পাতা:পলাতকা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/৭৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পলাতক। সকাল-সাঝে মাঝে মাঝে বাজাই ঘরের কোণে মেঠো গানের সুর যা ছিল মনে । ঐ-যে ওদের কালো মেয়ে নন্দরানী— যেমনতরো ওর ভাঙা ঐ জানলাখানি, যেখানে ওর কালো চোখের তারা কালো আকাশতলে দিশাহারা, যেখানে ওর এলোচুলের স্তরে স্তরে বাতাস এসে করত খেলা আলস-ভরে, যেখানে ওর গভীর মনের নীরব কথাখানি তাপন দোসর খুজে পেত আলোর নীরব বাণী, তেমনি আমার বাশের বাশি আপন-ভোলা, চাব দিকে মোর চাপা দেয়াল, ঐ বাশিটি আমাব জানলা খোলা। ঐখানেতেই গুটিকয়েক তান ঐ মেয়েটির সঙ্গে আমার ঘুচিয়ে দিত অসীম ব্যবধান । এ সংসারে অচেনাদের ছায়ার মতন আনাগোনা, কেপল রাশির স্বরের দেশে দুই অজানার রইল জানাশোনা । যে কথাট। কান্না হয়ে বোবার মতন ঘুরে বেড়ায় বুকে উঠল ফুটে বাশির মুখে । বাশিব ধারেই একটু আলো, একটুখানি হাওয়া, যে পাওয়াটি যায় না দেখা স্পৰ্শ-অতীত একটুকু সেই পাওয়া । -טף