পাতা:আরোগ্য - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৪০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেবার দায় আমার নয়—তোমাকে শুধু গলদ চিনিয়ে দেওয়া আমার কাজ। জানিবার বুঝবার পরেও গলদ থেকে যেতে পারে, তোমার ইমোশনকে কণ্টেল করতে পারে।-কিন্তু তখন তার একটা লিমিট থাকবে । ইমোশনের গোলমাল এতটা চড়বে না যাতে অসুখটার লক্ষণ প্ৰকাশ পেতে পারে। বুঝতে পারছি কথাটা ? হিষ্টিরিয়ার জন্য একটা বিশেষ মানসিক অবস্থা দরকার-সেজন্য ইয়াং গালদের মধ্যে এ রোগট। বেশী দেখা যায়। এই মানসিক অবস্থার আসল কথাটা কি ? ভুল ধারণা বদ্ধমূল হবে-দেহ মনের কাজ নিয়ন্ত্রণ করবে। তোমার বুঝবার মত করেই বলি। যেমন ধরো, হিষ্টিরিয়ার কান্না । ছেলে মরে গেলে মা পাগলের মত কঁাদে ।। তার কান্নার মানসিক কারণটা শোক । কিন্তু এটা হিষ্টিরিয়া নয়। এইজন্য যে ওই মানসিক কারণটার একটা বাস্তব কারণ আছে-ছেলের মরণ । এই বাস্তব কারণটা বাদ দিলেই মার কান্নাটা হয়ে যাবে হিষ্টিরিয়া কান্না । ছেলে মরে নি। অথচ এরকম কি করে হওয়া সম্ভব ? ছেলে না। মরলেও মারা মনে যদি ধারণা জন্মায় যে তার ছেলে সত্যি মরে গেছে-মনের ওই ভুল ধারণাটা তখন শোকের কারণ হয়ে মাকে কঁাদাবে। প্রক্রিয়াটা বুছতে পারছি ?

পারছি।
হিষ্টিরিয়ার একটা লক্ষণ ধরা যাক। আত্মীয় স্বজন বন্ধু-বান্ধবের কাছে যতখানি দরদ আর সহানুভূতি পেলে সুস্থ মানুষের চলে যায় -রোগীর তাতে চলে না । তার একটা ভুল ধারনা জন্মায় যে তাকে সকলের আরও বেশী ভালবাসা উচিত, তাকে নিয়ে সকলের আরও বেশী ব্যস্ত আর বিব্রত হওয়া উচিত। অন্যভাবে উচিতটা

হয় না দেখে সে রোগের ভান করবে। তার ধারণা, রোগ হয়েছে। SSOVе