পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/৮৮৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মুষলপর্ব। ] মাহেশ্বরীর ধ্যান—ত্রিশূলডমরুহস্ত জটাজুটেন মণ্ডিত, b” “NA অর্জন কর্তৃক প্রভাসে রামকৃষ্ণের স্বতশরীর দর্শন । হস্তিনা নগরে এল দারুক সারথি । করযোড়ে কহে কথা ধৰ্ম্মরাজ প্রতি ॥ অবধান কর রাজা পাণ্ডুর নন্দন । কৃষ্ণ পাঠাইল মোরে তোমার সদন ॥ গোবিন্দের প্রিয়বন্ধু তোম পঞ্চভাই । তোমার ভাবনা বিনা অন্য মনে নাই ॥ সে কারণে আমারে পাইলেন হেথা । দ্বারকা লইয়া যাব পার্থ মহারথা ॥ বহুদিন তার সহ নাহি দরশন । সেই হেতু লইতে কহেন নারায়ণ ॥ তিলেক বিলম্ব রাজা না হয় বিচার । শীঘ্ৰগতি অর্জন করুন অগ্রসর ॥ কৃষ্ণের বচন শুনি পঞ্চ সহোদর। দারুকেরে বসায়েন করিয়া আদর ॥ বসিয়া স্বস্থির চিত্ত না হয় দারুক । হৃদয় দহিছে শোকে বৈসে হেঁটমুখ ॥ দারুকের চিত্ত রাজা দেখি উচাটন । বিস্ময় ভাবিয়া মানিছেন মনে মন ॥ এইত দারুক হয় কৃষ্ণের সারথি । যেই কৃষ্ণ অনাদি পুরুষ লক্ষপতী ॥ র্তাহার আশ্রিত জন কি দুঃখে দুঃখিত । ইহার কারণ কিছু না বুঝি কিঞ্চিৎ ॥ এত চিন্তি জিজ্ঞাসেন ধৰ্ম্মের নন্দন ! কিহেতু দারুক এত চিত্ত উচাটন ॥ কৃষ্ণের আশ্রিত জন কিবা তব দুঃখ । কি দুঃখে ত্ৰাসিত হৈলে কহত দারুক ॥ সত্যিকি প্রদ্যুম্ব শাম্ব যাদব সঙ্কল । কেমন আছেন অনিরুদ্ধ মহাবল ॥ কেমন আছেন সবে কহ সত্যবাণী । কহ দেখি কৃষ্ণের কুশলবার্তা শুনি ॥ তব চিত্ত উচাটন দেখিয়া নয়নে । প্রাণাধিক মিত্র মম ধৈর্য্য নাহি মানে ॥ স্কঞ্চের কুশল কহ দারুক সারথি । কেমন আছেন প্রিয়বর যদুপতি ॥ শুনিয়া দারুক কহে যোড়করি হাত । সে সকল অবগত হইবে পশ্চাত ॥ ত্বরিত অৰ্জ্জুনে রাজা করহ বিদায় । বন্ধুজন দেখিতে চাহেন যত্নরায় ॥ শুনি অনুমতি দেন পাণ্ডুবংশপতি । স্থসজ্জ হইয়। পার্থ যান শীঘ্ৰগতি ॥ ত্বরিত গমনে পার্থ দ্বারকানগরী । বিস্ময় মানেন সেই দ্বারাবতী হেরি ॥ পূৰ্ব্বরূপ শোভা কিছু না সেখানে আর । শূন্তাকার পুরীখান দিনে অন্ধকার ॥ পুরেতে পুরুষ নাহি কেবল রমণী । চিত্র-পুত্তলিকা প্রায় আছে অনুমানি ॥ শুষ্ক ওষ্ঠ শুষ্ক মুখ শুষ্ক সৰ্ব্ব অঙ্গ । না হয় আনন্দ বাদ্য নৃত গীত রঙ্গ ॥ মনুষ্যের শব্দ নাহি দ্বারকানগরে । কপোত পেচক শিব চৌদিকে বিহরে ॥ গৃধ্ৰু কঙ্ক নানা পক্ষী উড়ে পালে পালে । ঘোরতর শব্দ করি উঠে বসে চালে ॥ এত সব দেখি পার্থ হইয়া চিন্তিত । চক্ষেতে পড়য়ে জল চিত্ত বিকলিত ॥ বহুদেব দৈবকী রোহিণী তিনজন । প্রাণহীন জন যেন ভূমিতে শয়ন ॥ প্ৰণমিয়া জিজ্ঞাসেন অর্জুন-বারতা । শুষ্ক তনু সবার বদনে নাহি কথা ॥ পুনঃ পুনঃ পার্থ বীর করেন জিজ্ঞাসা ॥ হরি বলি কান্দে সবে নাহি অন্য ভাষা । কৃষ্ণ বিনা প্রাণ নাহি বলে সৰ্ব্বজন ॥ চিন্তান্বিত হইলেন কুন্তীর নন্দন । দারুক বলেন পার্থ কি কর ভাবনা ৷ প্রভুরে দেখিব| যদি চল সৰ্ব্বজন ॥ প্রভাসের তীরেতে আছেন দুই ভাই । সকল যাদবগণ আছেন তথাই ॥ এত বলি সত্বরে চলিল দুইজন । শূন্যময় হৈল পুরী দ্বারকা ভুবন ॥ পথ বিছরণে সবে যায় ধীরে ধীরে । আসিয়া মিলিল সবে প্রভাসের তীর ॥