পাতা:গোবিন্দ দাসের করচা.djvu/৪৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


૭ના গোবিন্দ দাসের করচ করচার বিশেষত্ব । এখনকার দিনে অতি-প্রাকৃত ঘটনাগুলি ইতিহাসের প্রমাণ বলিয়া গৃহীত হইবে না। এখন "শতস্কন্ধ রাবণ বধ’, ‘হকুমানের সমুদ্র লঙ্ঘন প্রভৃতি তথ্য ঐতিহাসিক সত্য বলিয়া গণ্য হইবে না। চৈতষ্ঠকে এখন তিলক ও তুলসীর পত্রের চাপে লুকাইয়া রাখিবার সময় চলিয়া গিয়াছে। এখন তাহার বরাহ মুৰ্ত্তি সভ্য জগত স্বীকার করিবেন না। শিক্ষিত সম্প্রদায় এখন শুনিতে চান না যে তিনি সুদর্শন চক্রদ্বারা পাপীকে ভীত করিয়াছিলেন, বরঞ্চ প্রেমের কি অমোঘ সন্ধানে পথহারা, কুপে পতিত, দুৰ্গতির চরমদশা প্রাপ্ত পান্থ তাহার কৃপায় সরল নীতির পথে ফিরিয়া আসিয়াছিল, তাহাই তাহারা জানিতে চান। করচায় তদ্রুপ উদাহরণ প্রচুর আছে। করচার প্রধান গুণ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তথ্যের সমাবেশে চিত্রগুলি ফুটাইয়া তোলা । যে সকল ঘটনা নিজের কাণ দিয়া শোনা এবং নিজের চোখ দিয়া দেখা, সেইরূপ স্বকৰ্ণশ্রত এবং চাক্ষুষ কথায় করচার সমস্ত বর্ণনা সরস ও জীবন্ত হইয়াছে। চৈতন্যপ্রভুর বাড়ীর বর্ণনা উপলক্ষে—“গঙ্গার উপরে বাড়ী অতি মনোহর। পাচখানি বড় ঘর দেখিতে সুন্দর।” (৪ পু:) —শচী দেবী সম্বন্ধে, “শাস্ত মূৰ্ত্তি শচীদেবী অতি খৰ্ব্বকায় । নিমাই নিমাই বলি সদা ফুকরায়।” (৪ পৃঃ)-বিষ্ণুপ্রিয়া সম্বন্ধে “লজ্জবর্তী বিনয়িনী মুখে মুদ্র চাস। মুঞি হইলাম গিয়া চরণের দাস।” —অদ্বৈতাচার্য সম্বন্ধে “পককেশ পক্কদাড়ী বড় মোহনিয়া। দাড়ী পড়িয়াছে তার হৃদয় ছাইয়া।”(৪ পৃঃ)-২ঞ্জনাচাৰ্য্য সম্বন্ধে, “খঞ্জন আচার্য আসে গাঢ় অম্বুরাগে। খোড়া বটে তবু আসে সকলের আগে।" ( ৮৪ পৃ: )—বলরামদাস সম্বন্ধে “রাম শিঙ্গ বাজাইতে বড়ই পণ্ডিত । বলরাম দাস আসে হয়ে পুলকিত ” (৮৪ খৃঃ) রামদাস সম্বন্ধে “বড় পটু রামদাস ভেরী বাজাইতে। এইজন্য নিত্য আসে কীৰ্ত্তনের ভিতে।” (৮৬ পূঃ) নারায়ণ গড়ে “গও পাঁচ লাড়ু খেয়ে উদর পুরিল।”—কাশীমিত্রের বাড়ীতে “অষ্টখানি করলার ভাজা খাই মুখে ” (১৪ পৃঃ) এবং চওপুরের নিকট “দুইট নারিকেল ভিক্ষা” (৪৮ পূঃ) প্রাপ্তি প্রভৃতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বর্ণনা বাস্তবরাজ্যের কথা বহিয়া আনিতেছে। এইজন্ত মতিবাবু লিখিয়ছেন, “চক্ষুর দর্শন ভিন্ন এরূপ বর্ণনা করা দুঃসাধ্য।” এবং মুন্সেফ ত্রযুক্ত মন্মথ কুমার রায় বি, এল মহাশয় ফরওয়ার্ড কাগজে লিখিয়াfossa, “Such a book full of so many and so varied geographical and historical details could not be written by any man unless he personally visited and witnessed the happening of the events recorded in the Karcha” ( “কোন ব্যক্তি করচার বর্ণিত ঘটনারাশি এবং স্থান সমূহ স্বয়ং প্রত্যক্ষ না করিয়া এরূপ বহু ঐতিহাসিক ও ভৌগলিক বৃত্তাস্ত সম্বলিত পুস্তক লিখিতে পারেন বলিয়া আমি বিশ্বাস করি না।” ) চৈতন্তপ্ৰভু কোথায় কখন গিয়াছেন এবং কতদিন রহিয়াছেন তাহা তদীয় সহচর পথে চলিতে চলিতে নোট করিয়া গিয়াছেন। “বৈশাখের সপ্তম দিবসে” চৈতন্তদেব