পাতা:গল্প-গ্রন্থাবলী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়) তৃতীয় খণ্ড.djvu/১৪৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জল SBసి, পিতাকে জানাইল। তিনি বলিলেন, “তা বেশ। এ মাসের ত আর দিন দশেক মোটে ৰাকী—আসছে মাসের মাঝামাঝিতে একটা রবিবার দেখে দিন স্থির করে বলিস। তোর জন্যে কিছু গহনা গড়াতে হবে, কাপড় চোপড়ও তৈরী করাতে হবে—তাতে বেটুকু সময় দরকার, তার বেশী অার দেরী করে ফল কি ?” পিতাকে ঘমে পাড়াইয়া, লীলা নিজ শয়নকক্ষে গিয়া, তখনি রবিবার ১৭ই মাচ্চ’ দিনটি স্থির করিল। দশদিন আর সতেরো-সাতাশ দিন। তার পর চির-মিলনোৎসব। আনন্দের আবেগে, সরোজের ফটোখানি বাহির করিয়া লীলা বারবার চাবন করিল। অবশেষে সেখানি বালিসের তলায় রাখিয়া, আলো নিবইয় দিয়া শয়ন করিল; কিন্তু অনেক রাত্ৰি পৰ্যন্ত ঘমোইতে পারিল না। পরদিন প্রাতে, অন্যদিন অপেক্ষা শীঘ্রই লীলা শয্যাত্যাগ করিল। পিতা জাগিবার পবেই নানাদি সমাপন করিয়া লইল। সাড়ে সাতটার সময় সরোজ আসিবে, এখানেই ছোট হাজরী খাইবে—তার পর তিনজনে একত্র গিজায় যাইবে এইরুপই পরামশ ছিল। লীলার মনটি আজ বড় প্রফুল্ল। এতদিন কত্তব্যের খাতিরে সরোজকে সে তেমন আমল দিতে পারে নাই—সরোজের মনে কট দিয়াছে—আজ সে বাধা অপসত—আজ সরোজ আসিলে সে তাকে সখী করিতে পারবে। লীলার মনের ভিতর আজ কেবল গানের লহর উঠিতেছে—মাঝে মাঝে গণে গণ করিয়া সে গান গাহিতেছে। গিজা হইতে ফিরিয়া, আজ সরোজকে এইখানে খাইবার জন্য সে অনুরোধ করিবে। আজ অনেকক্ষণ —অনেকক্ষণ, দনুজনে একসঙ্গে থাকিবে। আজ কোনও বায়সেকাপে ভাল ফিল্ম আছে কিনা কে জানে ! ওবেলা দুজনে দেখিতে গেলে হয়। না—বায়স্কোপে নয়-হাজার লোকের মাঝে নয়, একটিও মনের কথা কহিবার সুযোগ পাওয়া যাইবে না—তার চেয়ে ইডেন গাডেন কিংবা গড়ের মাঠই ভাল। একটা সকালে বাহির হইয়া শিবপুরের বাগানে গেলেও হয়। - বেলা ৮টা বাজিতে আর বেশী দেরী নাই। ছোট হাজরী প্রস্তুত—সরোজ আসিলেই হয়। নীচে সদর দরজার নিকট একটা শব্দ হইলেই লীলার কাণ খাড়া হইয়া উঠে। না, ও ত সরোজের পদশব্দ নয়! লীলা অবশেষে আর থাকিতে না পারিয়া, রাতার ধারের দ্বিতল বারান্দায় বাহির হইয়া একদার্টে পথপানে চাহিয়া রহিল। কত লোক আসিতেছে, কই সরোজের এখনও দেখা নাই কেন ? পাঁচ মিনিট, দশ মিনিট, পনেরো মিনিট কাটিয়া গেল—পিতার চা পান ও ছোট হাজরীর সময় উত্তীণ হয় দেখিয়া, লীলা বাবচ্চিকে চা ভিজাইয়া টোল্ট সেকিতে হঝুেম দিল। সাড়ে ৮টা বাজিলে, লীলার মনে কু গাহিতে আরম্ভ করিল। হঠাৎ সরোজের কোনও অসুখ করিল না ত ? নাহলে যে মানুষ কাল রাত্রেই আসিবার জন্য উদ্যত— সে আজ নিৰ্ম্মধারিত সময়ে আসিয়া পেপছিল না! ইচ্ছা হইতে লাগিল, সরোজের বাসায় বয়কে পাঠাইয়া সংবাদ লয়, কিন্তু বয় এখন গেলে, পিতার চা পানে আরও বিলাব হইয়া যাইবে। তাই সে ইচ্ছা পরিত্যাগ করিল। পিতাকে আনিয়া ছোট হাজরী খাইতে বসাইল । চা পান করিতে করিতে হঠাৎ হরিনাথবাবার স্মরণ হইল—কন্যাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “কই সরোজ ত আজ এল না ।” e লীলা লান মুখে বলিল, ‘আজ ত বরং অন্য রবিবারের চেয়ে সকালেই তাঁর আসবার कथा छल बावा, कि छानि कि झ्ण !” “বোধ হয় কোনও কাজে আটকে পড়েছে”—বলিয়া হরিনাথবাব চায়ের পাত্রটি শেষ করিলেন। বারান্দায় ঈজি চেয়ার পাতা থাকে, ছোট হাজরীর পর হরিনাথবাব তাহাতে রসিয়া