পাতা:চিঠিপত্র (প্রথম খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৯৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তার পরিবেশে শিল্পীর হাতের পরিচয় থাকা চাই। মা রামার কথা ভাবতে লাগলেন, অন্তরা সাজানোর দিকে মন দিলেন --- ১৮৯৭ সালে বাংলাদেশে ভূমিকম্প হয় . সেই সময়ে সেবার নাটোরে কংগ্রেসের প্রাদেশিক কনফারেন্স ডাকা হয়েছিল । নাটোরের মহারাজা নিমন্ত্রণকর্তা— আমাদের বাড়ির সকলকেই অনুরোধ জানিয়েছিলেন তার আতিথ্য গ্রহণ করতে । পুরুষরা সকলেই নাটোরে চলে গেলেন। তার দুদিন বাদেই ভূমিকম্পে কলকাতা শহর তোলপাড় করে দিল । অনেক বাড়ি পড়ল, মানুষও মারা গেল । নীচে নামবার সময় ছাদ থেকে টালি ভেঙে মা'র মাথায় পড়ল । একতলায় একটা ঘরে তাকে শুইয়ে রাখা হল । নিজের আঘাতের যন্ত্রণ অপেক্ষা দুশ্চিন্তা তার বেশি হল । বাড়িতে পুরুষমানুষ কেউ নেই– নাটোরে তাদের কী হচ্ছে খবর নেবার উপায় নেই। রেলপথ বন্ধ, টেলিগ্রাম-যাতায়াত বন্ধ । -- বাবা মনে করতেন— রামায়ণ মহাভারত ও পৌরাণিক কাহিনীর সঙ্গে পরিচয় শিক্ষার একটি প্রধান অঙ্গ হওয়া উচিত । কিন্তু ছেলেদের পড়ে শোনানো যায় বা তাদের হাতে পড়তে দেওয়া যায় এমন কোনো বই তখন ছিল না । ভাষার বিশেষ পরিবর্তন করে, প্রক্ষিপ্ত ও অবান্তর ঘটনা বাদ দিয়ে মূল গল্প দুটি অটুট রেখে রামায়ণ ও মহাভারতের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ প্রকাশ করার আগ্রহ তার এই সময়ে দেখা গেল । রামায়ণ সংক্ষিপ্ত করার ভার দিলেন মাকে আর মহাভারত সুরেনদাদাকে । তাকে বললেন কালীপ্রসন্ন সিংহের তর্জমা অবলম্বন করে সংক্ষিপ্ত করতে । রামায়ণ সম্বন্ধে কিন্তু মাকে বললেন মূল সংস্কৃত থেকে সংক্ষেপ করে তর্জমা করতে । পণ্ডিত হেমচন্দ্র ভট্টাচার্যের সাহায্যে মা আগাগোড়া রামায়ণ পড়ে নিয়ে তর্জমা করতে লাগলেন । প্রয়োজনমতো বাবা পরিবর্তন বা সংশোধন করে দিতেন । একটি বাধানো খাতাতে কপি করে রেখেছিলেন– তার থেকে মাঝে মাঝে আমাদের পড়ে শোনাতেন। মৃত্যুর পূর্বে মা এ কাজটি সম্পূর্ণ )の q