পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/৩৯৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২৩৪ তারার ধ্যান—প্রত্যালীঢ় পদাং ঘোরাং মুণ্ডমালাবিভূষিতাং । [ মহাভারত । মহারথীগণ সব রক্ষা করে দ্বার । ইহার উপায় এক করহ বিচার ॥ অৰ্জ্জুন বলেন ভেরী রৈল মম ভাগে । শ্ৰীকৃষ্ণ বলেন নিবারিব দুই নাগে ॥ ভীম বলিলেন মম পৰ্ব্বতের ভার । অন্য পথে যাব পুরে না যাইব দ্বার ॥ এইরূপ বিচার করেন তিনজন । দ্বার ত্যজি করিলেন গিরি আরোহণ ॥ নাগের কারণ দেব কৃষ্ণ মহামতি । খগপতি স্মরণ করেন শীঘ্ৰগতি ॥ আইল ভুজঙ্গরিপু কৃষ্ণের স্মরণে । এ তিন ভুবন কম্পে যাহার গর্জনে ॥ ভয়েতে ভুজঙ্গ দুই প্রবেশে পাতালে । কৃষ্ণেরে মেলানি মাগি খগপতি চলে ॥ ভেরা হেতু অর্জন এড়িলা শব্দভেদী । এক অস্ত্রে তিন ভেরী ফেলিলেন ছেদী ॥ চৈত্রগিরি পৃষ্ঠে করিলেন আরোহণ। রিপু দেখি গিরিবর করয়ে গর্জন ॥ গিরিশৃঙ্গ ধরি ভীম উপাড়িয়া করে । অচল করিল বজমুষ্টির প্রহারে ॥ পৰ্ববত লঙ্ঘিয়া কৈল নগরে প্রবেশ । হরপুর সম দেখে জরাসন্ধ দেশ ॥ স্থগন্ধি কুসুম মাল্য দেখি স্থশোভন । বলে ল’য়ে তিন জন করেন ভূষণ ॥ পূৰ্ব্ব দ্বার লঙ্ঘিয় গেলেন তিন জন । অন্তঃপুরে যাইতে ব্রাহ্মণে নাহি মান ॥ তিন দ্বার লঙ্ঘিয়া গেলেন অন্তঃপুর । যথা আছে মহীপাল জরাসন্ধ শূর ॥ যজ্ঞদীক্ষা লইয়াছে যজ্ঞেতে তৎপর। উপবাসী ব্ৰতী হ’য়ে অাছে একেশ্বর ॥ কেবল ব্রাহ্মণগণ আসে তথাকারে । বিনাহবানে অন্য জন যাইতে না পারে ॥ তিন দ্বিজ দেখি রাজা উঠি যোড়হাতে । অগ্রসরি আসিয়া লইল কত পথে ॥ বসিবারে দিল দিব্য কনক আসন । স্বস্তি স্বস্তি বলিয়া বৈসেন তিনজন ॥ خوصصد তিন জন মূৰ্ত্তি রাজা করে নিরীক্ষণ । শাল বৃক্ষ কেঁাড়া যেন অঙ্গের বরণ ॥ আজানুলম্বিত বাহু বলের আধার । অস্ত্রচিহ্ন লেখা আছে অঙ্গে সবাকার । ভুষণ বিবিধ মালা দেখিয়া রাজন। নিন্দ করি বলিতে লাগিল ততক্ষণ ॥ ব্ৰতী বিপ্ৰ হ’য়ে কেন হেন অনাচার। সুগন্ধি চন্দন মাল্য অঙ্গে সবাকার ॥ মুনিগণ কহে আর আমি জানি ভালে । ব্রাহ্মণ কখন মাল্য নাহি পুরে গলে ৷ পরিধান বহুবিধ বিচিত্র বসন । বি প্রদেহে অস্ত্ৰচিহ্ন কিসের কারণ ॥ সত্য কহ তোমরা যে হও কোন জাতি ? কি হেতু আইলা বল আমার বসতি ॥ দ্বিজ বিনা আসে হেথা নাহি অন্যজন । চোররূপে আসিয়াছ লয় মম মন ॥ চৈত্রগিরি শৃঙ্গ ভাঙ্গিয়া আইলে হেথায় । রাজদ্রোহ পাপভয় নাহিক তোমায় ॥ কি হেতু আইলা কোন ভিক্ষ অনুসারে । কোন বিধিমতে করি পূজা সবাকারে ॥ এত শুনি বাহুদেব বলেন বচন । গভীর নিনাদ যেন শরীর দাহন ॥ পুষ্পমাল্য সদা রাজা লক্ষীর আশ্রয়। লক্ষীপ্রিয় কৰ্ম্মেতে কাহার বাঞ্ছা নয় ॥ দ্বারে না আইলা হেন বলিলে বচন । শত্ৰগৃহ দ্বারেতে না যাই কদাচন ॥ জরাসন্ধ বলে মম না হয় স্মরণ । কবে শক্র আমার তোমরা তিনজন ॥ না হিংসিতে যেইজন হিংসা আসি করে । তার সম পাপী নাহি সংসার ভিতরে ॥ কারো হিংসা নাহি করি আমি মনে জানি। কিমতে তোমার শক্ৰ কহ দেথি শুনি ॥ গোবিন্দ বলেন তুমি কহ বিপরীত । তোমার যতেক নিন্দ জগতে বিদিত ॥ পৃথিবীর রাজ সব বান্ধিয়া আনিলে। পশুবৎ রাখিয়াছ নিজ বন্দীশালে ॥