a work, whose author's identity is not known, is not published within fifty years of its creation, such work shall fall into the public domain after fifty years from the beginning of the calendar year next following the year in which the work is created.   

সংশোধন বনাম রহিতকরণ

[সম্পাদনা]

কপিরাইটের মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশ ভারতের একটি সুপরিচিত নজির রয়েছে, যা আপাতদৃষ্টিতে আমাদের প্রস্তাবনার বিরুদ্ধে যাচ্ছে বলে মনে হতে পারে। স্বাধীন ভারতে ১৯৯২ সালের সংশোধনী আইনের (The Copyright Amendment Act, 1992) মাধ্যমে কপিরাইটের সাধারণ মেয়াদ ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৬০ বছর করা হয়। এই সংশোধনী পাসের সময় ভারতে যে কর্মগুলোর কপিরাইট তখনো বিদ্যমান (Alive) ছিল, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন বর্ধিত ৬০ বছরের সুবিধা পেয়েছিল। প্রশ্ন আসতে পারে, ভারতে যদি বিদ্যমান কর্মের মেয়াদ বেড়ে থাকে, তবে বাংলাদেশে ২০০০ সালের নতুন আইন পাসের সময় বিদ্যমান কর্মগুলোর মেয়াদ কেন ৬০ বছর হবে না?

এর উত্তর লুকিয়ে আছে দুই দেশের আইন প্রণয়নের কাঠামোগত পার্থক্যের (Amendment বনাম Repeal) মধ্যে। ভারতের এই মেয়াদ বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় অনুঘটক ছিল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কর্মের কপিরাইট। ১৯৪১ সালে তাঁর মৃত্যু হওয়ায় তৎকালীন আইন অনুযায়ী তাঁর কর্মের কপিরাইট ১৯৯১ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। এই মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র তিন দিন আগে ভারত সরকার তড়িঘড়ি করে একটি অধ্যাদেশ জারি করে মেয়াদ ১০ বছর বাড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে যখন এটিকে স্থায়ী আইন হিসেবে পাস করা হয়, তখন ভারত ১৯৯১ সালের সাময়িক অধ্যাদেশটি রেটিফাই করা সাপেক্ষে রহিত করলেও তাদের ১৯৫৭ সালের মূল আইনটিকে রহিত (Repeal) করেনি, বরং কেবল মূল একটি 'সংশোধনী' (Amendment) এনেছিল। 

এই সংশোধনীর মাধ্যমে মূল আইনের পঞ্চম অধ্যায়ে 'fifty years'-এর স্থলে 'sixty years' প্রতিস্থাপিত করা হয় এবং নতুন আইনটিকে ভূতাপেক্ষভাবে (Retroactively) ঠিক সেই ২৮ ডিসেম্বর ১৯৯১ তারিখ থেকেই কার্যকর ঘোষণা করা হয়। ফলে চলমান মূল আইন যখন 'সংশোধিত' হয়, তখন আইনের অধীনে থাকা সমস্ত বিদ্যমান বা 'অ্যালাইভ' অধিকারগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন সংশোধিত অবস্থার সুবিধা পায়। 

বিপরীতে, বাংলাদেশ সরকার ১৯৬২ সালের মূল আইনটিকে (অধ্যাদেশ) 'সংশোধন' করেনি, বরং ২০০০ সালের আইনের ১০৫(১) ধারা দিয়ে তা সম্পূর্ণরূপে রহিত (Repeal) করে একটি নতুন আইন প্রবর্তন করে। যখন কোনো পুরোনো আইন বাতিল করে নতুন আইন আনা হয়, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুরোনো আইনের অধীনে থাকা কর্মগুলো নতুন আইনের সুবিধা পায় না। কারণ, The General Clauses Act, 1897-এর ধারা ৬(c) অনুযায়ী, কোনো আইন রহিত (Repeal) হলে নতুন আইনে স্পষ্ট 'ভিন্নরূপ কোনো উদ্দেশ্য' (Different intention) না থাকলে, বাতিলকৃত আইনের অধীন অর্জিত অধিকার বা মেয়াদের কাঠামো (যেমন- ৫০ বছরের সীমা) ক্ষুণ্ণ বা পরিবর্তিত হয় না। 

বাংলাদেশ যদি ভারতের মতো শুধু "মৃত কর্মগুলো আর জ্যান্ত হবে না" (ধারা ১০৫(৩)) লিখেই ক্ষান্ত হতো, তবে হয়তো বিতর্কের সুযোগ থাকত। কিন্তু আইনে ১০৫(৫) ধারায় অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে: "...তাহার ক্ষেত্রে এই আইন কার্যকর না হইলে যে সময়ের জন্য তিনি ঐরূপ অধিকার বা স্বার্থের অধিকারী হইতেন তাহা অব্যাহত থাকিবে।" 

অর্থাৎ, আইনসভা পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, মেয়াদের ক্ষেত্রে নতুন আইনে তাদের 'ভিন্নরূপ কোনো উদ্দেশ্য' নেই। তারা পুরোনো আইনটি বাতিল করলেও, বিদ্যমান কর্মগুলোর মেয়াদ পুরোনো আইন (৫০ বছর) অনুসারেই চলবে। অধিকন্তু, ১০৫(৭) ধারায় 'জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট'-এর প্রয়োগ নিশ্চিত করে এই মেয়াদের সুরক্ষাকে সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র করা হয়েছে।

সার্বিক উপসংহার

[সম্পাদনা]

উপরের বিস্তারিত আইনি পর্যালোচনা, ভারত ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক নজিরের তুলনামূলক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় যে, ২০০০ সালের ১৮ জুলাইয়ের পূর্বে প্রকাশিত কোনো কর্ম নতুন আইনের সাধারণ ৬০ বছরের মেয়াদের সুবিধা পাবে না। ভারতের আইনটি ছিল চলমান আইনের একটি 'সংশোধনী' হওয়ায় আতা বাংলাদেশের ২০০০ সালের সম্পূর্ণ নতুন আইনের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক হয় না।) তাই ২০০০-এর আইনের ১০৫(৫) ধারার মাধ্যমে এবং ২০২৩ আইনে তা কন্টিনিউ করার মাধ্যমে ২০০০-পূর্ব কর্মের কপিরাইটের মেয়াদ প্রকাশ বা লেখকের মৃত্যু + ৫০ বছর হিসেবেই আইনিভাবে নির্ধারিত হবে। ফলে আজকের তারিখ: ১১ এপ্রিল ২০২৬ হিসেবে ৫০ বছর তথা ১১ এপ্রিল ১৯৭৬-এর আগের সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক কর্ম কিংবা মৃত্যুবরণকারী লেখকের কর্ম উইকিসংকলনে আপলোড দিয়ে মুদ্রণ সংশোধন করতে কোনও আইনি বাধা নেই। Tausheef Hassan (আলাপ) ১৫:০৯, ২০ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি)উত্তর দিন

