পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/৩০৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চিনি রপ্তানী হইল। বাংলা হইতে ইয়োরোপে কয়েক বৎসর পবেই চিনি রপ্তানী সর হইয়াছিল। এখনও উহা রপ্তানী হইতেছে এবং এই রপ্তানীর পরিমাণ প্রতি বৎসর বাড়িয়া যাইবে ও ইয়োরোপের বাজারে মল্য বধির সঙ্গে সঙ্গে বাংলার লাভ হইবে তাহাতে সন্দেহ নাই। ওয়েস্ট ইন্ডিসও এই লাভের কিয়দংশ পাইবে। “বেনারস হইতে রংপুর, আসামের প্রান্ত হইতে কটক পর্যন্ত, বাংলা ও তৎসংলগ্ন প্রদেশে প্রায় সকল জেলায় আখের চাষ হয়। বেনারস, বিহার, রংপুর, বীরভূম, বন্ধমান এবং মেদিনীপরেই আখের চাষ হয়। বাংলা দেশে প্রভূত পরিমাণে চিনি উৎপন্ন হয়। যত চাহিদাই হোক না কেন, বাংলা দেশ তদনরপে চিনি যোগাইতে পারে বলিয়া মনে হয়। বাংলার প্রয়োজনীয় সমস্ত চিনি বাংলা দেশেই তৈরী হয় এবং উৎসাহ পাইলে বাংলা ইয়োরোপকেও চিনি যোগাইতে পারে। “বাংলায় খুব সস্তায় চিনি তৈরী হয়। বাংলায় যে মোটা চিনি বা দলয়া তৈরী হয়, তাহার ব্যয় বেশী নহে—হন্দর প্রতি পাঁচ শিলিংএর বেশী নয়। উহা হইতে কিছু অধিক ব্যয়ে চিনি তৈরী করা যাইতে পারে। ব্রিটিশ ওয়েষ্ট ইণ্ডিসে তাহার তুলনায় ছয় গণ ব্যয় পড়ে। দই দেশের অবস্থার কথা তুলনা করিলে এরপ বায়ের তারতম্য আশ্চর্যের বিষয় বোধ হইবে না। বাংলা দেশে কৃষিকাষ অতি সরল স্বল্পব্যয়-সাধ্য প্রণালীতে চলে। অন্যান্য বাণিজ্য-প্রধান দেশ হইতে ভারতে জীবনযাত্রার ব্যয় অতি অলপ। বাংলা দেশে আবার ভারতের অন্যান্য সকল প্রদেশ হইতে অলপ। বাঙালী কৃষকের আহাষ ও বেশভূষায় ব্যর অতি সামান্য, শ্রমের মল্যও সেই জন্য খুব কম। চাষের যন্ত্রপাতি সন্তা। গো-মহিষাদি পশ্যও সস্তায় পাওয়া যায়। শিল্পজাত তৈরীর জন্য কোন বহনব্যয়সাধ্য যন্ত্রপাতির দরকার হয় না। কৃষকেরা খড়ের ঘরে থাকে, তাহার যন্ত্রপাতি উপকরণের মধ্যে, একটিমাত্র সহজ যাতা, কয়েকটি মাটীর পাত্র। সংক্ষেপে, তাহার সামান্য মলধনেরই প্রয়োজন হয় এবং উৎপন্ন আখ ও গড় হইতেই তাহার পরিশ্রমের মল্যে উঠিয়া যায় এবং কিছ লাভও হয়।” o—Remarks on the Husbandry and Internal Commerce of Bengal, pp. 78–79. এই কথাগুলি প্রায় ১৩০ বৎসর পবে লিখিত হইয়াছিল এবং যে বাংলাদেশ এক কালে সমস্ত পথিবীর বাজারে চিনি যোগাইত তাহাকেই এখন চিনির জন্য জাভার উপর নিভর করিতে হয়। উন্নত বৈজ্ঞানিক কৃষি প্রণালীর ফলে কিউবা ও জাভা এখন অত্যন্ত সন্তায় চিনি রপ্তানী করিয়া পথিবীর বাজার ছাইয়া ফেলিয়াছে। বতমানে (১৯২৮— ২৯) জাভা হইতে ভারতে বৎসরে প্রায় ১৫ । ১৬ কোটী টাকার চিনি আমদানী হয় এবং এই চিনির অধিকাংশ বাংলা দেশই কয় করে। বর্তমান সময়ে চিনি এদেশেই প্রধানতঃ প্রস্তুত হইতেছে, অতিরিক্ত শলক বসাইয়া জাভার চিনি একবারে বন্ধ হইয়াছে। কিন্তু তাহাতে বাংলার কোন লাভ নাই। এই চিনি বিহার ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল হইতে আমদানী হয়, সতরাং বাংলার টাকা বাংলার বাহিরে যায়। w পাট এখন বাংলার, বিশেষতঃ উত্তর ও পব’ বঙ্গের, প্রধান ফসল! কিন্তু ১৮৬০ সালের কোঠায় পাট যশোরে অলপ পরিমাণ উৎপন্ন হইত এবং তাহা গহসেম্বর দড়ি, বসতা প্রভৃতি তৈরী করার কাজে লাগিত। এই সব জিনিষ হাতেই সন্তা কাটিয়া তৈরী হইত। ভদ্র পরিবারের পরষরাও অবসর সময়ে পাটের সভ্যতা বেনা, দড়ি তৈরী প্রভৃতির কাজ করিত। বাজারে পাটের দর ছিল ১০ মণ। কিন্তু পাটের চাষ ক্ৰমশঃ বাড়িয়া যাওয়াতে বাংলার আর্থিক অবস্থার ঘোর পরিবর্তন ঘটিয়াছে।