পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/১৮১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমার নিজের অভিজ্ঞতা হইতেই জানি যে, যাহারা কাজের লোক, তাহাদের সময়ের অভাব হয় না। যাহারা অলস, যাহাদের কাজে শঙ্খলা নাই, তাহারাই কেবল দৈনন্দিন কাজে বা কোন জরুরী কাজের জন্য সময়ের অভাবের কথা বলে। ক্লমওয়েল ১৬৫০ খঃ ৩রা সেপ্টেম্বর ডানবারের যন্ধে পরিচালনা করেন। সমস্ত দিন যন্ধে করিয়া ও পলাতক শত্রর পশ্চাৎ ধাবন করিয়া কাটে। “পরদিন ৪ঠা সেপ্টেম্বর সকালে লর্ড জেনারেল (ক্রমওয়েল) বসিয়া পর পর সাতখানি পত্র লেখেন। তাহার মধ্যে একখানি পীকার লেনথলের নিকট আট পৃষ্ঠাব্যাপী ডেসপ্যাচ। আর একখানি তাঁহার প্রিয়তমা পত্নী এলিজাবেথের নিকট এবং তৃতীয়খানি প্রিয় ভ্রাতা রিচার্ড মেয়রের নিকট। রিচার্ড মেয়র ক্রমওয়েলের পত্রের শবশরে বা বৈবাহিক ছিলেন। (ক্রমওয়েল, দ্বিতীয় খণ্ড, ミoぬーミG *U3) ১৬৫১ খৃঃ ৩রা সেপ্টেম্বর ওরস্টারের যন্ধে হয়। ক্রমওয়েল স্বয়ং ষন্ধে পরিচালনা করেন। সমস্ত দিন সকচেরা ভীষণ যন্ধে করে। ক্রমওয়েল রণক্ষেত্রে নিজের জীবন বিপন্ন করিয়া সৈন্য চালনা করেন। ৪ ৫ ঘণ্টা তুমলে সংগ্রাম হয়। ঐ দিন রাত্রি ১০টার সময় হঠাৎ যন্ধে-বিরতির পরই ক্রমওয়েল স্পীকার লেনথলকে যন্ধের একটি বর্ণনা প্রেরণ করেন। “আমি ক্লান্ত, লিখিতে ইচ্ছা হইতেছে না, তব, আপনাকে এই বিবরণ প্রেরণ করা কতব্য বোধ করিতেছি।” (৩২৫–৩২১ পঃে।) আমি উপরোক্ত দষ্টান্তগুলির দ্বারা ইহাই দেখাইতে চেষ্টা করিয়াছি যে, মহৎ ব্যক্তিদের সংযম-শক্তি ও আত্মসমাহিত ভাব অসাধারণ; তাঁহাদের কার্যপ্রণালীর মধ্যে নিয়ম ও শঙ্খলা আছে, এবং সেই জনাই তাঁহারা বর্য বিষয়ে মন দিতে পারেন ও সব কাজই সসম্পন্ন করিতে পারেন। কালাইল বীর-উপাসক ছিলেন। তিনি ক্রমওয়েলকে বলিয়াছেন, ইংলন্ডের সবাপেক্ষা মহৎ চরিত্র। এ বিষয়ে অবশ্য মতভেদ থাকিতে পারে। জনৈক :: লাল মল অফ কে ক’লে - ৫ = না।” আর একটি দন্টান্ত দেই! মনস্তাফা কামাল পাশার স্বদেশবাসিগণ তাঁহাকে নব্য তুরস্কের রক্ষাকতা বলিয়া পজা করেন। কামাল পাশা একাধারে যোদ্ধা, রাজনীতিক, সমাজ-সংস্কারক। তিনি আঙ্গোরা সম্পকে সমস্ত কাজই করিবার সময় পান, মন্ত্রীদের সঙ্গে সমস্ত গরতের বিষয়ে আলোচনা করেন এবং তাঁহাদিগকে কাযে অন্যপ্রাণিত করেন। তাঁহার বহমখোঁ কাষশক্তির গনপত রহস্য কি ? মিস গ্রেস এলিসন সেই কথাটি সংক্ষেপে বলিয়াছেন —“মোস্তাফা কামাল পাশার মনঃসংযোগ শক্তি অসাধারণ। তিনি মহত্যের মধ্যে যে কোন বিষয়ে মন দিতে পারেন এবং সেই সময়ে পাব মহেতের সমগ্র চিন্তা ভুলিয়া যান।”—বতমান তুরস্ক, ১৮ পঃ । আর একটি জীবন্ত দষ্টান্ত দিতেছি, তিনি প্রেম ও অহিংসা সংগ্রামের মত বিগ্রহ। মহাত্মা গান্ধীর কমশখেলা ও সময়ানবেতিতা অসাধারণ, তিনি গরতের বিষয় সম্পকে বড়লাট ও স্বরাষ্ট্ৰ সচিবের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করিতেছেন, পত্র লিখিতেছেন, প্রত্যহ তাঁহার নিকট দেশদেশান্তর হইতে শত শত পত্র টেলিগ্রাম আসিতেছে। বহলোক বিভিন্ন প্রয়োজনে তাঁহার সঙ্গে সাক্ষাৎ করিতেছে; তিনি তাহাদের কথা শুনিতেছেন, ইয়ং ইণ্ডিয়ার জন্য প্রবন্ধ লিখিতেছেন এবং আরও বহন কাজ করিতেছেন–কিন্তু এই সমস্ত গরতের কাজের মধ্যেও, তাঁহার অসংখ্য বন্ধ ও সহকমীদের নিকট নিজে উদ্যোগী হইয়া পত্র লিখিবার সময় তিনি পান। আমি চিরদিনই তাঁহার মাল্যবান সময় নষ্ট করিতে বিধা বোধ করিয়াছি। গত দই বৎসরের মধ্যে তাঁহাকে কোন পর লিখিয়াছি বলিয়া মনে