 মন্তব্য — উপরে দেওয়া ব্যাখ্যার সঙ্গে আমার কিছু মতপার্থক্য আছে। নিচে তার আলোচনা করছি:—
  • ভূতাপেক্ষিতা — উপরে বলা হয়েছে যে নতুন আইনে পুরনো বইয়ের কপিরাইটের মেয়াদ বৃদ্ধি পেলে তা ভূতাপেক্ষ (retrospective), যা কিনা General Clauses Act অনুযায়ী হওয়ার কথা নয়; ফলে নতুন আইন দিয়ে পুরনো আইনের অধীনে প্রকাশিত বইয়ের কপিরাইটের মেয়াদ বাড়তে পারে না। আমার তা মনে হয় না। যে বইয়ের কপিরাইট জীবিত আছে, সেই জীবিত কপিরাইটের জীবৎকাল বাড়ানোকে ভূতাপেক্ষ বলা যায় কি? যদি তা হয়, তবে কবে থেকে ভূতাপেক্ষ? যদি পুরনো আইনের জন্মলগ্ন থেকে ভূতাপেক্ষ হয়, তবে যেসব বইয়ের কপিরাইট অধুনা শেষ হয়ে গেছে কিন্তু পুরনো আইনের আমলে কিছুকাল আগে কপিরাইটে ছিল, সেই বইগুলিও এই ভূতাপেক্ষিতার সুযোগ লাভ করত এবং তাদের কপিরাইট পুনর্জীবিত হত। কিন্তু তা হয় না। কপিরাইট শেষ হয়ে গেলে এই তথাকথিত ভূতাপেক্ষ প্রাবধান দিয়ে কপিরাইট আর ফিরে আসে না। এতেই প্রমাণিত হয় যে এটা ভূতাপেক্ষ নয়; নতুন আইনে পুরনো বইয়ের কপিরাইটের মেয়াদ বাড়লে তা ভূতকাল থেকে বাড়ে না, বরং বর্তমান কাল থেকে বাড়ে। সেজন্যেই বিগত-কপিরাইট বইগুলি এর সুবিধা পায় না। ফলে এর সঙ্গে General Clauses Act-এর কোনই সংঘাত নেই।
  • রবীন্দ্রসাহিত্য ও ভারতীয় আইন — ১৯৯২ সালে ভারতীয় কপিরাইট আইন সংশোধন করে কপিরাইটের মেয়াদ লেখকের মরণোত্তর ৫০ বছর থেকে বাড়িয়ে ৬০ বছর করা হয়। সেসময় রবীন্দ্রসাহিত্যের কপিরাইট ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন বিশ্বভারতীর কাছে। তাই এই অতীব লাভজনক কপিরাইটের মেয়াদবৃদ্ধিই ছিল আইন-সংশোধনের মূল কারণ। প্রস্তাবকের মতে এমনটা হওয়া ভূতাপেক্ষ, তাহলে কিভাবে হল? প্রস্তাবকের দেওয়া ব্যাখ্যা অনুযায়ী ১৯৯২-তে নতুন আইন না বানিয়ে চলমান আইনের সংশোধন হয়েছিল, তাই এটা ভূতাপেক্ষ নয়; নতুন আইন বানালে ভূতাপেক্ষ হত। বেশ, কিন্তু রবীন্দ্রনাথের লেখাগুলো তো চলমান ১৯৫৭-এর আইনের অধীনে প্রকাশিতই হয় নি। রবীন্দ্রনাথের প্রথম দিককার লেখাগুলি প্রকাশিত হয়েছিল ১৮৪৭-এর আইনের অধীনে (তাতে লেখকের মরণোত্তর সাত বছর কপিরাইট থাকত), আর পরের দিকের বইগুলি প্রকাশিত হয় ১৯১৪-এর আইনের অধীনে (তাতে মরণোত্তর ৫০ বছরের বিধান ছিল)। ১৮৪৭ এবং ১৯১৪-এর সাপেক্ষে ১৯৫৭-এর আইন হচ্ছে নতুন আইন। এই নতুন আইন দিয়ে কিভাবে রবীন্দ্রসাহিত্যের মেয়াদবৃদ্ধি করা গেল? এটা কি ভূতাপেক্ষ হচ্ছে না? প্রস্তাবক দেখাতে চেয়েছেন যে বাংলাদেশের ২০০০-এর আইনের ১০৫(৫) ধারা একটা ভূতাপেক্ষিতা-প্রতিরোধক ব্যবস্থা, যার কারণে ২০০০-এর আইন দিয়ে আগের বইগুলির কপিরাইটের মেয়াদবৃদ্ধি ঘটেনি। কিন্তু একই ব্যবস্থা তো ভারতীয় আইনেও ছিল। ভারতের ১৯৫৭-এর আইনের ৭৯(৫) ধারা এবং বাংলাদেশের ২০০০-এর আইনের ১০৫(৫) ধারা অবিকল এক ধারা, শুধু ধারার নম্বর আলাদা। কাজেই একই নিয়মের উপস্থিতিতে ভারতে যদি কপিরাইটের মেয়াদবৃদ্ধি ঘটে থাকে, তবে বাংলাদেশে তা ঘটেনি বলে কেন আমরা ধরে নেব?
  • ভারতীয় ও বাংলাদেশি আইনের তুলনাযোগ্যতা — এখানে মনে পারে, ভারতীয় ও বাংলাদেশি আইন ভিন্নপথগামী, তাই পরিণতিও ভিন্ন। কিন্তু ব্যাপারটা সেরকম নয়। দুদেশেরই আইনি পরিকাঠামো, বিভিন্ন স্থানীয় সংশোধনী সহ, কলোনিয়াল লেগ্যাসি। ব্রিটিশদের বানানো General Clauses Act, স্থানীয় সংশোধনী সহ, দুদেশেই চালু আছে। কাজেই একটার সঙ্গে অন্যটা তুলনাযোগ্য। কাজেই ভারতীয় আইনে যদি কপিরাইটের মেয়াদ বাড়তে পারে, তবে একই ব্যবস্থাযুক্ত বাংলাদেশি আইনে তা না বাড়ার কোন কারণ নেই। তাহলে ১০৫(৫) ধারার উপযোগিতা কী রইল? হ্যাঁ, উপযোগিতা আছে বৈকি, কিন্তু তা প্রস্তাবকের ব্যাখ্যার অনুসারী নয়। নিচে অন্যভাবে ব্যাখ্যার চেষ্টা করছি।
  • রহিতকরণ ধারা ও তার তাৎপর্য — যখন পুরনো আইন বাতিল করে নতুন আইন রচিত হয়, তখন নতুন আইনের শেষদিকে একটা রহিতকরণ ধারা (repeal section) থাকে। ভারত ও বাংলাদেশ দুদেশেই এই দস্তুর। পুরনো আইনের সুবিধাপ্রাপকরা নতুন আইন দিয়ে যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেটা নিশ্চিত করতে এই ধারায় কয়েকটা উপধারা থাকে। নতুন আইনে কি সুবিধা পাওয়া যাবে বা যাবে না, সেসব এই ধারায় থাকে না, শুধু পুরনো আইনই এর ফোকাস। বাংলাদেশি আইনের ১০৫(৫) ধারা এই রহিতকরণ ধারার একটা উপধারা। এই ধারা দিয়ে পুরনো আইনের সুবিধাপ্রাপকদের লেখকের মরণোত্তর ৫০ বছর কপিরাইটের অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন আইনে মেয়াদ যদি ৫০ থেকে কমিয়ে ৪০ বছর করা হত, তাহলেও পুরনো আইনের সুবিধাপ্রাপকদের, এই ধারার কারণে, ৫০ বছরের অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকত। কিন্তু নতুন আইনের সুবিধা-অসুবিধার জন্য এই ধারা নয়। অর্থাৎ, পুরনো আইনের সুবিধাপ্রাপকরা এই ধারা অনুযায়ী ৫০ বছরের অধিকার পাওয়ার পর, নতুন আইনের উপযুক্ত ধারা অনুযায়ী আরও অতিরিক্ত ১০ বছর পেতে পারেন। তাতে কোনই বাধা নেই।
  • নতুন আইনে পুরনো কপিরাইটের আত্তীকরণ — দেশে নতুন রাজা হলে পুরনো রাজার বিদ্যমান প্রজারা স্বতস্ক্রিয়ভাবে নতুন রাজার প্রজা হয়ে যায়। সেইরকম, নতুন কপিরাইট আইন হলে আগে থেকে কপিরাইটে থাকা বইগুলি স্বতস্ক্রিয়ভাবে নতুন আইনের আওতায় চলে আসে, ফলে তাদের কপিরাইটের মেয়াদ কমানো না গেলেও বাড়ানো যায়। এই কারণেই ভারতে রবীন্দ্রসাহিত্যের কপিরাইটের মেয়াদবৃদ্ধি ঘটেছিল।
  • ব্যবহারিক উদাহরণ — এটা সবারই জানা যে বিখ্যাত বইয়ের কপিরাইটের মেয়াদ শেষ হওয়ামাত্রই অন্যান্য প্রকাশকরা সেগুলি ছেপে বাজারে ছাড়তে থাকে। রবীন্দ্রসাহিত্যের বেলাতেও এই ব্যাপার ঘটেছিল। যদি বাংলাদেশে ২০০০ সালের আইনে পুরনো বইয়ের কপিরাইটের মেয়াদ না বেড়ে থাকে, তবে ১৯৫০ ও পরবর্তীতে মৃত লেখকদের বইগুলি এর সুবিধা পায় নি। সেক্ষেত্রে লেখকমৃত্যুর পর ৫০ পেরোনো কিন্তু ৬০-অনুত্তীর্ণ বিভিন্ন বিখ্যাত বই অবশ্যই অন্যান্য প্রকাশকরা বাজারে ছেড়ে থাকবেন। প্রস্তাবকের কাছ থেকে এমন কিছু ব্যবহারিক উদাহরণ আশা করছি, যাতে এই কপিরাইট না বাড়াটা পরিষ্কারভাবে প্রতিপন্ন হয়। — হৃষীকেশ (আলাপ) ১২:৪২, ২৩ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি)উত্তর দিন
    @Hrishikes: প্রথমেই উপরোক্ত প্রস্তাবনাসমূহ সময় নিয়ে পড়ার এবং একটি গঠনমূলক সমালোচনার জন্য আপনাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। শিক্ষাগত কারণে উত্তর দিতে দেরি হওয়ায় আমি দুঃখিত।

    ১। ভূতাপেক্ষিতা — ভূতাপেক্ষিতা কী? ভূতাপেক্ষিতা বলতে সাধারণত যা বুঝায় যে, ধরুন "জনাব 'ক' কাউকে খুন করলো"। কিন্তু তৎকালীন সময়ে আইনানুযায়ী খুন করা অবৈধ ছিলো না। কিন্তু পরে নতুন আইন সৃষ্টির মাধ্যমে খুন করাকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। যেহেতু খুন করার কার্য, আইন প্রণয়নের আগে সংঘটিত হয়েছিল, তাই জনাব 'ক'কে শাস্তি দেওয়া যাবে না। এখানে "জনাব 'ক' তো বেঁচে আছেন" বলে তাকে আদালতে নেওয়ার সুযোগ নেই।

