পাতা:কলিকাতা সেকালের ও একালের.djvu/৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কলিকাতার প্রাণ-প্রতিষ্ঠা। কলিকাতা সতর বলিয়া পরিচিত, সেই স্থান অধিকার করিয়া সেই ময়ে স্থতালুটা, গোবিন্দপুর ও কলিকাতা বলিয়া তিনখানি গগুগ্রাম ছিল। ভাগিরথীও সেই সময়ে অতি প্রচণ্ড বেগশালিনী ও বিস্তৃত-কায়া ছিলেন । স্বতালুট, কলিকাতা ও গোবিন্দপুর গ্রাম তিনখানি পাশাপাশি ছিল । ইহাদের চারিদিকেই ভীষণ জঙ্গল। গ্রাম গুলিকে দুইভাগে বিভক্ত করিয়া মধ্যে একটী গাত ছিল। কার সাধ্য—সন্ধ্যার পর এই সমস্ত গ্রামের পথে একাকী বাহির হইতে পারে । চারিদিকে নরঘাতী দক্ষ্য-তস্কর । স্বতালুটাতে—গঙ্গার উপকুলে একটা ক্ষুদ্র হাট ছিল। শেঠ ও বসুকের ( বসাকেরা ) সেই সময়ে স্থতালুটার প্রধান অধিবাসী ছিলেন। সুতার ব্যবসায়ই র্তাহীদের প্রধান উপজীবিকা । সুতালুটার হাটে, বৎসরের মধ্যে কয়েকট নির্দিষ্ট সময়ে, সুতা, কাপড় প্রভৃতি বিক্রয় হইত। এই সমস্ত পণ্য কিনিত—-ইউরোপীয় বণিকগণ । সেকালে বঙ্গদেশের হুতার, সূক্ষ্ম-কাটুনি জগত প্রসিদ্ধ। ইউরোপ খণ্ডে, বাঙ্গালার ঢাকাই মসলিনের বড় আদর। চরকা, কাটুন প্রভৃতির সহায়তায়—-সেকালে যেরূপ অতি সূক্ষ্ম সূতা এদেশে জন্মিত, আজকাল কলেও সেরূপ হয় না । তখন বঙ্গদেশে, ইংরাজ, পটুগীজ, দিনেমার প্রভৃতি বণিকগণ বাণিজ্য আরম্ভ করিয়াছিলেন । সপ্তগণমের পতনে, হুগলীর প্রাধান্ত বাড়িয়া উঠে । এই সমস্ত ইউরোপীয় সওদাগরেরা, এদেশের উৎপন্ন অনেক দ্ৰব্য-ইউরোপে, চালান দিতেন । সুতানুটীর হাট হইতে সকলকেই মুতা ও কাপড় কিনিতে হইত। সন্ধ্যার বিরল অন্ধকারে শরীর ঢাকিয়া, ধীর মন্থর গতিতে, জাহাজ কয়খানি সাখরাইল ছাড়াইয়া, বর্তমান খিদিরপুরের পাশ্ব দিয়া, ধীরে ধীরে সুতানুটী গ্রামের কাছে পৌছিল। নাবিকগণ যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়া, সেই প্রবল তরঙ্গের উপর ক্ষুদ্র “পিনেস" বা জালি-বোট নামাইয়া দিয়া, জাহাজ গুলি নঙ্গর করিল। তখন গঙ্গায় বয়া ছিল না, নঙ্গর করিবার জন্ত কোন বিশেষ ব্যবস্থা ছিল না। অপরস্তু সেই জঙ্গলময় স্থানে মোটা গুড়িওয়ালা গাছেরও—অভাব ছিলনা ক্ষুদ্র বাণিজ্য জাহাজগুলি—বৃক্ষের মূলেই রজ্জ্ব দিয়া বাধা হইল। ثم ني t সেই বজরার মধ্য হইতে, একজন ইংরাজ একখানি পিনেসের সাহায্যে সদাতারে উপস্থিত হইলেন। নদীতীর হইতে স্বতালুটার বাজারের দিকে ধীরগতিতে ༈་བཀའ་ হইলেন। সেখানে গিয়া যাহা দেখিলেন, তাহাতে