পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/৬১১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দ্ৰোণপৰ্ব্ব । ] তৎপদ্মকোষ মধ্যে তু মণ্ডলং চগুরোচিষঃ ॥ \lو c O হেথায় সংগ্রাম করি পার্থ ধনুৰ্দ্ধর । কোটি কোটি কাটিলেন সৈন্য নিরন্তর ॥ অর্জনের বাণে স্থির নহে সেনাগণ । দেখিয়া ব্যাকুল তাহে রাজা দুৰ্য্যোধন ॥ দোণেরে ডাকিয়া তবে বলিল বচন । দেখ গুরু সৈন্য সব হইল নিধন ॥ সেনাপতি তোমা করি করিলাম আশ । যুধিষ্ঠিরে ধরি দিবা করিলে আশ্বাস ॥ আজিকার যুদ্ধে গুরু না দেখি নিস্তার। ভীম ধনঞ্জয় করে সকল সংহার ॥ সেনাপতি করিতাম যদ্যপি কর্ণেরে । এত দিনে কর্ণ ধরি দিত যুধিষ্ঠিরে। মহারথী দেখি তোমা কৈলু সেনাপতি । উপরোধে না যুঝহ বুঝি তব মতি ॥ তোমার শিক্ষিত অস্ত্র অর্জুন পাইয়া । তব অস্ত্রে মারে সেনা দেখ দাণ্ডাইয়া ॥ এতেক শুনিয়া গুরু ক্রোধে হুতাশন । ডাকিয়া বলিল তবে শুন দুর্য্যোধন ॥ । পূৰ্ব্বেতে তোমায় আমি কহিনু আপনে । ভিক্ষুক ব্রাহ্মণ আমি কিবা কাৰ্য্য রণে ॥ সেনাপতি যোগ্য আমি ন হই কখন । আমার এ সব কার্য্য নহে প্রয়োজন ॥ এত বলি ডাকিলেন আপন নন্দন । ক্ৰোধ করি যায় দ্ৰোণ উপেক্ষিয় রণ ॥ তবে দুৰ্য্যোধন কর্ণ শকুনি লইয়া । আগে হৈতে গুরুপদে পড়িল আসিয়া ॥ শকুনি বলিল গুরু কর অবধান । প্রতিভাবে দুর্য্যোধন করে অভিমান ॥ তুমি যদি উপেক্ষিয় চলিলা ভবনে । আজ্ঞা কর রাজা দুৰ্য্যোধন যাক বনে ॥ এত শুনি গুরু হাসি হইল সদয় । ইধ্যোধন দুঃখ দেখি ব্যথিত হৃদয় ॥ দ্ৰোণ বলে কহিলাম পূৰ্ব্বেতে তোমারে। অৰ্জুন না থাকিলে ধরিব যুধিষ্ঠিরে ॥ অৰ্জুন সম্মুখে যুঝে নাহি হেন বীর। আমি বাণে যোদ্ধাগণ কেহ নহে স্থির। এক যুক্তি ভাবিয়াছি শুন দুৰ্য্যোধন । তবে সে ধরিতে পারি ধৰ্ম্মের নন্দন ॥ না থাকিবে ধনঞ্জয় সমর পাইয়া । তবে ধ’রে দিতে পারি রাজাকে বান্ধিয় ॥ এতেক কহিতে হয় সন্ধ্যার সময় । কৌরব পাণ্ডব গেল আপন আলয় ॥ ہــیــح ----st----- দ্রোণের প্রতি দুর্য্যোধনের খেদোক্তি ও নারায়ণী সেনার যুদ্ধারন্ত । শিবিরেতে গেল তবে রাজা দুর্য্যোধন। অত্যন্ত দুঃখিত হয়ে বিরস বদন ॥ কহিলেন গুরু অগ্রে করিয়া রোদন । কিরূপে আমার গুরু হইবে তারণ ॥ কি প্রকারে জিনি উপদেশ বল তুমি। কেবল ভরসা তব করিতেছি আমি ॥ দ্রোণ বলে শুন আমি কহি যে বচন । , তবে যুধিষ্ঠিরে ধরি শুন দুৰ্য্যোধন ॥ নারায়ণী সেনা দেখ যুদ্ধে বড় কৃতী । তাহার সহায় আছে স্থশৰ্ম্ম নৃপতি ॥ অৰ্জুনের সহ তার করুক সমর। তবে সে ধরিতে পারি ধৰ্ম্মের কোঙর ॥ এত শুনি আনন্দিত হইল রাজন। সেইক্ষণে ডাকি আনে সংসপ্তকগণ ॥ ত্রিগর্ত রাজাকে আনি বলিল বচন । আমার বচন শুন স্থশৰ্ম্মী রাজন ॥ নারায়ণী সেনামধ্যে হও সেনাপতি । অৰ্জ্জুনের সহ যুদ্ধ কর মহামতি ॥ সসৈন্যে উত্তর দিকে তুমি চলি যাহু । অৰ্জুনের সনে গিয়া সমর করহ ॥ স্বশৰ্ম্ম বলেন শুন আমার বচন । আজি অর্জনেরে কমিব নিধন ॥ নারায়ণী সেনা দেখ যমের সমান । পৃথিবীর মাঝে যার অব্যর্থ সন্ধাণ ॥ এ সব লইয়া আমি করি গিয়া রণ। জানিহ পার্থের তবে নিশ্চয় মরণ ॥