    আমি মানছি যে, কপিরাইটের ক্ষেত্রে বিষয়টা একটু জটিল। একটি কর্মের কপিরাইট শুরু হয় তার প্রকাশকাল থেকে। একটি কর্মকে কপিরাইট অফিসে লাইসেন্স রেজিস্টার করা হয়, বা প্রকাশকাল থেকে একটি অটো লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদান করা হয় (রেজিস্টার করা না হলেও)। এই লাইসেন্সটি কপিরাইট মেয়াদ পর্যন্ত বৈধ অথবা লাইসেন্সে বলা আছে যে আপনি "X" বছর অধিকার পাবেন। এখন নতুন আইন এলো। ফলে আইনের পরবর্তী নতুন প্রকাশিত বই বা কর্মসমূহ নতুন আইনের অধীনে নতুন লাইসেন্স নতুন মেয়াদ সময়ের জন্য প্রাপ্ত হবে। কিন্তু পুরাতন কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আপনাকে সময়ে পিছনে যেতে হবে এবং সেই লাইসেন্সকে পরিবর্তন করতে হবে; অথবা বিদ্যমান লাইসেন্সকে আপডেট করতে হবে। এইটাই ভুতাপেক্ষতা। আইন সাধারণত সম্মুখমুখী বা তার সামনের কর্মে affect করে, পিছনের বা বিদ্যমান কর্মকে না। বিদ্যমান মামলা যেমন পুরাতন আইনেই চালাতে হয়।

    ধরুন বাংলাদেশের সংবিধানে ইন্টারনেট সংযোগ মৌলিক অধিকার বলে স্বীকৃত নয়। কিন্তু পরে সংশোধনী করে একে মৌলিক অধিকার ঘোষণা করা হয়েছে। এখন আপনার যুক্তি অনুসারে, আমি, তাওসীফ হাসান, তো জীবিত আছি। তাহলে কি আমাকে অনেককাল আগে ইন্টারনেট থেকে বঞ্চিত করার জন্য, আমি সরকারের বিরুদ্ধে এখন বর্তমানে মামলা দিতে পারব? কপিরাইটও এক প্রকার অধিকার। কপিরাইট জীবিত থাকে না; বরং তার লাইসেন্স চলমান থাকে। আর লাইসেন্সের পরিবর্তন করতে হলে, সেটি অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। স্পষ্ট উল্লেখ না থাকলে আইন শুধু সামনের কর্মকে affect করে।

    এখন মূল যুক্তিতে আসি। আমার উত্তরের প্রথমাংশের সব কথাই মোটামুটি অপ্রাসঙ্গিক। আপনি মূল প্রস্তাবনায় উদ্ধৃতিকৃত সকল আইন পড়ে দেখতে পারেন। কোথাও "ভূতাপেক্ষিতা" বা "retroactivity' শব্দটি উচ্চারিত হয়নি। আপনার সমালোচনা মূলত "ভূতাপেক্ষিতা" শব্দটি কেন্দ্র করে। এই শব্দ আইনের কোথাও নেই। বরং আইনে কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। এই শর্তের ভিত্তিতে আমরা আইনকে ভূতাপেক্ষ বলছি। এই উল্টো; "ভূতাপেক্ষিতা" শব্দের ভিত্তিতে আমরা শর্ত প্রতিপাদন করছি না। আইনে কি কি শর্ত আছে? ১০৫(২) বলে পূর্বের মামলা পূর্বের আইনে চলবে। ১০৫(৩) বলে কপিরাইট অধ্যাদেশ, ১৯৬২ এর অধীন বিবেচিত কপিরাইটহীন অসুরক্ষিত কর্ম নতুন করে সুরক্ষা পাবে না। ১০৫(৪) বলে পূর্ববর্তী কর্ম নতুন অধিকার পাবে না। ১০৫(৫) মেয়াদ বৃদ্ধি আটকায়। ১০৫(৬) পুনঃব্যবহার অনুমতি বহাল রাখে। এই সকল শর্তের ভিত্তিতে আমরা বলছি আইনটি ভুতাপেক্ষ। এর উল্টোটি নয়।

    আপনি লক্ষ্য করে দেখবেন যে, এই ধারাসমূহে বলা নেই যে মেয়াদ পার হয়ে যাওয়া পুরাতন কর্ম নতুন করে কপিরাইট পাবে না; কেননা ১০৫(৫) দ্বারা আগেই মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানো হয়েছে। মূল প্রস্তাবনার 'অপ্রয়োজনীয়তার বিরুদ্ধে নীতি' (Rule Against Redundancy)-এর কারণেই তা আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি।
আন্তর্জাতিক উদাহরণ
আন্তর্জাতিক রীতির দিকে তাকালেও অ-ভূতাপেক্ষতার প্রমাণ মেলে। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রের কপিরাইট মেয়াদ বৃদ্ধির আইন, Sonny Bono Copyright Term Extension Act (CTEA 1998)-এর 102(b) ধারায় বিদ্যমান কপিরাইটগুলোর মেয়াদও ভূতাপেক্ষভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা ছিল। একইভাবে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কপিরাইট মেয়াদ নির্দেশিকা (Directive 93/98/EEC)-এর Article 10-এ (Application in time) অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলা হয়েছিল যে, এই নির্দেশিকা পাসের দিন যেসব কর্ম কপিরাইট দ্বারা সুরক্ষিত আছে, সেগুলোর মেয়াদ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া, যুক্তরাজ্যের 'The Duration of Copyright and Rights in Performances Regulations 1995-এ যখন মেয়াদ বাড়ানো হয়, তখন এর পার্ট-৩ (Transitional Provisions)-এ 'Extended and revived copyright' শিরোনামে বিদ্যমান কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। বাংলাদেশের আইনে বিদ্যমান কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির পক্ষে এমন কোনো স্পষ্ট ঘোষণা বা আইনি ভাষ্য নেই

  • এই বিষয়ে আমি আন্তর্জাতিক উদাহরণ মূল প্রস্তাবনায় টেনেছি। আমি আবার উল্লেখ করছি।

    এই অংশে আমি বেশ কিছু দাবি করেছেন। যদিও আমি মনে করি দাবিসমূহ আইনের ভিত্তিতে নয়, আপনি চাইলে আপনার দাবির আইনি উৎস ব্যক্ত করতে পারেন।

    ২। রবীন্দ্রসাহিত্য ও ভারতীয় আইন: রবীন্দ্রনাথের কিছু কর্ম ১৮৬৭ সালের আইনের অধীন প্রকাশিত হয়েছে। ১৯১৪ এর আইনের সর্বশেষ পাতা অনুযায়ী এটি স্পষ্টত অভূতাপেক্ষি। ১৯১৪-এর আইন নিজেই ১৮৬৭ সালের একটি রেজিস্ট্রেশনের আইনকে সংশোধন করে। যার মাধ্যমে রেজিস্টারকৃত সকল কর্মকে ১৯১৪-এর আইন আত্তীকরণ করে। উল্লেখ্য তৎকালীন যুগে শুধুমাত্র রেজিস্টারকৃত কর্ম কপিরাইট সুরক্ষা পেত। ১৯১৪-এর আইনে নতুন আইনের মতো ভুতাপেক্ষতার কোনো ধারা নেই। ফলে ১৮৪৭ সালের আইনের অধীনের যেসকল কর্ম যা প্রকাশিত হয়েছিল, ১৯১৪-এর আইন তাদের মেয়াদ বৃদ্ধি করে। সব কপিরাইট আইনকেই ভুতাপেক্ষ মনে করা একটি ভ্রান্ত ধারণা। ১৯৫৭ সালের আইনের ১৯৯২ সালের সংশোধন নিয়ে আমি নিচে আলোচনা করছি।

    ৩। ভারতীয় ও বাংলাদেশি আইনের তুলনাযোগ্যতা: বাংলাদেশ কপিরাইট আইন, ২০০০ এবং ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ তুলনাযোগ্য এটা সত্য, কিন্তু এদের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা। বাংলাদেশের কপিরাইট সুরক্ষার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে, কপিরাইট আইন, ২০০০ দ্বারা যা সরাসরি পূর্ববর্তী আইনকে রহিত করে। কিন্তু ভারতের কপিরাইট সুরক্ষার মেয়াদের বৃদ্ধি কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ দ্বারা করা হয়নি। ভারতে বৃদ্ধি করা হয়েছে ভিন্ন একটা সংশোধনী আইন দ্বারা। ১৯৯২ সালের ১৩ নং আইন - কপিরাইট (সংশোধনী) আইন, ১৯৯২ দ্বারা ভারতের কপিরাইট মেয়াদ মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই আইনটি কপিরাইট আইন, ১৯৫৭ থেকে আলাদা একটি আইন। ১৯৯২ সালের এই আইনের ভুতাপেক্ষিতার ব্যাপারে ধারা আছে। কপিরাইট (সংশোধনী) আইন, ১৯৯২-এর ৩ নং ধারা শুধু পাবলিক ডোমেইনে চলে যাওয়া কর্মকে কপিরাইটেড হওয়া থেকে আটকায়। এই আইনে মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানোর ব্যাপারে কিছু লেখা নেই। ফলে কপিরাইট মেয়াদ বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশের মেয়াদ বৃদ্ধিকারী আইন কপিরাইট আইন, ২০০০ পাবলিক ডোমেইনে চলে যাওয়া কর্মকে কপিরাইটেড হওয়া থেকে আটকানোর পাশাপাশি মেয়াদও আটকানো হয়েছে ১০৫(৫) দ্বারা।

