পাতা:গল্প-গ্রন্থাবলী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়) তৃতীয় খণ্ড.djvu/৪০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


eఫి গল্প-গ্রন্থাবলী rঙ্গাপন করিয়া সে বলিল, “তবে যে তুমি বলিয়াছিলে, আজ তোমাদের ইউনাইটেড সুন্নড়স ক্লাবে একটা ভোজ আছে-নটার সময় তোমার সেখানে যাইতে হইবে-বাড়ীতে খাইবে না" “হ্যাঁ, তা বলিয়াছিলাম বটে, কিন্তু—সেখানে যাইতে আর ইচ্ছা হইতেছে না। আজ এপায়ারে একটা খুব ভাল ফিলম আছে—চল ডিনারের পর দুজনে দেখিয়া আসা যাউক।” এলসি ভিতরে ভিতরে অত্যন্ত অসন্তুটি ও বিরক্ত হইয়া, অগত্যা স্বামীর প্রস্তাবে সক্ষমত হইল । ডিনার শেষে রাত্রি নয়টার সময় টমটম জোতাইয়া, মেজর সাহেব সন্ত্রীকে লইয়া বাহিব হইলেন। বায়কোপে পেপছিয়া টমটম বিদায় করিয়া দিলেন-ট্যাকসিতে ফিরিবেন। সাড়ে নয়টায় ধায়কোপ আরম্ভ হইল। দশটার পবেই মেজর সাহেব বলিলেন, SBD BB BB BBBBS DDD DD DDDDD BB DDD DDBBD DD BBB পাইয়াছে, বারে গিয়া একটা পেগ পান করিয়া আসি।” এলসি কোন কথা বলিল না—স্বামীর সঙ্গ তাহার বিষয়ং বোধ হইতেছিল। মেজর সাহেব চলিয়া গেলে সে বসিয়া ভাবিতে লাগিল আজ আর মোহেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করিবার কোনই উপায় নাই—সে বেচারী সঙ্কেতপথানে বসিয়া অবশেষে হতাশ হইয়া প্রস্থান কাঁরবে। সাহেব রাস্তা পার হইয়া দ্রতপদে ময়দানের ভিতর দিয়া চলিলেন। দশ মিনিট পরে উদ্দিস্ট পথানের নিকটবত্তী হইয়া, পথ হইতেই দেখিতে পাইলেন, বক্ষতলের অন্ধকারে বেঞ্চের উপর ফেলট হ্যাট মাথায় দিয়া কে একজন একাকী বসিয়া আছে। পথ হইতে নামিয়া, ঘাসের উপর দিয়া সন্তপণে তিনি সেইদিকে অগ্রসর হইলেন। পাশ্ববত্তী হইয়া বজ্ৰগম্ভীর সবরে তিনি ডাকিলেন—“মোহেনা" মহেন্দু চমকিয়া দাঁড়াইয়া উঠিয়া বলিল, “কে, মেজর গ্রীণ ?” “হ্যাঁ। আমি মেজর গ্রীণ। তুমি এ সময়ে এখানে বসিয়া কি করিতেছ, মোহেন ?" “বায় সেবন করিতেছি।” সাহেব গজিয়ো উঠিলেন, “রামেকল ! ব্ল্যাগাড"। বায় সেবন করিতেছ ? না, আমাব সত্রীর প্রতীক্ষা করিতেছ ? বিশ্বাসঘাতক । ড্যাম নিগার শয়ারকা বাচ্চা ! এত বড় আপদ্ধা তোমার-এক জন য়লোপীয় মহিলা—আমার স্ত্রীর সহিত প্রেম কর ? আমি এই দণ্ডে তোমায় কুকুরের মত হত্যা করিব। তোমার ঈশ্বরকে সমরণ কর ”—বলিযা সাহেব সাঁ করিয়া ভিতরের বকে পকেট হইতে রিভলভার বাহির কারলেন। উহার উজদল নলটি আদরপথ গ্যাসের আলোকে চকমক করিয়া উঠিল। * কিন্তু রিভলভার ছড়িবার অবসর সাহেব পাইলেন না। মহেন্দু পালোয়ানগণের নিকট শেখা একটা “ল্যাং" মারিয়া, সেই মহত্তে সাহেবকে ধরাশায়ী করিয়া, তাঁরবেগে ঘোড়দৌডের মাঠের দিকে ছুটিল। মেজর সাহেব তাঁহার সালে দেহখানি যথাসাধ্য শীঘ্ৰ উঠাইয়া, আবার দই পায়ে দাঁড়াইয়া, পলায়মান মহেন্দ্রের দিকে রিভলভাব লক্ষ্য করিলেন—আওয়াজ হইল গড়ম । সৈনিক পরেষের শিক্ষিত হস্ত—মহেন্দ্রের মাথার ফেট হ্যাট উড়িয়া গেল। কিন্তু মহেন্দু পড়িল না দেখিয়া, সাহেব তাহার পশ্চাদ্ধাবন করিলেন। স্থলেদেহ লইয়া যথাসম্ভব দত দোঁড়িতে লাগিলেন; সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার তাঁহার রিভলভার গজন করিল, “গড়ম—গড়ম " কিন্তু মহেন্দু পড়িলও না, তাহাকে সাহেব আর দেখিতেও পাইলেন না। অগত্যা তখন প্রতিনিবাত্ত হইলেন। রিভলভার পকেটে পরিয়া, পোষাকের ধলোকাদা ঝাড়িতে ঝাড়িতে আবার বায়কোপ অভিমুখে চলিলেন। তথায় পেপছিয়া, বার-এ দাঁড়াইয়া অলপ একটা সোডা সংযোগে একটা ডবল-পেগ ব্ল্যান্ডি লইয়া এক নিঃশ্বাসে তাহা পান করিয়া ফেলিলেণ" একটা সিগারেট ধরাইয়া আখে কটা খাইয়া, সেটা ফেলিয়া দিয়া ভিতরে