পাতা:গল্পাঞ্জলি.djvu/৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ર૪ গল্পাঞ্জলি বাগানের পানে, একবার নলিনীর পানে চাহিয়া চুরটটি ধরাইয়া আবার বাগানের দিকে মুখ ফিরাইয়া বলিতে লাগিলেন—“দেখ, তুমি তোমার ছেলে পিলের কথা বল্লে, সেই রকম আমারও ছেলে পিলে আছে । আমরা খাটি খুটি, রোজগার পত্তর করি, সে আমাদের ছেলে পিলের জন্তেই ত? আমাদের অবর্তমানে তারা কোনও রকম কষ্ট না পায়, সেইটে আমাদের করে যেতে হবে, সুতরাং তাদের প্রতি আমাদের একটা গভীর কৰ্ত্তব্য রয়েছে । আমার বাপ পিতামহ যা বিষয় আশয় আমায় দিয়ে গেছেন, সেই সব বাড়িয়ে গুছিয়ে আমি আবার আমার ছেলে পিলেদের দিয়ে যাব এই আমার কর্তব্য । বন্ধুত্বের খাতিরে, ছেলেবেলার ভালবাসার দোঙ্গাই মেনে, যদি সে বিষয়সম্পত্তির কোনও অংশ আমি বরবাদ করি, তা হলে সেটা কি আমার অধৰ্ম্ম হবে না ?” বাল্যবন্ধুর এই গভীর ধৰ্ম্মজ্ঞান ও কৰ্ত্তব্যবোধ দেখিয়া, বড় দুঃখেও নলিনীর হাসি পাইল । কিন্তু মুহূৰ্ত্ত পরেই সে হাসিটুকু তাঙ্গর ওষ্ঠ হইতে মিলাইয়া গেল। রণায় তাঙ্গর মন পূর্ণ হইয়া উঠিতে লাগিল। ভাবিল "সংসারের কি বিচিত্র গর্তি ! যে একদিন, আমার পায়ে একটি কাটা কুটিলে সমবেদনায় ম্ৰিয়মাণ হইত, সে আজ আমার এ দুৰ্দ্দশা দেখিয়াওঁ অবিচলিত । যে হৃদয় ফুলের মত সুকুমার ছিল, অর্থালপস তাহাকে পাষাণের মত কঠিন করিয়া ফেলিয়াছে। দেবতাকে পিশাচে পরিণত করিয়াছে।” নলিনীকে স্তব্ধ দেখিয়া বিপিনবাবু বলিলেন —“তোমার বসতবাড়ী খানির একজন ভাড়াটে জুটেছে। মাসে ৫০ পঞ্চাশ টাকা ভাড়া দিতে চাচ্ছে । আমার এটর্ণির কাল এ কথা চিঠিতে আমায় লিখেছে ।” নলিনী বলিল—“হ্যা—কাল বৈকালে আমাকেও তারা সাত দিনের শর বাড়ী ছেড়ে দিতে নোটিস দিয়েছে ”