    আমি আমার প্রস্তাবনায় যুক্তি দিয়েছি যে, ২০২৩-এর আইনের মতো করে স্পষ্ট করে না বলায়, কপিরাইট আইন, ২০০০ তার পূর্ববর্তী কর্মকে আত্তীকরণ করেনি। আমার কাছে সেটাই গ্রহণযোগ্য বেশি। তবে আপনি চাইলে ২০০০-এর আইনের ১০৫(৩) ও ১০৫(৪) এবং ভারতীয় বর্তমান আইনের ৭৯(৩) ও ৭৯(৪) দ্বারা বলার সুযোগ আছে যে এই আইন দুটি পূর্ববর্তী কর্মসমূহকে আংশিক আত্তীকরণ করেছে। যেহেতু ১০৫(৫) দ্বারা সরাসরি মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানো হয়েছে, তাই এই নিয়ে আমি বেশি কিছু বলতে চাইনি। কিন্তু ভারতীয় আইনে আপনি চাইলে উক্ত ধারা সমূহকে সতর্কতার নীতিমালার দোহাই দিয়ে বলতে পারেন যে, বর্তমান ভারতীয় আইন তার পূর্ববর্তী কর্মকে আত্তীকরণ করেছে এবং পরবর্তীতে কপিরাইট (সংশোধনী) আইন, ১৯৯২ এর মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে। ভারতীয় মেয়াদ বৃদ্ধিকারী আইনে বাংলাদেশি ১০৫(৫) বা ভারতীয় ৭৯(৫) এর মতো কোনো মেয়াদ আটকানোর ধারা নেই। বাংলাদেশি আইনে যা আছে।

    আইনের আদালতে আইনের হুবুহু বাক্য এবং পূর্ববর্তী মামলার উদাহরণ ব্যতীত কিছুই প্রামণ্য নয়। আপনার, আমার, আইনজীবীর, সংবাদপত্রের সাংবাদিকের, আইন প্রণেতার, সরকারি কর্মচারীর, কর্মের প্রকাশকের মতামতকে সাধারণত আমলে নেওয়া হয় না (The Evidence Act, 1872) এবং উচিতও না (বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার একটি বিশেষ ক্ষেত্র যেখানে এইসকল প্রকাশনাকে আলামত হিসেবে নেওয়া হয়েছিল[২] ধারা ১৯(৫) The International Crimes (Tribunals) Act, 1973)। ফলে ভারতীয় আইন প্রণয়নের ব্যাপারে শুধু আইনের মূল পাঠ্য ও আদালতের উদাহরণকে আমলে নিতে হবে। কারো মতামত বা ভিন্ন কোন মাধ্যমের তথ্য আমলে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই। সেকারণে আমি আমার প্রস্তাবনায় আইনের আক্ষরিক পাঠ্যের আশ্রয় নিয়েছি শুধু। আরেকটি বিষয় হলো, বিশ্বের বিচারব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সমালোচনা হলো, আদালতে রায় সত্যের পক্ষে যায় না; যায় তার পক্ষে যে সবচেয়ে ভালো যুক্তি উপস্থাপন করতে পেরেছে।

    সাধারণত কোনো দেশের কপিরাইট মেয়াদ বাড়ানোর জন্য প্রতিটি দেশ আলাদা করে আইন প্রণয়ন করে অথবা আইনে সরাসরি উল্লেখ করা থাকে যে, মেয়াদ বৃদ্ধি পূর্ববর্তী কর্মের উপর লাগু হবে। এই বিষয়ে আমি আগেই আন্তর্জাতিক উদাহরণ দিয়েছি। আমেরিকায় "মেয়াদ বৃদ্ধি" নাম দিয়েই আলাদা আইন পাশ করানো হয়েছে। মেয়াদ বৃদ্ধি একটি সংবেদনশীল, গুরুত্বপূর্ণ এবং delicate বিষয়। তাই প্রতিটি দেশ অনেক বিচার বিবেচনা করে আইন প্রণয়ন করে। একটি আইন সাধারণত কমপক্ষে এক থেকে দেড় বছর খসড়া পর্যায়ে থাকে। সরকার stakeholder-দের সাথে আলোচনা করে, আইনজীবীদের মতামত নেয়, আইন মন্ত্রণালয় শুদ্ধিকরণ করে ইত্যাদি। বাংলাদেশের "মুক্ত সরকারি তথ্য আইন"-এর খসড়া ২০১৫ সাল হতে লেখা হচ্ছে।[৩] কিন্তু ভারতের তৎকালীন আইন প্রণয়নকারী সংস্থার অধিবেশনের বিতর্ক[৪] ঘেঁটে বুঝা যায়, মাত্র তিন দিন আগে, আইন প্রণয়নকারী সংস্থা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও, অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এখানে উপরোক্ত আইন প্রণয়নের সাধারণ প্র্যাকটিস মানা হয়নি। ফলে অনেক সমস্যা থেকে গেছে আইনে। এইভাবে ৫০ এর বদলে ৬০ বসিয়ে মেয়াদ বৃদ্ধি করা sloppy কাজ, অনেক খুঁটিনাটি বিষয় বাকি থেকে যায়। মেয়াদ বৃদ্ধির মতো সূক্ষ্ম সংবেদনশীল কাজ আন্তর্জাতিক উদাহরণের মতে আলাদা আইনেই করা হয়। বাংলাদেশের বর্তমান আইনে সরকারের কর্তৃক একটি নির্দিষ্ট কর্মের মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ রাখা হয়েছে (ধারা ৬৭)। আমি যতদূর দেখলাম ভারতে সে ব্যবস্থা নেই। ফলে তাড়াহুড়ো হয়েছে বলে একটি যুক্তি দেওয়া সম্ভব। আমার মতে স্বল্প সময়ে সম্মানিত তৎকালীন ভারতীয় আইন প্রণেতাদের এই সিদ্ধান্তই সবচেয়ে উপযুক্ত ছিল। কিন্তু এই কারণে ভারতের এই মেয়াদ বৃদ্ধি মূল আইনের অনেক কিছুর সাথেই সাংঘর্ষিক। তাই আমার মূল প্রস্তাবনার ভারতীয় আইনে অংশকে তার মাতৃ উৎসের মতোই খানকিটা সাংঘর্ষিক মনে হওয়ার সুযোগ আছে। ফলে উপরোক্ত কারণসমূহের কারণে মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশেরসহ যেকোনো দেশের কপিরাইট আইনের ব্যাখ্যার নজির টানার ক্ষেত্রে ভারতীয় আইন ব্যবহার না করাই শ্রেয়; কেননা যথাযথ কারণে এই নজির প্রশ্নবিদ্ধ। তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে, এই বিষয়ে ভারতে কোনো মামলা হয়নি কেনো? আমার মতে ভারতে কপিরাইটের সুবিধাভোগীদের লবিং অনেক বেশি। ধরুন কেউ মামলা করলো, ভারত সরকার আইনের সংশোধনী করে একটি ব্যাখ্যা যুক্ত করে দিলো। সংশোধনী করে আইনের Footer এ ব্যাখ্যা যুক্ত করা সাধারণ চর্চা। যেহেতু ৭৯(৫) এর শুরুতেই লেখা আছে "এই আইনে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে", তাই সংঘর্ষ সৃষ্টি হবে না এবং মেয়াদ বৃদ্ধি বৈধ থাকবে। এই কারণে মামলা করা সময় ও শ্রমের অপচয় হবে শুধু। বাংলাদেশি আইনের মেয়াদ বৃদ্ধি rigid এবং সুগঠিত। ফলে বাংলাদেশি আলাদত আইনের আক্ষরিক ব্যাখ্যায় থেকে যেতে পারে। যদি আলাদা কোনো রায় না হয়, তাহলে শুধুমাত্র বাংলাদেশি আইনের আক্ষরিক ব্যাখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকাই শ্রেয়।

