পাতা:চয়নিকা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

১১

চয়নিকা

১১

            চয়নিকা                ১১

পুলকে পুরে প্রাণ, শিহরে কলেবর, প্রেমের ডাক শুনি এসেছে চয়াচর । এসেছে রবি শশী, এসেছে কোটি তারা ঘুমের শিয়বেতে জাগিয়া থাকে যারা ।

পরান পুরে গেল, হরষে হোলো! ভোর, জগতে কেহ নাই, সবাই প্রাণে মোর । প্রভাত হোলো! যেই, কী ভানি হোলো এ কী, আকাশ পানে চাই, কী জানি কারে দেখি।

পুরব মেঘ মুখে পড়েছে রবি-বেখা,

অরুণ-রথ-চূড়া আধেক যায় দেখা !

তরুণ আলো দেখে পাখির কলরব,

মধুর আহা কী-বা মধুর মধু সব।

মধুর মধু আলো মধুর মধু বায়,

মধুর মধু গানে তটিনী বহে যায় ॥

যেদিকে আধি যায় সেদিকে চেয়ে থাকে,

যাহারি দেখা পায় ভারেই কাছে ডাকে,

নয়ন ডুবে যায় শিশির আখি-ধাঁরে,

হৃদয় ডুবে যায় হরষ-পারাবারে।

আয় রে আয় বায়ু যা রে যা প্রাণ নিয়ে,

জগৎ মাঝারেতে দে রে তা প্রসারিয়ে।

পেয়েছি এত প্রাণ _.. যতই করি দান কিছুতে যেন আর ফুরাতে নারি তারে।

আয় রে মেঘ, আয় বারেক নেমে আয়, কোমল কোনে তুলে আমারে নিয়ে যা রে।

কনক-পাল তুলে? বাতাসে ছুলে' ছলে* ভাসিতে গেছে সাধ আকাশ পাবাবাবে।