পাতা:গল্প-গ্রন্থাবলী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়) তৃতীয় খণ্ড.djvu/২৯৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বি-এ পাশ কয়েদী ᎦᏓᏑᏜ কেউ কেউ এ কথা আমাকে জিজ্ঞাসা করলে বলেছি, সে বশর-শাশড়ীর সঙ্গে দাজিলিঙে গেছে হাওয়া খেতে।” - “কলেজও বোধ হয় এত দিনে খলে থাকবে।” - “আচ্ছা, তুমি গিয়ে পণেকে এখানে পাঠিয়ে দাওগে। কিংবা দাঁড়াও, কাল শনিবার আছে, কাছারীর পর আমিও তোমার সঙ্গে যাই চল। ছেলেকে, বউমাকেও সঙ্গে নিয়ে আসি। তার পর হস্তাখানেক বাদে ছেলেকে কলকাতায় রেখে আসবো। একটা বছর নষ্ট হয়ে গেল তা কি আর করা যাবে!” - . কি স্থি কে তে পঠন কোনও আয়োজনই ত আমি - - , יין রেহাই ছল-ছল নেরে ভারি গলায় বলিলেন, “সে সব পরে হবে এখন। যা আয়োজন করেছ, তারই ঋণ আমি এ জীবনে শোধ করতে পারবো না, ভাই।" বি-এ পাশ কয়েদী এক পশ্চিমের একটি সহর। জজের আদালত, ফৌজদারী আদালত, কালেক্টরী প্রভৃতি সহরের ভিতর হইলেও, জেলখানাটি সহরের বাহিরে এক মাইল দরে অবস্থিত। জেলের কত্তা অর্থাৎ জেলরবাবর নাম ইন্দ্রভূষণ সান্যাল—বয়স চায়াল্লিশ বৎসর। স্মীর নাম মনোরমা, বয়স আটত্রিশ। ইহাদের দইটি পত্র-নগেন্দ্র ও খগেন্দ্র, বয়স পনর এবং পাঁচ বৎসর। কন্যা হয় নাই। জেলখানার ফটকের উপর বিতলে জেলরবাবর সরকারী বাসা। পশ্চাতে টানা বারান্দা। সে বারান্দায় দাঁড়াইলে জেলখানার ভিতরটা অনেকখানি দেখা যায়। জেলরবাবর সন্নী মনোরমা সকালে বিকালে সেই বারান্দায় দাঁড়াইয়া জেলপ্রাঙ্গণে কয়েদিগণের আহার, গতিবিধি ও অন্যান্য কাষ্যকলাপ দেখিয়া চিত্তবিনোদন করিয়া থাকেন। মনোরমার বড় কট। কোনও প্রতিবেশিনী নাই যে, আসিয়া দুই দণ্ড গল্প করিবে, দুহাত তাস খেলিবে, অথবা চালটা তাঁহার বাঁধিয়া দিবে। ডেপুটি জেলরবাব, অ্যাসিষ্টাণ্টবাব, জেলের ডাক্তারবাব-সকলেই বাংগালী, ইহাদেরও সরকারী বাসা রহিয়াছে, কিন্তু সী নাই, বা থাকিয়াও নাই। ডেপুটিবাব বিপত্নীক, অ্যাসিস্টাটবাবর সন্ত্রী তিন মাস হইল সন্তান-সম্প্রভাবিতা হইয়া পিত্রালয়ে গিয়াছেন, কবে ফিরিবেন, তাহার স্থিরতা নাই, ডাক্তারবাবর গহের যিনি গহিণী, তাঁহাকে ডাক্তারবাব সন্ত্রী বলিয়া প্রচার করিয়া থাকেন বটে, কিন্তু জনশ্রুতি এই যে, বিবাহটা তাঁহাদের গান্ধুত্ব মতে হইয়াছিল—কাজেই উক্ত মহিলার কোনও ভদ্রপরিবারের সহিত মেলামেশা নাই। কয়েক বৎসর পাবে পিরালয় হইতে মনোরমা এক অনাথা কায়স্থ-কন্যাকে বিশ্বেরপ আনিয়া নিজের কাছে রাখিয়াছিল। সে প্রায় মনোরমার সমবয়সী ছিল, তার নাম ছিল —কাতু বা কাত্যায়নী। নামে ঝি হইলেও, পাবকালে রাজকন্যাদের যেমন "সহচরী” থাকিত, কাতু ছিল মনোরমার সেইরাপ সহচরী। উভয়ে বেশ আনন্দেই ছিল। কিন্তু গত বৎসর কাতুর গরজনপদস্থ কোনও আত্মীয়ের বিনা বেতনে একটি বির প্রয়োজন হওয়াতে, সে ব্যক্তি অনেক নেহ, কর্ণা এবং আক্ষেপ প্রকাশ করিয়া কাত্যায়নীকে পত্র লেখে এবং অবশেষে পত্র পাঠাইরা তাহাকে লইয়া যায়। ○/>。 است....