    ৪। রহিতকরণ ধারা ও তার তাৎপর্য: আমি আগে ভূতাপেক্ষিতা অংশে বলেছি, আইনের নাম, ধারার নাম অথবা ধারার সাধারণ নাম কোনো নীতি নির্ধারণ করতে পারে না। পারে শুধুমাত্র আইনের মূল পাঠ্য। আপনার প্রদত্ত মতামতে আইনের কোনো ধারা উল্লেখ করে তার আক্ষরিক বিশ্লেষণ নেই। বরং আপনার মতামত বাংলাদেশের আইনের ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমাদের আইনের প্রতিটি শব্দের থেকে এক চুলও নড়বার সুযোগ নেই। আমি ১০৫(৫) ধারা শব্দ ধরে ধরে ব্যাখ্যা করেছি। এই ধারার ব্যাখ্যায় আমার কোন যুক্তি কেন ভুল, তা তুলে ধরুন। ধারায় বলা আছে, "তাহা অব্যাহত থাকিবে" এবং এর ইংরেজি অনুবাদে বলা আছে, "shall continue to be entitled to". এখানে "অব্যাহত" এবং "continue" এর অর্থ কি কোনো অভিধানে বলা আছে যে, "কর্মের স্রষ্টার অধিকার কমলে নতুন নিয়ম চলবে এবং বেশি থাকলে আগের নিয়ম থাকবে"? কোনো অভিধানে এই ব্যাখ্যা পাবেন না আপনি। আমি মূল প্রস্তাবনায় অভিধানিক অর্ধ দিয়েছি। অব্যাহত এবং continue অর্থ, আগে যা ছিল, তাই থাকবে। এখানে লাভ-ক্ষতির বা কমা-বাড়ার কোনো হিসেব নেই এবং থাকারও সুযোগ নেই। অব্যাহত শব্দ দ্বারা আপনি যদি ভিন্ন কিছু বুঝে থাকেন তাহলে অনুগ্রহ করে তা ব্যক্ত করুন। উল্লেখ্য একটি শব্দ একেকজন একেকভাবে বুঝতে পারে। তাই অভিধানিক ব্যাখ্যা বেছে নেওয়া বেশি শ্রেয়। আবার এই ধারাটি সম্পূর্ণ হুবুহু ঔপনেবেশিক আইনের ইংরেজি বাক্যের অনুবাদ। এর উৎস ইংরেজিতে "continue" শব্দ ব্যাবহার করা হয়েছে, এর অর্থ universally accepted "আগে যা ছিল তা"; এর সাথে বাড়া-কমা বা লাভ-ক্ষতির হিসেব নেই। যদিও ১০৪নং ধারা অনুযায়ী বাংলা সংস্করণ থেকে সিদ্ধান্তে আসা উচিত, ইংরেজি এই উৎস আইনের ইচ্ছা বুঝতে সাহায্য করবে। আইনের বাহিরে গিয়ে আমরা কেউ মনগড়া ব্যাখ্যা দাড়া করাতে পারি না। কোনো ব্যাখ্যা দিতে হলে আইনের ধারার পাঠ্য ধরে শব্দ ধরে আক্ষরিক ব্যাখ্যা দিতে হবে। বস্তুত আপনার ব্যাখ্যা "শর্ত সাপেক্ষে অধিকারের মেয়াদ সংরক্ষণ" যদি আইন করতে চাইতো, তাহলে আইন আলাদা করে তা বলতে পারতো। কিন্তু তা করা হয়নি। অধিকারের ক্ষেত্রে ১০৪(৪) ধারা রয়েছে। এবং ১০৫(৫) দ্বারা মেয়াদ অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। শর্ত প্রয়োগ করলে তা উল্লেখ করে দিতো আইন। ১০৫(৪) সরাসরি সুবিধা-অসুবিধা (অধিকার স্থানান্তর)-এর কথা বলা আছে। তাই "এই ধারা সুবিধা-অসুবিধার জন্য না" বলাটা আইনের স্পষ্ট পরিপন্থী।

    ৫। নতুন আইনে পুরনো কপিরাইটের আত্তীকরণ: আপনি বারংবার আইনের পাঠ্য বাদ দিয়ে, আইনের নাম, সাধারণ নাম এবং কনসেপ্ট ধরে ব্যাখ্যা প্রকাশ করছেন। আপনার এই দাবির আইনি ভিত্তি কি? আমি আইনের লেখা ও আদালতের রায় ব্যতীত এক চুলও সরার পক্ষপাতি নই। আগের আইনের কর্ম নতুন আইনে আনতে হলে সেটা স্পষ্ট করে উল্লেখ করতে হবে, যেমনটি করেছে ভারতীয় কপিরাইট আইন, ১৯১৪(সর্বশেষ পাতা) এবং বাংলাদেশ কপিরাইট আইন, ২০২৩ (ধারা ১২৭)। নতুন আইনের আওতায় কী শর্তে পুরাতন কর্ম এসেছে, সেটাও উল্লেখ করা আছে এই আইন সমূহে।[৫] আগের আইনের কী বহাল থাকবে এবং কী থাকবে না তাও বলা আছে। কপিরাইট আইন, ২০০০-ও বলে দিয়েছে আগের কর্মের কী কী হবে। তন্মদ্ধে ১০৫(৫) বলেছে মেয়াদ অক্ষুণ্ণ থাকবে।

    ৬। ব্যবহারিক উদাহরণ: অন্যান্য প্রকাশকরা লাইসেন্স ফির বিনিময়ে বই প্রকাশ করেছে নাকি পাবলিক ডোমেইন বলে বই প্রকাশ করেছে তা প্রমাণ করবেন কিভাবে। আমি লক্ষ লক্ষ বই উদাহরণ দিলাম। কিন্তু আপনার বলার সুযোগ থাকবে, এরা লাইসেন্স করে অর্থের বিনিময়ে পুনঃপ্রকাশ করেছে। আলাদা করে বইয়ের গায়ে লেখা থাকে না এই বিষয়। ব্যবহারিক উদাহরণ আইনের আদালতে কোনো সিধান্ত গ্রহণকারী ফ্যাক্টর হতে পারে না।(The Evidence Act, 1872) কপিরাইট একটি কঠোর ও জটিল আইন। তাই এখানে Chilling Effect কাজ করতে পারে। Chilling Effect এমন একটি মানসিক বা সামাজিক অবস্থা যেখানে মানুষ আইনি জটিলতা বা কঠোর শাস্তির ভয়ে নিজের ওপর অঘোষিত বিধিনিষেধ আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাতে বর্তমানে এই পরিস্থিতি বিরাজমান।[৬] তাই আলদালতে ব্যবহারিক উদাহরণকে আমলে নেওয়া হয় না। আবার, যদি এই ১০ বছর সময়কালে কোন বিখ্যাত বা পুনঃপ্রকাশ যোগ্য কর্ম না থাকে বা প্রকাশকদের অনীহা থাকে তাহলে কি করবেন? তাও আমি উদাহরণ দিচ্ছি। সৈয়দ মুজতবা আলীর মৃত্যু ১৯৭৪ সালে বা ৫২ বছর আগে। তার বিখ্যাত গ্রন্থ দেশে বিদেশে। এই বইটি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, প্রথমা প্রকাশনা, স্টুডেন্ট ওয়েজ, নিউ এজ পাবলিশার্স প্রকাশ করছে বর্তমানে। আমি নিশ্চিত যে আপনি খুঁজলে বা বইয়ের দোকানে গেলে আরও উদাহরণ পাবেন। কিন্তু এরা পাবলিক ডোমেইন বলে মুক্তভাবে প্রকাশ করছে নাকি লাইসেন্স ফির বিনময়ে তা জানার জন্য তাদের সাথে আলাদা আলাদ করে যোগাযোগ করতে হবে। যেহেতু আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে, তাই আলাদা কওরে যোগাযোগের প্রয়োজন নেই বলে মনে করি আমি।

