পাতা:গল্পাঞ্জলি.djvu/২৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বাল্যবন্ধু ૨ગ নলিনীর আর সহ হইল না । আত্মসম্বরণে অক্ষম হইয়া উত্তেজিত স্বরে বলিয়া উঠিল—“ন্তাকামি রেখে দাও না ! কোন বাড়ী তুমি জান না ! কোথায় যাবে তুমি জান না ! মানি, তোমার লাখো লাখে টাকা, ফুশে চারশে কারবার। তাই বলে, সে কঢ়কবালার দোহাই দিয়ে আমার বাড়ী তিনখানি উদরস্থ করে ফেলেছ—অথচ এ সব কিছুই মনে নেই—এ কথা তুমি তামা-তুলসী ছুয়ে বল্পে ও আমি বিশ্বাস করব না । আমি নিৰ্ব্বোধ বটে কিন্তু অত নিৰ্ব্বোধ নই।”—বলিতে বলিতে নলিনীর চক্ষু দুইটা অস্বাভাবিক ভাবে উজ্জল হইয়া উঠিল—তাহার ওষ্ঠযুগল অকারণে স্পন্দিত এবং নাসিক বারস্বার স্ফীত হইতে লাগিল । নলিনীর এই আকস্মিক ঔদ্ধত্যে বিপিনবাবুর মুখ অপ্রসন্ন হইয়া উঠিল। তিনি যেন কিছু বলিবেন বলিবেন মনে হইল। কিন্তু আত্মসম্বরণ করিলেন। খোলা জানালাপথে বাহিরে বাগানের পানে নীরবে চাহিয়া রহিলেন । কিয়ং পরে ভূত্য আসিয়া চায়ের পেয়াল উঠাইয়া জিজ্ঞাসা করিল— আর চা আনিব কি ?” বিপ্লিনবাবু বলিলেন-—“না ।”—ভূত্য পেয়ালা লইয়া গেল । তিনি তখন দেরাজ টানিয়া চুরট বাহির করিয়া নিজে একটি ধরাইলেন। নলিনী চুরট খাইবে কিনা জিজ্ঞাসা করিলেন না । চুরট টানিতে টানিতে বিপিনবাবু নলিনীর দিকে ফিরিয়া বলিলেন— “ভা বাড়ীর কথা কি জিজ্ঞাসা করছিলে ?” নলিনী বলিল—“জিজ্ঞাসা করছিলাম যে পচিশ হাজার টাকা তোমার কাছে ধার নিয়েছিলাম বলে কি আমার তিনখানা বাড়ীই যাবে ?” “দলিলে সেই কথা লেখা ছিল না কি ?” “দলিলে লেখা ছিল তা আমি জানি । শাইলক মশাই, দলিলে দথা ছিল বলেই কি পাউণ্ড অব ফুেশ আদায় করে নিতে হবে ?”