পাতা:আরোগ্য - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৫০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


: কিছু কিছু টের পেয়েছে বৈকি। একি একেবারে গোপন থাকে মেয়েদের কাছে ? মায়ার মুখে আজ এ কি ধরণের কথা ! কেশব যেন আকাশ থেকে পড়ে ।

কি করে টের পায় মেয়ের ? তুমি জানতে দিয়েছ ?

মায়া যেন একটু ভয় পেয়ে যায়।

তার মানে ? আমি জানতে দেব কি গো । আমার কি মাথা খারাপ ? চালচলন দেখে মেয়েরা এমনিই টের পেয়ে যায় । এতকাল

ধরে আমরা মায়া আর জের টানে না তার কথার । গলা চড়ানোর উপায় নেই, কেশব তাই মুখ খিচিয়ে বলে, এ্যাদিন বল নি কেন মেয়ের টের পেয়ে গেছে ? মায়া দিতে র্দাত লাগিয়ে মিনিট খানেক বিস্মফারিত চোখে ত বিকৃত মুখ ভঙ্গির দিকে চেয়ে থাকে । আজ পৰ্য্যন্ত বিনা বিচারে সে কেশবের সমস্ত অসভ্যতা সঙ্কীর্ণতা অন্যায় স্বার্থপরতাকে প্রশ্রয় দিয়ে এসেছে । সে তো জানে ভালবাসার এটাই নিয়ম । মানুষটা মোটর চালায় । সহরে অর্দেকের বেশী জীবন কাটায় । দেবতা মানে না, আচার মানে না, সংসার মানে, নিয়ম মানে না-বাড়ীতে এসব যারা মানে সকলে তারা তার ভয়ে কেঁউ কেঁউ করে । এ মানুষটার ভালবাসা পেতে হলো নিজেকে সাপে দিতেই হবে। সীতার মত সাবিত্রীর মত নিজেকে সাপে দেবার সাধ্য তার নেই। সীতা বা সাবিত্রী কেন, সাধারণ একটা পুরুষের সাধারণ একটা ঘরণী হয়ে খুব কষ্টকর জীবন কাটিয়েও নিজেকে ধন্য করার সাধ্য তার নেই । র >8ぐの