    আমি আপনার মতামতের প্রতিটি বাক্য ধরে ধরে ব্যাখ্যা করেছি। এরপর মতবিরোধের জায়গা থাকলে আইনের পাঠ্য ধরে করুন এবং আমার যুক্তি কেন অসন্তোষজনক সেটি উল্লেখ করে আইনি ভিত্তিতে প্রতিযুক্তি দিন। ধন্যবাদ।
    Tausheef Hassan (আলাপ) ০৭:০৩, ৩০ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি)উত্তর দিন
আপনার যা বক্তব্য, “আইনের আদালতে আইনের হুবুহু বাক্য এবং পূর্ববর্তী মামলার উদাহরণ ব্যতীত কোনো কিছুর মূল্য নেই।”; এটা একটা ইজ্‌ম, যাকে বলে textualism. আইনের দুটো দিক, letter of law এবং spirit of law. শুধু letter of law আইনের সব কথা নয়, শেষ কথাও নয়। মার্কিন সংবিধানের ব্যাখ্যা নিয়ে লেটার-বাদী আর স্পিরিট-বাদীদের মধ্যে বিতর্ক আছে, তা ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় পাবেন। তবে আমার পক্ষে ভারতীয় উদাহরণ দেওয়া সহজ। Spirit of law অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া ভাষ্য অনুযায়ী ভারতীয় সংবিধানের একটা spirit তথা basic tenets আছে, সংসদ এর বাইরে গিয়ে আইন বানালে সুপ্রিম কোর্ট তা নাকচ করে দিতে পারে। ভারতে Public Interest Litigation নামে একটা সিস্টেম আছে, সেটা সংসদে পাশ হওয়া কোন আইন থেকে আসে নি, বরং সুপ্রিম কোর্টের spirit of law বিষয়ক ভাষ্য থেকে এসেছে। সমলিঙ্গ সম্পর্কের ওপর “বেআইনি” তকমা (৩৭৭ IPC) আদালতের spirit of law ব্যাখ্যায় সরে গিয়েছিল। সেই কারণে আইনের হুবহু পাঠই শেষ কথা নয়, আইনের সাধারণ প্রবণতা, পরম্পরা, আইনের কোন্ অধ্যায়ে ধারা বা উপধারাটা আছে, ধারার হেডিং কি, এসবও গুরুত্বপূর্ণ।
  • ভূতাপেক্ষ শব্দটা আলোচনায় আমি আমদানি করিনি, আপনার বক্তব্য থেকেই শব্দটা নেওয়া। এটা যে ব্যাখ্যামূলক শব্দ, এবং সরাসরি আইনে থাকে না, সেটাও আমার জানা আছে। কপিরাইটের জীবিত থাকার ব্যাপারটা যে biological অর্থে বলা হয় নি, সেটা বুঝতে সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানই যথেষ্ট। যেসব আন্তর্জাতিক উদাহরণ আপনি দিয়েছেন, তার সবেতেই নতুন আইনে মেয়াদ বাড়লে কপিরাইটভুক্ত পুরনো বইগুলোরও মেয়াদ বেড়েছে। ঐসব আইনের বাচনভঙ্গি পুরনো ব্রিটিশ লেগ্যাসিভুক্ত উপমহাদেশীয় আইনগুলির বাচনভঙ্গি থেকে আলাদা হতেই পারে, কিন্তু ধারণাটা একই, যে, নতুন আইনে কপিরাইটভুক্ত পুরনো বইয়ের মেয়াদবৃদ্ধি ঘটে থাকে।
  • আপনার বক্তব্য অনুযায়ী ১০৫(৫) দ্বারা সরাসরি মেয়াদ বৃদ্ধি আটকানো হয়েছে। আমার কাছে এমন কিছু প্রতিভাত হয় নি। অব্যাহত শব্দের অর্থ আপনি ভুল বুঝেছেন। অভিধান খুললে দেখবেন, ব্যাহত মানে বাধাপ্রাপ্ত। কোন কিছুর প্রবাহ আটকে দিলে তা ব্যাহত বা বাধাপ্রাপ্ত হয়। প্রবহমানতা বাড়িয়ে দিলে ব্যাহত হওয়ার কোন ব্যাপারই নেই। কাজেই ১০৫(৫)-এ শুধু মেয়াদ-হ্রাসই আটকানো হয়েছে, মেয়াদ-বৃদ্ধি নয় (এ-ব্যাপারটা নিচে বিশদে দেখাচ্ছি)।
  • ভারতের আইনকে sloppy বলাটা শিষ্টাচার-বিরুদ্ধ হয়েছে। “আইন প্রণয়নকারী সংস্থা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও, অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।” — এটা অজ্ঞতা-প্রসূত মন্তব্য। ভারতের এই সাময়িক অধ্যাদেশগুলি সংসদের অধিবেশন চলাকালীন জারি করা যায় না। সংসদ যখন অধিবেশনে থাকে না, তখন আইন প্রণয়ণ করার আপৎকালীন প্রয়োজন অনুভূত হলে অধ্যাদেশ জারি হয়। কিন্তু অধ্যাদেশ সাময়িক হওয়ায় এর সময়সীমার মধ্যে সংসদীয় আইন দিয়ে অধ্যাদেশ জারির দিন থেকে তা আত্তীকরণ করতে হয়, নইলে তা তামাদি হয়ে যায়। আপনি একটা ব্লগ থেকে সংসদীয় বিতর্কের যে আংশিক রূপ পেয়েছেন (সম্পূর্ণটা অফিসিয়াল সাইটে আছে) তা অধ্যাদেশ নিয়ে নয়, বরং পরবর্তী প্রতিস্থাপক আইন নিয়ে। সেটা সাংসদদের রাজনৈতিক বিতর্ক (সংসদে যেটা হয়ে থাকে), আইনের টেকনিক্যাল খুঁটিনাটি নিয়ে নয়। সেই আইনটা তার সংশোধন কার্য সম্পন্ন করার পর Repealing and Amending Act, 2001 দ্বারা রহিত হয়ে গেছে। যাই হোক, আইনটা জারি হয়েছে ১৯৯২-এর এপ্রিলে, কাজেই বিষয়বস্তু পর্যালোচনার জন্য আইন মন্ত্রকের বিশেষজ্ঞদের কাছে সময় ছিল। আপনার ভিন্নমত সত্ত্বেও, ১৯৫৭-র আইন সংশোধন করে যে পুরনো আইনের অধীনে প্রকাশিত কিন্তু তখনও কপিরাইটে থাকা বইয়ের মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ আইনবিদদের মনে সন্দেহ ছিল না বলেই বিল বানিয়ে সংসদে পাঠানো হয়েছিল, নইলে অধ্যাদেশটাকে তামাদি হতে দেওয়া হত। কাজেই এটা কোন sloppy কাজ নয়।
  • বাংলাদেশের ২০২৩-এর আইন কিছুটা অন্য পথে গেছে ঠিকই, কিন্তু ২০০০-এর আইনটা গতানুগতিকতার মধ্যেই আছে। ভারতের ১৯৫৭-র আইন ও বাংলাদেশের ২০০০-এর আইন — এদুটোকে পাশাপাশি রেখে পড়লে স্বতই মনে হয় একটার অনুপ্রেরণায় অন্যটা রচিত (আসলেই কপি করা হয়েছে সেকথা বলছি না)। যেটাকে উইকিতে আমরা Edict-Gov বলি, অর্থাৎ ভারতীয় আইনের ধারা ৫২ আর বাংলাদেশের ধারা ৭২, এদুটো পাশাপাশি রাখলেই মিলটা বোঝা যাবে। সেজন্যেই ভারতীয় আইনকে sloppy বলে পাশ কাটিয়ে বাংলাদেশি আইনের ব্যাখ্যা মার্কিন আর ইউরোপীয় আইন দেখিয়ে করা যায় না।
  • এবার আপনার “আইনের ধারার পাঠ্য ধরে শব্দ ধরে আক্ষরিক ব্যাখ্যা দিতে হবে” এই textualist দাবির বিষয়ে দেখছি।
    • বাংলাদেশের ১০৫(৪) অনুসারে আগের বইগুলোর কপিরাইটের অধিকার নতুন আইন চালু হওয়ার পর থেকে নতুন আইনের ধারা ১৪ অনুসারে প্রযুক্ত হবে, এমনকি নতুন আইনে নতুন অধিকার থাকলে সেগুলিও পুরনো বইতে বর্তাবে। এতদ্বারা পুরনো বইগুলো নতুন আইনের আওতায় এসেছে। তবে এতে মেয়াদ সম্পর্কে কিছু বলা নেই।
    • ১০৫(৩) অনুসারে নতুন আইন আগের আইনের অধীনে প্রকাশিত বিগত-কপিরাইট বইয়ের কপিরাইট পুনরুদ্ধার করবে না। বিগত-কপিরাইট বইয়ের জন্য এই exclusion principle থাকায় কপিরাইটভুক্ত বইগুলি স্বতই অন্তর্ভুক্ত হয়।
    • ধারা ১৩ অনুসারে কপিরাইট শুধু নতুন আইন অনুসারেই চলতে পারবে। অর্থাৎ রহিত আইন অনুসারে কপিরাইট চলতে পারবে না (বলা বাহুল্য, আগে যা অধিকার দেওয়া হয়ে গেছে, সেটার কাটছাঁট না করে, তথা “অব্যাহত” রেখে)।
    • কপিরাইট নতুন আইন অনুযায়ী চলতে হলে ধারা ২৪ অনুযায়ী মরণোত্তর ৬০ বছরের বিধানও লাগু হবে। এই ধারায় আগের বইগুলোর জন্য কোন exclusion principle দেওয়া নেই, ফলে এটা generic ভাবে সর্বত্র প্রযোজ্য।
    • এবার General Clauses Act, যাকে পাশ কাটিয়ে উপমহাদেশে কোন আইন রচনা করা যায় না।
      • প্রথমে ৬ নম্বর ধারা দেখা যাক, যার বক্তব্য ২০০০-এর আইনের ১০৫ ধারায় বিধৃত। ১০৫(৩) এসেছে GC আইনের 6(a) থেকে। ১০৫-এর (২) এবং (৫) আগেকার অধিকার ও দায় (rights and liabilities) সম্পর্কিত, যা এসেছে GC আইনের 6(c) থেকে। ক্রিয়াপদ হিসাবে ১০৫(২)-তে আছে “খর্ব বা ক্ষুণ্ণ করিবে না” (nothing in this section shall diminish or prejudice) এবং ১০৫(৫)-এ আছে “অব্যাহত থাকিবে” (shall continue to be entitled to)। GC আইনের 6(b) থেকে 6(e)-তে একটাই ক্রিয়াপদ: to affect. আভিধানিক অর্থে বাড়ানো বা কমানো দুটোতেই affect হয়। কিন্তু এটা উনিশ শতকের শেষদিকের আইন। সেযুগে আইনের পরিভাষায় affect বলতে কি বোঝাত? ১৯১০ সালে প্রকাশিত ব্ল্যাকের আইন অভিধান অনুসারে “This word is often used in the sense of acting injuriously upon persons and things.” অর্থাৎ সেযুগের আইনি ব্যবহারে affect দিয়ে কমানো বোঝায়, বাড়ানো নয়। সেজন্যেই ১০৫ ধারায় “খর্ব বা ক্ষুণ্ণ করিবে না” লিখেছে। “অব্যাহত থাকিবে”-কেও এভাবেই বুঝতে হবে, কারণ GC আইনে দুটোই affect.
      • এবার অন্য ধারা দেখা যাক। ধারা ২৪ অনুসারে এক আইন রহিত হয়ে একই বিষয়ে পরিবর্তনসহ বা অপরিবর্তিত ভাবে নতুন আইন হলে, পুরনো আইনের অধীনে জারি করা ব্যবস্থাগুলি চলতে থাকবে, যদি না তা নতুন আইনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ (inconsistent) হয়, এবং ধরে নেওয়া হবে যে নতুন আইন অনুসারে এই ব্যবস্থাগুলি চলছে; এবং পরে নতুন আইনের কোন ব্যবস্থা পরিবর্তিত (superseded) হলে পুরনো ব্যবস্থাগুলিও পরিবর্তিত হবে।
      • GC আইনের ৬ ও ২৪ নং ধারা থেকে এই ব্যাখ্যাই দাঁড়ায় যে কপিরাইটের মেয়াদ সংক্রান্ত আগের আইনের ব্যবস্থা পুরনো বইয়ের জন্য নতুন আইন অনুসারে চলতে থাকবে কিন্তু সময়টা নতুন আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য ৫০-এর জায়গায় ৬০ বছর হবে।
  • ব্যবহারিক উদাহরণ বিষয়ে লক্ষ লক্ষ উদাহরণের নামে আপনি দিয়েছেন শুধু ভারতীয় বইয়ের উদাহরণ (দেশে বিদেশে ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে প্রথম প্রকাশিত)। বড় বড় প্রকাশকদের আইনি টিম থাকে, ফলে তারা আইনি পরামর্শ সহজেই পেতে পারে, chilling effect-এর কোন সম্ভাবনাই নেই। মূল কোম্পানি বইয়ের প্রকাশ ও বিক্রি চালাতে থাকলে একই দেশে অন্য কোম্পানিকে লাইসেন্স দেয় না, দিলেও একসঙ্গে অনেক কোম্পানিকে দেয় না। License fee, chilling effect, বিখ্যাত বই না থাকা, এসব শুধুই অযুক্তি। পুরনো বইয়ের কপিরাইটের মেয়াদ যে বাড়ে নি, সেটা বাংলাদেশের প্রকাশকরা বুঝতে পারল না, আর আপনি শুধু একাই বুঝতে পারলেন? আর এটা আদালত নয়, একটা আলোচনাসভা। এখানে এভিডেন্স অ্যাক্ট দেখিয়ে ব্যবহারিক উদাহরণকে পাশ কাটানো যায় না।
  • যাক, প্রকাশকরা না হয় নাই বুঝল, বাংলাদেশের বিদ্বজ্জনরাও কি বোঝে নি? বাংলাপিডিয়া একটা সরকারি প্রকাশনা। সেখানে কপিরাইট নিবন্ধে লিখেছে “In the Bangladesh Copyright Act 2000, the period has been fixed at 60 years.” কপিরাইটের দুরকম ব্যবস্থা থাকলে এখানে লিখল না কেন? এছাড়া এই নিবন্ধটা দেখুন। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়-স্তরের আইনবিদদের লেখা, ২০০০-এর আইনের ওপরে। এখানেও ৬০ বছর দিয়েছে, পুরনো বইয়ের জন্য আলাদা ব্যবস্থার কথা কিছু লেখেনি। এরকম আরও কিছু লেখা পড়লাম, কোথাও দুরকম ব্যবস্থার কথা (৬০ ও ৫০) লেখা নেই। বাংলাদেশের ৬০-অনুত্তীর্ণ পুরনো বইয়ের সংখ্যা এখনও বিশাল। সেইসব বইয়ের আলাদা কপিরাইট মেয়াদের কথা কেউ কিছু লিখছে না কেন? কেউ কি এটা জানে না?

