পাতা:আরোগ্য - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/২৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বাড়ী আর ওই আপন জনদের জন্য তার এত টান ? এ একেবারে অসম্ভব কথা ! মাঝে মাঝে গেলে অবশ্য আলাদা কথা ছিল। আজও এ্যাকসিডেণ্টের দৌলতে সকাল সকাল ছুটি পেয়ে কেশব বাড়ীর দিকে ছুটেছে শুনে সে হেসে বলে, বাড়াই যে যায় তোমরা জানলে কি করে ? সঙ্গে গিয়েছে। কোনদিন ? মেয়ের কথার গতি অনুমান করে তার মা নিৰ্ম্মলা । ভুরু কুঁচকে বলে, কি বলছিস তুই ।

বলছি, বাড়ী যায় না হাতি ! কোথায় আড আছে নয়। ইয়ে টিয়ে আছে

ঃ চুপ কর ললনা ! ধমক নয় । সে সাহস নিৰ্ম্মলার নেই। এতবড় স্বাধীনচেতা মেয়ে! বিরক্তি আর বেদনার সঙ্গে শুধু প্ৰতিবাদ জানালো যে পাঁচজনের সামনে কোন মেয়ের মুখে একটা পুরুষের রাত করে ইয়ে টিয়ের কাছে যাওয়ার কথা বলা শোভা পায় না । মারি ক্ষোভ ললনা টের পায় । কিন্তু ভেবে পায় না তার শিক্ষিতা একেলে মায়ের এটা কিসের সংস্কার, কোথা থেকে এল ! সংসারের সাধারণ একটা বাস্তব কাৰ্য্যকারণ নিয়ে ইঙ্গিত করাটা কেন মার কাছে দোষনীয় ঠেকে কে জানে । বাড়ীই ফিরে যাচ্ছিল কেশব । কিন্তু বেলায় রওনা দিয়েও বোসপাড়া পৌছতে তার সন্ধ্যা পেরিয়ে গেল । হারেনের মোটর মেরামতীর গ্যারেজের হেড মিস্ত্রী কানুকে বলে যেতে হবে, ভোরে তার সঙ্গে গিয়ে আনিমেষের গাড়ীটি পরীক্ষা করে দেখবে যে দুর্ঘটনায়, রোগ-ব্যারাম কিছু হয়েছে নাকি । অনিমেষ তো তাকে বলেই খালাস । তার বিশেষ, বন্ধু হলেও > G9