পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/৬১৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দ্ৰোণপৰ্ব্ব । ] চারি বাণে কাটি পাড়ে সারথির মুণ্ড । চারি বাণে চারি অশ্ব করিলেন খণ্ড ॥ অচল হইল রথ দেখি দ্রোণ বীরে । ধরিবারে যায় তবে রাজা যুধিষ্ঠিরে ॥ দেখিয়া কৌরবগণ হরিষ অন্তর । ধন্য ধন্য করি কেন্দ্রাণে প্রশংসে বিস্তর ॥ আজি ধরা গেল ধৰ্ম্মরাজ গুরু হাতে । আজি মম মনোরথ পুরে ভালমতে ॥ রাজার সঙ্কট দেখি দৃষ্টদ্যুম্ন বীর । আগুলিল কেন্দ্রাণে আসি নির্ভয় শরীর ॥ দ্রোণের উপরে এড়িলেন অস্ত্ৰগণ । গগন ছাইল বাণে না দেখি তপন ॥ অস্ত্রাঘাতে যুধিষ্ঠির হইয়া কম্পিত । নকুলের রথে গিয়া চড়েন ত্বরিত ॥ দ্রোণ ধৃষ্টদ্যুক্ষে হয় অতি ঘোর রণ। দুরেতে থাকিয় তাহ দেখয়ে রাজন ॥ ধৃষ্টদ্যুম্ব বাণ এড়ে তারা হেন ছুটে । দ্রোণের ধনুক বীর চারি বাণে কাটে ॥ আর দুই বাণ বার এড়ে আচম্বিতে । ধনুক কাটিয়া ফেলে দ্রোণের অগ্ৰেতে ॥ আর ধনু ল’য়ে দ্রোণ গুণ দিয়া টানে । সেই ধনু ধৃষ্টদ্যুম্ন কাটে এক বাণে ॥ পুনরপি ধৃষ্টদ্যুম্ব এড়ে দশ বাণ । দ্রোণের কবচ কাটি, করে খান খান ॥ আর দশ বাণ বার ছাড়িল ত্বরিত । বাণাঘাতে দ্ৰোণাচাৰ্য্য হইল মুছিত ॥ দেখিয়া কৌরবগণ বিলাপ করিল। পণ্ডিবের দলে বড় আনন্দ হইল ॥ তবে কতক্ষণে দ্ৰোণ পাইল চেতন । লাজে ভরদ্বাজপুত্র মলিন বদন ॥ ক্রোধে এক ধনু ল’য়ে দিলেন টঙ্কার । *বেদতে লাগিল তালি কর্ণে সবাকার ॥ সন্ধান পুরিয়া এড়ে দিব্য অস্ত্ৰগণ । , নিবরিয়ে বাণে বাণ পাঞ্চাল নন্দন ॥ তবে মহাক্রোধে দ্রোণ হৈল কম্পমান । একেবারে প্রহারিল তীক্ষ দশ বাণ ॥ রজঃসত্ত্বতমোরেখা মোনিমণ্ডলমণ্ডিতাম্ ॥ \lو c (t বাণাঘাতে ধৃষ্টদ্যুম্ব হইল মুছিত। কবচ ভেদিয়া অঙ্গে বহিছে শোণিত ॥ রথেতে পড়িল বীর হইয়া অজ্ঞান । রথ লইয়া সারথি হৈল পাছুয়ান ॥ মূৰ্ছা ত্যজি উঠি বীর দেখে পলায়ন । সারথিরে নিন্দ করি বলেন বচন ॥ সম্মুখ সমরে মোর ফিরাইলি রথ । দ্রোণ কি বলিষ্ঠ আমি নহি কি তেমত ॥ এইক্ষণে দ্ৰোণে আমি বিনাশিব রণে । বাট রথ লহ শুন দ্রোণ বিদ্যমানে ॥ শুনিয়া সারথি রথ ফিরাইল বেগে । অবিলম্বে নিল রথ দ্রোণাচাৰ্য্য আগে ॥ পুনঃ মুখামুখি দোহে হইল সমর। দোহাকার বাণ গিয়া ঠেকিল অম্বর ॥ মহাপরাক্রম দ্ৰোণ নানা অস্ত্র জানে । ধৃষ্টদ্যুম্ন দুই ধনু কাটিলেন বাণে ॥ ধনু যদি কাটা গেল অন্য ধনু লয়। সেই ধনু কাটি পড়ে দ্রোণ মহাশয় ॥ যত ধনু লয় বার কাটে পুনর্ববার। ক্রোধে শেল হাতে নিল দ্রুপদ-কুমার ॥ হাকারিয়া শেলপটি এড়ে বাহুবলে । যতদূর যায় শেল ততদূর জ্বলে ॥ শেলপটি দেখি দ্রোণ এড়ি দিব্য বাণ । পাচ বাণে শেলপাট করে খান খান ॥ শেল যদি কাটা গেল দ্রুপদ-কুমার। চিন্তিয়া ভাবেন মনে সকাল অসার ॥ লাফ দিয়া ভূমে পড়ে ল’য়ে অসি ঢাল । সম্মুখে পড়িয়া তবে বলে ভাল ভাল ॥ ভাঙরি কাটিয়া বীর উঠে দ্রোণ রথে । চারি অশ্ব কাটিলেক অতিশীঘ্ৰ হাতে ॥ সারথি কাটিয়া, দ্রোণে কাটিবারে যায় । চমৎকার সর্ববলোক একদৃষ্টে চায় ॥ অৰ্দ্ধচন্দ্র বাণ গুরু করিয়া সন্ধান । অসিচৰ্ম্ম কাটি তার করে খান খান ॥ আর দশ বাণ গুরু মারে বায়ুবেগে । দশবাণ ধৃষ্টদ্যুম্ন হৃদয়েতে লাগে ॥