পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/৭৫১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শক্তিপৰ্ব্ব | ] এত শুনি হ্রদমধ্যে পড়ে সেইক্ষণে । গ্রাহরূপী হইয়া রহিল কতদিনে ॥ রামহ্রদ নামে সেই পুণ্য তীর্থবর । কুম্ভীর শরীর তাহে হৈল ভয়ঙ্কর ॥ নর নারী পশু পক্ষী আদি যত জন । সলিল স্পশন মাত্র করয়ে ভক্ষণ ॥ তার ভয়ে কেহ নাছি হ্রদ পরশয় । কত দিনে আইল দেবল মহাশয় ॥ স্নান করি হ্রদে তপ করে তপোধন । হেনকালে গ্ৰাহ আসি ধরিল চরণ ॥ মুনির পরশ মাত্র দিব্যমূৰ্ত্তি হৈল । দেব পূজ্যমান হয়ে স্বগেতে চলিল । এত শুনি আনন্দিত হৈল নৃপমণি। পুনরপি জিজ্ঞাসেন করি যোড়পাণি ॥ অতঃপর কহ দেব দ্বিজের কথন । কিরূপে যমের সভা করিল দশন ॥ ভীষ্ম কন শুন কহি ধৰ্ম্মের নন্দন । যতেক দেখিল তাহ না হয় বর্ণন ॥ দক্ষিণ দুয়ারে ল’য়ে গেল দ্বিজবরে । দেখিয়া যমের পুরী বিস্ময় অন্তরে ॥ পুরীষের হ্রদ কোথা দেখে শত শত। ' লিখনে না যায় পাণী তাহে আছে যত ॥ কোন স্থানে উষ্ণজল বহে জলধর । তপ্ত তৈল বৃষ্টি কোথা হয় নিরস্তর ॥ কোন স্থানে স্নিগ্ধজল আছে থরে থর। তাহাতে পড়িয়া পাপী কান্দয়ে বিস্তর ॥ কুমি হ্রদ কোন স্থানে দেখি ভয়ঙ্কর । ক্ষারজল বৃষ্টি কোথা হয় নিরন্তর ॥ কোন স্থানে বৃষ্টি শীতে কঁপে কলেবর। কোন স্থানে অগ্নিবৃষ্টি হয় ভয়ঙ্কর ॥ কোন স্থানে দূতগণ ভয়ঙ্কর কায় । যতেক ছুগাত করে লিখন না যায় ॥ হাতে পায়ে-বান্ধিয়া আনয়ে কোনজনে । প্ৰহারে পীড়িত তনু কাতর রোদনে ॥ এইরূপে শত শত অসংখ্য যাতন । ভুঞ্জায়েন ধৰ্ম্মরাজ না হয় বর্ণনা । কালরুদ্রের ধ্যান—কৈলাশচলসভিং ত্রিনয়নং— ግ8 > দেখি সবিস্ময় হইলেন তপোধন, । পুরীর জুয়ারে তবে করিল গমন ॥ দ্বার পার হয়ে চলিলেন তপোধন। মনে করে যমেরে করিব দরশন ॥ কোন মুর্তি ধরে যম কেমন বরণ । হেনকালে ডোমনীর সঙ্গে দরশন ॥ কেশিনী তাহার নাম জন্মাস্তরে ছিল । যমের কিঙ্করী আসি মরিয়া হইল ॥ দশ গগু কড়িতে বিক্রীত কুলাখানি । হাটে তার ঠাই ল’য়েছিল দ্বিজমণি ॥ পাচ গগু কড়ি দিয়া কুলী ল’য়েছিল। বাকী পাচ গও ধীর শুধিতে নারিল ৭| দুইবার তিনবার দ্বিজস্থানে গেল । ধারিয়া না দিল তারে মনে পাসরিল ॥ দৈবযোগে দেখা তার ডোমনী পাইল । ধাইয়া সত্বরে আসি বসনে ধরিল ॥ ক্রোধেতে ব্রাহ্মণে চাহি বলয়ে বচন । সেই ভদ্রশীল তুই পাপীষ্ঠ দুর্জন ॥ । পাচ গগু কড়ি মম ধারিয়া না দিলে । তাহার উচিত ফল পাবে এই কালে ॥ ভাল চাহ যদি তবে বাহ কড়ি দিয়া । নতুবা তোমার আত্মা লইব কাড়িয় ॥ দ্বিজ বলে হেথা আমি কড়ি কোথা পাব । ছাড়ি দেহ, কড়ি ঘর হৈতে জানি দিব ॥ ভাবিয়া ডোমনী বলে নাহিক এড়ান । কড়ি দেহ, নহে তোমা লইব পরাণ ॥ এতেক শুনিয়া দ্বিজ হুইল ফর্ণপর । ক্রোধে ধনুধ্বজ দূত করিল উত্তর ॥ সেইকালে দ্বিজবর কহিমু তোমারে । যে কালে আলিতে তুমি ইচ্ছিল এখারে ॥ পাচ গগু ধার যদি ধারহ কাহার । তবে সে প্রমাদ.দ্বিজ হুইবে তোমার ॥ অঙ্গীকার করি তুমি বলিলে তখন । যত ধার আছে তাহা করিব শোধন ॥ ব্রাহ্মণ জগৎগুরু পুরাণে বাখানে । এমত তোমার আছে জানিব কেমনে ॥ ।

  • ---->