পাতা:কলিকাতা সেকালের ও একালের.djvu/১৩৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


&৯: কলিকাতা সেকালের ও একালের । আবার তাহার দমনের জন্য অগ্রসর হন। ওসমান পরাস্ত হইয়া, শাস্তভাব ধারণ কৰিলে, মানসিংহ বিক্রমপুর ও শ্ৰীপুর অধিকারের জন্ত, মনোনিবেশ করেন । কেদাররায়ও তাঁহাকে বাধা প্রদানের জন্য উদ্যোগী হন। কেদারস্বায়, অদ্ভুত বীরত্ব প্রকাশ করিয়া, মানসিংহকে চমকিত করিলেন। কিন্তু পরিণামে র্ত্যহাকে পরাস্ত হইতে হইল। কথিত আছে—যে মানসিংহ কেদাররায়কে তাহার রাজ্য পুনঃ প্রদান করেন। এই সময়ে কেদাররায়ের কুলদেবতা, শিলামাতাকেও মানসিংহ অম্বরে লইয়া যান। প্রবাদ এই শিলামাতা আজও জয়পুরের প্রাচীন রাজধানী অম্বরে বিরাজ করিতেছেন ।* কেদাররায় পরাস্ত হইয়া, মানসিংহের অধীনতা স্বীকার করিয়াছিলেন বটে, কিন্তু তিনি পুনরায় আপনার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন । আরাকান রাজ সেলিম-সাও, তাহার গোলন্দাজ সেনা ও রণতরী লইয়া, বাঙ্গলা আক্রমণের জন্য অগ্রসর হন। কিন্তু তিনি কেদাররায়ের পরাক্রম, বিশেযভাবে অবগত ছিলেন। কেদাররায়ের সহিত সংঘর্ষ উপস্থিত হইলে, তিনি যে কৃতকার্যা হইতে পরিবেন না, ইহাও তাহার অবিদিত ছিল না। এজন্য তিনি কেদাররায়ের সহিত মিলিত হইয়া, পূৰ্ব্ববঙ্গের অন্যান্য স্থান অধিকারের জন্য ইচ্ছা প্রকাশ করেন । কেদাররায় তাহার প্রস্তাবে সম্মত হইলে, উভয়ে একযোগে, অনেক স্থান মোগলের শাসন হইতে বিচ্ছিন্ন করিয়া লয়েন । ইতি পূৰ্ব্বে ইশাখার মৃত্যু হওয়ায়, সোণারগাঁ—মগরাজ ও কেদাররায়ের হস্তে পতিত হয় । কথিত আছে—সোণারঙ্গ আক্রমণ কালে, চাদরায়ের কন্যা সোণাবিবি, কেদাররায় ও মগদিগের সহিত ভয়ানক যুদ্ধ করিয়াছিলেন। কেদাররায় লজ্জায় ও ক্ষোভে, সোণারগণ পরিত্যাগ করিয়া চলিয়া আসেন । মোগলসৈন্যের উীহাদিগের গতিরোধ করিতে অসমর্থ হওয়ায়, পূৰ্ব্ববঙ্গের অনেক স্থান—মগরাজ ও কেদাররায়ের অধীনে আসে । পুনরায় পূর্ববঙ্গে অশান্তির আগুন প্ৰজলিত হইলে, মানসিংহ তাহ নিৰ্ব্বাণের জন্য, বিরাট আয়োজনে প্রবৃত্ত হন। র্তাহাকে সেলিমস ও কেদার রায়, উভয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধসজ্জা করিতে হয়। কিন্তু সুচতুর মানসিংহ, একবারে উভয়কে আক্রমণ করা যুক্তি সঙ্গত মনে না করিয়া, প্রথমে সেলিমসার বিরুদ্ধে

  • প্রতাপাদিত্যের যশোরেশ্বরী জাগ্রত দেবতা। উাহার প্রতাদেশ না লইয়া, প্রতাপ কোন কাৰ্য্যই করিতেন না। রাজা কেদাররায়ের ছিন্নমস্তাও (মল্লামাতা ?) সেইরূপ ছিলেন। জনপ্রবাদ এই--মোগলঘাতক কর্তৃক কেদাররায়ের ভূলুষ্ঠিত মস্তক—"ছিন্নমস্তে-নমস্তে"—বলিয়া নিজের ইঃ দেৰী নামোচ্চারণ করিয়াছিল। ( আনন্দবস্তুর দ্বাদশভৌমিক)