পাতা:চতুরঙ্গ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শচীশ 8○ দেখিয়া আমার মনে এতবড়ো একটা আঘাত বাজিল যে, ঘরে থাকিতে পারিলাম না। বুঝিয়াছিলাম, আমাকে বিশেষ করিয়া ঘা দিবার জন্তই শচীশকে দিয়া এই তামাক-সাজানো, এই পা-টেপানো ! স্বামী বিশ্রাম করিতে লাগিলেন, অভ্যাগত সকলের খিচুড়ি খাওয়া হইল । বেলা পাচটা হইতে আবার কীর্তন শুরু হইয়া রাত্রি দশটা পর্যন্ত চলিল । রাত্রে শচীশকে নিরালা পাইয়া বলিলাম, ‘শচীশ, জন্মকাল হইতে তুমি মুক্তির মধ্যে মানুষ, আজ তুমি এ কী বন্ধনে নিজেকে জড়াইলে । জ্যাঠামশায়ের মৃত্যু কি এতবড়ো মৃত্যু ।” আমার শ্রীবিলাস নামের প্রথম দুটো অক্ষরকে উলটাইয়া দিয়া শচীশ কিছু-বা স্নেহের কৌতুকে কিছু-বা আমার চেহারার গুণে আমাকে বিত্ৰী বলিয়া ভাকিত । সে বলিল, “বিস্ত্রী, জ্যাঠামশায় যখন বাচিয়া ছিলেন তখন তিনি আমাকে জীবনের কাজের ক্ষেত্রে মুক্তি দিয়াছিলেন, ছোটো ছেলে যেমন মুক্তি পায় খেলার আঙিনায় ; জ্যাঠামশায়ের মৃত্যুর পরে তিনি আমাকে মুক্তি দিয়াছেন রসের সমুদ্রে, ছোটো ছেলে যেমন মুক্তি পায় মায়ের কোলে । দিনের বেলাকার সে মুক্তি তো ভোগ করিয়াছি, এখন রাতের বেলাকার এ মুক্তিই বা ছাড়ি কেন । এ দুটো ব্যাপারই সেই আমার এক জ্যাঠামশায়েরই কাণ্ড, এ তুমি নিশ্চয় জানিয়ো ।” আমি বলিলাম, *যাই বল, এই তামাক-সাজানো পাটেপানো এ-সমস্ত উপসর্গ জ্যাঠামশায়ের ছিল না— মুক্তির