পাতা:ঝাঁশির রাণী - জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ঝুঁশির রাণী।

৪১

হইতে গোলাবর্ষণ হইতে লাগিল। ইহাতে করিয়া, ঝুঁশির তোপ-খানার (আর্টিলারি) কতকগুলি গোলন্দাজ নিহত হওয়ায় ঝাঁশির তোপ বন্ধ হইয়া। গেল এবং ব-প্রকারও কতকটা ভগ্ন হইল। ইংরাজদিগের কুলুপী-গোল। সহরের মধ্যে আসিয়া পড়ায়, সহরবাসী লোকদিগের মধ্যে মহা আতঙ্ক উপস্থিত হইল। এই ভয়ঙ্কর গোলা, রাস্তা কিম্বা ঘরের উপর পড়িবামা ফাটিয়া চারিদিকে প্রক্ষিপ্ত হওয়ায়, অনেক লোেক জখম ও নিহত হইল। সহরের দোকান-হাট বন্ধ হইয়া গেল—অনেক ঘরে আগুন লাগায়, তাহার প্রজ্বলিত শিখায় গগনমণ্ডল আরক্তিম হইয়া উঠিল। এই দারুণ কাণ্ড প্রত্যক্ষ করিয়া রাণীঠাকুরাণী অত্যন্ত ব্যথিত। হইলেন, কিন্তু ইহাতে হতবুদ্ধি না হইয়া, যাহাতে লোকের কষ্ট নিবারণ হয়, তাহার সমুচিত ব্যবস্থা করিতে লাগিলেন। যে সকল প্রজার গৃহদাহ হইয়াছিল, সেই অনাথ লোকদিগের জন্য অন্নদানের ব্যবস্থা করিলেন—দক্ষিণী ব্রাহ্মণদিগের জন্য গণপতির মন্দিরে অন্নসত্র খুলিলেন, এবং অপর সাধারণের জন্য সদাব্রতের উদ্যোগ করিয়া কাঙ্গাল গরিবদিগকে ছোলা-ভাজা বিতরণ করিতে লাগিলেন। রাণীঠাকুরাণীর নিকট হইতে সৈন্যগণ উত্তেজনা ও উৎসাহবাক্য প্রাপ্ত হইয়া, ইংরাজের ভীষণ কুলুপী- গোলাতে ভ্রুক্ষেপ না করিয়া, বন্দুক হইতে এক সঙ্গে অজস্র গুলি বর্ষণ করিতে লাগিল। এই যুদ্ধে উভয় পক্ষেরই বিস্তর লোক জখম ও নিহত হয়। চতুর্থ দিবসে, অর্থাৎ ২৫ মার্চ তারিখে, ইংরাজের কেল্লার দক্ষিণ- ভাগ হল্লা করিয়া আক্রমণ করিল; উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ আরম্ভ হইল; অবশেষে, দ্বিপ্রহরের সময়, কেল্লার দক্ষিণ বুরুজের তোপ বন্ধ হইয়া গেল। ইহাতে কেল্লার লোকেরা অত্যন্ত হতাশ হইয়া পড়িল। সেই সময়ে, পশ্চিমস্থ বুরুজের গোলন্দাজ, পে-মঞ্চ হইতে তোপ উঠাইয়া লইয়া দূর্বীণের দ্বারা উত্তম লক্ষ্য সন্ধান করিয়া, কেল্লার দক্ষিণ বুরুজে আবার তোপ মঞ্চ বসাইল। এবং তথা হইতে প্রচণ্ড গোলাবর্ষণ আরম্ভ