পাতা:গোবিন্দ দাসের করচা.djvu/৯৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


У о গোবিন্দ দাসের করচা ঈশ্বরের লাগি আৰ্ত্তি হয় যদি মনে । নিশ্চয় তাহারে প্রেম কহে মহাজনে ॥ বিশুদ্ধ প্রেমের তত্ত্ব গুন মন দিয়া । যার অল্প হিল্লোলে জুড়ায় দগ্ধ হিয়া ॥ যুবতীর আৰ্ত্তি যথা যুবক দেখিয়া । সেইরূপ আৰ্ত্তি আর না দেখি ভাবিয়া ॥ একারণ ভক্তগণ ভজে যদুপতি । পত্নীভাবে তার প্রতি স্থির করি মতি ॥ আত্মারামের জন্ত যার আৰ্ত্তি হয়। তার কি মনের মধ্যে কামভাব রয় ॥ আলোর নিয়ড়ে যথা তম নাহি রয়। কৃষ্ণের সমীপে তথা কাম ভষ্ম হয় ৷ কেবল প্রেমের আৰ্ত্তি থাকে বিদ্যমান। এইত বলিয়া দিজু প্রেমের সন্ধান ॥ এখন প্রেমের লাগি কর হানা পান । কৃতাৰ্থ হইবে যাবে সংসার যাতন ॥ কলহ বিবাদ দ্বেষ মিথ্যার কারণে । সংসার নরক হয় ভেবে দেখ মনে ॥ অর্থের লাগিয়া গৃহী কহে মিথ্যা কথা। প্রবঞ্চনা মরহত্যা করে যথা তথা ৷ পচা গৃহস্থের কথা কব কত তার। পুত্রকন্যা বিষয় বিভবে জর জর ॥ তুমি কার কে তোমার নাহি ভাব মনে । জড়পিও দেহ লাগি ব্যস্ত উপার্জনে ॥ নিশ্চয় হইবে মৃত্যু তাহে দৃষ্টি নাই। . চিরকাল বাচিব কেবল ভাব তাই ॥ তন্ন তন্ন করি কত শাস্ত্র বা পড়িলা । কিন্তু গণ্ডমূর্খ সবে পড়িয়া হইল । ঘত বিদ্যা যত বুদ্ধি তত স্বার্থপর। যত পড় তত হয় মলিন অন্তর ॥ মুখে বল মাতৃবৎ পরের রমণী । নির্জনে পাইলে কামে মুগুধ অমনি ॥ কাম ক্রোধ রিপু হয় পরের বেলায়। নিজের বেলায় কিন্তু বন্ধু তারা হয় ॥ এসকল নরকের অসীম স্বাতনা । • একবার হৃদয়েতে ভাবিও ভাবনা ৷ যদবধি ঈশ্বরেতে ভক্তি না হইবে। , , তদবধি এইরূপে নরকে থাকিবে ॥ . সামান্ত অর্থের স্থার্থ পার তেক্কাপিতে । কিন্তু কোটি মুদ্র তোমার পারে ভুলাইতে ॥ কলির জীবের সার এক হরিনাম”। • সেই নাম লয়ে চলে যাও নিত্যধাম | পুলকের সহ সদা বল হরিবোল। কলির বাজারে কেন কর গণ্ডগোল ॥* অট্টালিকা কুটরেতে কিবা ভেদ আছে। জিজ্ঞাসিয়া দেখ ভাই পণ্ডিতের কাছে ॥ যেমন প্রাসাদে রাজা পালঙ্কে ঘুমায়। . সেইরূপ দরিদ্র কুটীরে নিদ্রা বায় ॥ জলপান করে রাজা সোনার পাত্ৰেতে । কুঁড়েবাসী জলপিয়ে মাটির ভাড়েত ৷ উভয়ের লক্ষ্য এক পিপাসার শাস্তি । রাজার সোনার পাত্র কেবল মাত্র ভ্রাত্তি । মুকুতার ডাল ভাজা রত্বের তরকারী। ভূপতি কি খান হীরার অন্ন পাক করি ॥ অহঙ্কারে মত্ত রাজা দেখিতে না পায় । পুনঃ পুনঃ এইভাবে আসে আর যায় । এইরূপে শিক্ষা দেয় চৈতন্ত গোসাই । বহু বহু জনতা হইল এক ঠাই ॥ বিশ্ববৃক্ষতলে বসি কণ্টক নগরে । নানা উপদেশ দিলা অতি উচ্চস্বরে ॥ শ্ৰীমুখের বাণী হয় বেদাস্তের সার। যা শুনিলে জীবগণের বিমুক্ত সংসার। এইরূপে দিন রাত্রি অতীত হইল। . পরদিন প্রাতে প্ৰভু লিনান করিলা । আঁচলে নয়ন চাপি কাদে নারীগণ । ’ ঝর ঝর অশ্রুধারা করে বরিষণ ॥