সব দেখেশুনে আমি যা বুঝলাম, এই দুরকম কপিরাইট-মেয়াদের ব্যবস্থা শুধু আপনার কল্পনাতেই আছে, আর কোথাও নেই। উইকিমিডিয়া প্রকল্পগুলিতে বক্তব্য-প্রতিষ্ঠার জন্য secondary ও tertiary source-এর কদর আছে, কিন্তু আইনগুলি সবই primary source. কাজেই আপনার বক্তব্যটাকে অরিজিন্যাল রিসার্চের পর্যায়ে ফেলা যেতে পারে। আমি একজন সাধারণ বুদ্ধিসম্পন্ন সাধারণ সম্পাদক, কোন আইনজ্ঞ নই। কিন্তু এটুকু বলতে পারি যে অরিজিন্যাল রিসার্চের উপর ভিত্তি করে (যেটা আদৌ আমার কাছে convincing মনে হয়নি) কপিরাইটের মত জটিল বিষয়ে উইকিসংকলনে এত বড় একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে না। আপনি আপনার এই রিসার্চ কোন প্রতিষ্ঠিত আইনের জার্নালে প্রকাশ করতে পারেন। তারপর peer review-তে যদি দেখা যায় যে প্রতিষ্ঠিত আইন-বিশারদরা আপনার বক্তব্যকে সমর্থন করছেন, তখন আপনার নিবন্ধকে রেফারেন্স হিসেবে দেখিয়ে উইকিসংকলনে পরবর্তী পদক্ষেপ করা যেতে পারে।

আমাদের বিতর্ক অনেক হলো, এবার দেখা যাক, অন্য সম্পাদকরা কি বলেন। হৃষীকেশ (আলাপ) ১৩:২৯, ৩০ মার্চ ২০২৬ (ইউটিসি)উত্তর দিন

ব্যস্ততার জন্য শুধুমাত্র কিছু পয়েন্ট উল্লেখ করছি
১। "অব্যাহত" এর সাথে এর সময়কালও বলা আছে "তাহার ক্ষেত্রে এই আইন কার্যকর না হইলে যে সময়ের জন্য তিনি ঐরূপ অধিকার বা স্বার্থের অধিকারী হইতেন", অর্থাৎ এইখানে সময়কাল দেওয়া আছে, যে পূর্বের সময়কাল বজায় থাকবে। আইনসভা যখন পরিষ্কার করে বলছে ‘আইন পাস না হলে যা হতো, তা-ই থাকবে’, তখন তারা মূলত একটি Time-lock বা মেয়াদের সীমা টেনে দিয়েছে।
২। কপিরাইট কোনো ‘প্রাকৃতিক অধিকার’ বা ‘সংবিধানের মৌলিক কাঠামো’র অংশ নয়। এটি একটি Statutory Right বা আইন দ্বারা সৃষ্ট অধিকার। বিধিবদ্ধ আইনের ক্ষেত্রে বিচারিক ব্যাখ্যা তখনই ‘Spirit’ খোঁজে, যখন আইনের ভাষা অস্পষ্ট থাকে। বাংলাদেশের ২০০০ সালের আইনের ১০৫(৫) ধারার ভাষা অত্যন্ত গাণিতিক এবং স্বচ্ছ। যেখানে ভাষা স্পষ্ট, সেখানে ‘Spirit’-এর দোহাই দিয়ে অতিরিক্ত ১০ বছর যোগ করা আইনসভার ক্ষমতার ওপর হস্তক্ষেপের শামিল।
৩। GCA-এর ২৪ নম্বর ধারা প্রযোজ্য হয় তখন, যখন নতুন আইন পুরোনো আইনের কোনো প্রবিধান বা আদেশ সম্পর্কে নীরব থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের ২০০০ সালের আইনের ১০৫(৫) ধারাটি একটি Explicit Saving Clause। GCA-এর ৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী, যখন কোনো আইন রহিত হয়, তখন নতুন আইনে ‘ভিন্নরূপ উদ্দেশ্য’ (Different intention) না থাকলে পুরোনো মেয়াদের কাঠামোই বজায় থাকে। ১০৫(৫) ধারাটিই হলো সেই ‘ভিন্নরূপ উদ্দেশ্য’ যা নিশ্চিত করেছে যে পুরোনো কর্মগুলো নতুন আইনের ‘৬০ বছর’ মেয়াদের ছাঁচে পড়বে না।
৪। একাডেমিক নিবন্ধ বা এনসাইক্লোপিডিয়া সাধারণত আইনের মূল সুর (General Rule) নিয়ে আলোচনা করে, তারা প্রতিটি আইনের Transitional Provisions বা ‘সংক্রমণকালীন বিধান’ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে না। ল জার্নালের সাধারণ আলোচনা কখনোই আইনের বিধিবদ্ধ ধারাকে বাতিল করতে পারে না। নীরবতা মানেই এই নয় যে আইনটি পরিবর্তিত হয়ে গেছে।
৫। আইনের কোনো ধারা নিয়ে যদি দুটি ব্যাখ্যার সুযোগ থাকে, তবে আদালত সবসময় কোন ব্যাখ্যাটি বেছে নেবে? যা জনসাধারণের তথ্য পাওয়ার অধিকারকে (Public Access) প্রসারিত করে নাকি স্রষ্টার একচেটিয়া অধিকার। ১০৫(৫) ধারা যেহেতু পুরোনো মেয়াদের (৫০ বছর) দিকে সরাসরি নির্দেশ করছে, তাই একে টেনে বড় করার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা বা যৌক্তিকতা নেই।
৬। বাংলাদেশে কপিরাইট লঙ্ঘনের হাজারো মামলা কেন হচ্ছে না? কারণ কপিরাইট এনফোর্সমেন্ট এমনিতেই দুর্বল। এই দুর্বলতাকে আইনের ‘বৈধতা’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়া যায় না। আবার এই ১০ বছরের সময়কালের বাংলাদেশে প্রথম প্রকাশ বই খোঁজা কষ্টকর।
৭। ভারতীয় মেয়াদ "সংশোধনী" আইন দ্বারা বেড়েছে। এই আলাদা আইনটি খুলে দেখতে পারেন। সেখানে ভুতাপেক্ষিতার যে ধারা আছে সেখানে মেয়াদের ধারাটি নেই।
৮।আবার ১০৫(৫)কে যদি আপনি না মানেন তাহলে ১৯৯০-২০০০ যে বই পাবলিক ডোমেইনে ঢুকেছে, সেটা আবার ফেরত আসার কথা।
আমার বাসা থেকে কপিরাইট অফিস দূরে নয়। এই মাসের মঝামাঝি সময়ে আবার যাবো। তবে তাদের থেকে লিখিত কিছু আশা করা বৃথা। Tausheef Hassan (আলাপ) ১৭:১০, ৪ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)উত্তর দিন
আপনার যুক্তিগুলো বেশিটাই অযুক্তি। কপিরাইট আইন আপনি বুঝতে পারেন নি, কারণ আপনি এই আইনের উদ্দেশ্যটাই জানেন না। কপিরাইট আইন জনসাধারণের তথ্য পাওয়ার অধিকার-এর জন্য তৈরি হয় না, কপিরাইট-হোল্ডারদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং কপিরাইট-ভঙ্গকারীদের শাস্তির ব্যবস্থা করাই এই আইনগুলির লক্ষ্য। বাংলাদেশের কপিরাইট আইন নিয়ে লেখা এই নিবন্ধে Objectives of the Copyright Law অনুচ্ছেদ লক্ষ্য করুন: The motive of this law is to save the proprietor of the work from an unlawful reproduction or exploitation of his work by others. অর্থাৎ এখানে জনসাধারণের অধিকারের কোন গল্পই নেই। বরং জনসাধারণকে কিভাবে অধিকার না দেওয়া যায় এবং দিলেও কিভাবে তাতে যতটা সম্ভব দেরি করা যায় সেটা দেখাই কপিরাইট আইনের লক্ষ্য। সেজন্যই সারা পৃথিবী জুড়ে দিন কে দিন কপিরাইটের মেয়াদ বেড়েই চলেছে। বার্ন কনভেনশনে মরণোত্তর অন্তত ৫০ বছরের ব্যবস্থা থাকলেও সদস্য দেশগুলি যে যতটা পারে বাড়িয়ে নিয়েছে। আমেরিকা করেছে ৭০ বছর, মেক্সিকো ১০০ বছর। WTO-র চুক্তির দরুণ যেসব দেশ বিদেশি বইয়ের কপিরাইট মানত না, তাদেরকেও মানতে হচ্ছে। বাংলাদেশ তো আরও এককাঠি ওপরে। সচরাচর অধিকাংশ দেশই সরকারি কর্মের ওপর কিছু না কিছু Edict-Gov provisions দিয়ে থাকে, কিন্তু বাংলাদেশ সেটাও তুলে নিয়েছে তাদের ২০২৩-এর আইনে।
  • এই কারণেই কপিরাইট আইনের ব্যাখ্যা এমন ভাবে করতে হয় যাতে তা কপিরাইট-হোল্ডারদের পক্ষে যায়। তা না করলেই সেই ব্যাখ্যা ভুল পথে যাবে।
  • বিধিবদ্ধ আইনের ক্ষেত্রে বিচারিক ব্যাখ্যা তখনই ‘Spirit’ খোঁজে, যখন আইনের ভাষা অস্পষ্ট থাকে। — এটাও ভুল কথা। এজন্যেই আপনাকে ওপরে ভারতের 377 IPC-র উদাহরণ দিয়েছি, যা ভারতের সুপ্রিম কোর্ট নাকচ করে দিয়েছে।
  • GCA-এর ২৪ নম্বর ধারা প্রযোজ্য হয় তখন, যখন নতুন আইন পুরোনো আইনের কোনো প্রবিধান বা আদেশ সম্পর্কে নীরব থাকে। — এটাও ভুল কথা। কারণ ঐ ধারায় “unless it is otherwise expressly provided” — এই বাক্যবন্ধ আছে। ফলে শুধু নীরব থাকলে হবে না, বরং উল্টো কথা বলতে হবে।
  • ১০৫(৫) ধারা কোন ভিন্নরূপ উদ্দেশ্য নয়, তার উদ্দেশ্য কপিরাইটভোগীর “অধিকার বা অধিকারের অন্তর্গত কোন স্বার্থের” বিষয়ে; ফলে এটা GCA 6(c)-এর “the repeal shall not affect any right, privilege,”-এর আওতায় পড়ে। বরং এই উপধারায় উক্ত “এই আইনে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে” বক্তব্য অনুযায়ী ভিন্নরূপ বিধান আছে, তা হলো নতুন আইনের ধারা ২৪।
  • ভারতীয় সংশোধনীী আইন অন্য আইনকে রহিত করেনি, কাজেই তাতে রহিতকরণ ধারা কারণ ছাড়া কেন থাকবে? শুধু মূল আইন চালু হওয়ার পর বিগত-কপিরাইট বইয়ের কপিরাইট ফেরত না আসার উপধারাটা দরকার ছিল, তাই আছে। বাকি ব্যবস্থা তো মূল আইনেই আছে।
  • ভারতের ১৯৫৭ আর বাংলাদেশের ২০০০-এর আইনে যে ছত্রে ছত্রে মিল, তা পাশাপাশি পড়লেই বোঝা যায়। কাজেই সম্পূর্ণ একরকম ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও ভারতে কপিরাইটের মেয়াদ বাড়তে পারলে বাংলাদেশে না বাড়ার কোন কারণই নেই। এর ব্যাখ্যায় ভারতের ব্যবস্থাকে sloppy বলা আর সংশোধনী আইনে রহিতকরণ ধারা নেই বলে কপিরাইট বেড়েছে বলা অযুক্তি আর কুযুক্তি ছাড়া কিছু নয়।
  • ল জার্নালের সাধারণ আলোচনা কখনোই আইনের বিধিবদ্ধ ধারাকে বাতিল করতে পারে না। — এটাও কুযুক্তি, কারণ আপনি প্রমাণই তো করতে পারেননি যে আপনার বক্তব্যটা বিধিবদ্ধ।
  • এখন এই বিতর্কের যা পরিস্থিতি, আপনার একার বক্তব্যে আর এই প্রস্তাব দাঁড়াবে না। কাজেই এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের সমর্থন লাগবে, প্রকাশিত বই বা জার্নাল থেকে। আপনি যদি এই অবস্থান নেন যে বিশেষজ্ঞরা এ-জাতীয় চুলচেরা বিশ্লেষণ করে না, তাহলে তো প্রস্তাবের সেখানেই ইতি।

হৃষীকেশ (আলাপ) ১২:০৯, ৬ এপ্রিল ২০২৬ (ইউটিসি)উত্তর দিন