পাতা:প্রবাসী (ঊনত্রিংশ ভাগ, দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৫৭৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৪র্থ সংখ্যা ] করে কাটাতে চাইত না । করুণ চোখে পিতাকে মিনতি করত-আমাকে আর পরের ঘরে পুতুল খেলতে বলে না বাৰা ! ফিরে এসে দেখৰে তুমি, ঘরের কতগুলি কাজকৰ্ম্ম মামি সেরে-স্বরে রেখেছি। ঘরে বাইরে এত থাটুনি খেটে কি মানুষ রাচে ? সেই থেকে পিতার সকল রকম আপত্তি থগুন করে একলা ঘরে কাজকর্শ্বের সঙ্গে সে জড়িয়ে পড়ে থাকৃত । সকাল বিকালের একটা সঙ্গিনীও তার জুটে গেল। সে অন্নদা চাটুৰ্য্যের মেয়ে রমা। রমার সঙ্গে খুব ভাব। তাদের মনের মাঝে আবরণ নেই, কেউ কাকে ও রেখেঢেকে বাচিয়ে চলে না, এমনি গলায় গলায় ভাব । রমা বললে,-“সারাদিন খেটে মরিণ, একটু পড়াশুনো কর না ভাই ।” স্তু জবাব দিলে, “বই পাব কোথায় । বাবা একলা মাঙ্গুয, সময় বা তেমন কই ?” সেই থেকে রমা নিজের বই দপ্তর সঙ্গে করে সকাল বিকেল প্রতিদিন এসে হাজির হত। আর স্থলে যা শিখে পড়ে আসত, সতুর কানে উজাড় করে ঢেলে দিত। তরুণ শিক্ষয়িত্রীর ভুলভ্ৰাপ্তি কিছু কম হত না। ভুলে নিভৃলে মিশে সতুর মনে কিন্তু একটা অনুভূতি সন্ধাত হয়ে উঠছিল। সে পথ খুঁজে পেলে। তখন রমার মত গুরুমশাই কাছে না থাকলেও চলে ষেত । মেয়ের দিকে চেয়ে দেশে সারদা হঠাৎ একদিন চমকে গেল। সতুর মাথা উঠেছে উচু হয়ে—খিড়কীর দ্বার দিয়ে গলে না। চোখের পাঞ্জ এসেছে নেমে-মাটি ছেড়ে ওঠে না । তৃষ্ণ মিটানোর যা কিছু বিশ্ব-ভাণ্ডারীর হাত থেকে কত মহামূল্য আবরণ ছিনিয়ে নিয়ে দেহখানা কোন অবসরে সে সাজিয়ে ফেলেছে। সারদ। চটকলের কেরাণী । হাতের কলমটি পায়ের বেড়ী। সময় কই যে পাত্তর খোজে ?” কেবল রাত্তির বেল বিছানায় গুয়ে পড়ে মনে মনে রঙীন কল্পনা জমিয়ে তোলে। সতু যে শাস্ত মেয়েটি, জন্মলগ্নে হয়ত বৃহস্পতি অথবা ঐ রকমের কোনো শুভগ্রহই রয়েছে। ও কি আর নোনা চালতা আর বৈঁচির বাগানে ঠাসা পড়ে একখানা গোলপাতার ঘরে পড়বে ? না, মাসকাবারের আটটি টাকার জন্তে ডাকের দিকে চেয়ে তীর্থের কাক হয়ে বসে মানী یہ حمیم: سہ = = ،r = seےچھ۔ . ہم وہ اس مہ= @ハ○>

= تیم اتمی همیم. - سبعید ===

থাকৃবে ? চটকলেই ত ক’টি ছোকৃরা বাৰু এসে ঢুকেছে, বেশ মোট মাইনে পায়। দিনে নেহাৎ কম করেও পাচটি বাক্স সিগারেট ফুৰুে ছাড়ে। সতুর রূপগুণের কথা শুনলে হয়ত একটা-ন-একট। এসে গেঁথে যাবে। এইসব সরস কল্পনায় জেগে জেগে সারদার চোখে কালি পড়ে এল। ভোরবেলায় ছেড়া চাদরটা কাধে ফেলতে মেয়ের রূপগুণের কথা শোনানোর সৎ সাহস আর থাকে না । মতলব যায় ফেলে । সারদা চেষ্টাচরিত্র তেমন করতে পারলে না । সতু ৪ যৌবন নিয়ে জেকে উঠল। বংশীর সদর দরজা খোলাই ছিল। অবশেষে সারদা তাকে নিরাপত্তিতে টেনে এনে পায়ে শৃঙ্খল পরিয়ে দিলে । সতু এসে দেখলে সেই তেমনি নির্জনতায় তার স্বামীর ঘরটিও ভরপুর। চোখ দিয়ে অতর্কিতে খানিকট। জল ঝরে পড়ল । ধাকৃ—দণ্ডের সঙ্গে এবার কিছু স্থবিচার ছিল। এবার সে একেবারে নিঃসঙ্গ হ’ল না। ইচ্ছুর, বেরাল, আরণ্ডল, টিকৃটিকি, গিরগিটি, চামচিকে আপনার লোকের মতই ঘরটি জুড়ে কিলবিল করে। সাপ, ব্যাঙ, কাকড়াবিছে—এর শক্রলোক – গা ঢাকা দিয়ে থাকা স্বভাব এদের-হঠাৎ কুটুম্বুর মত মাঝে মাঝে দেখা দিয়ে চমক লাগায়। একটা কঙ্কালসার কুকুরও দাওয়ার কোণটি অধিকার করে চক্র ফেরে। কোনো কিছু দেখলে দাত খি চোয় । চিকণ দাতগুলো চোখে এসে বেঁধে । এই ত গেল একটা দিকের ব্যাপার। আর ছিলেন স্বামী। স্বামীটি যে কোন বলে দৃপ্ত সতু তখনও ঠাওর করে উঠতে পারেনি। সে দেখলে, রান্নাঘরের ধূম মাঝে মাঝে বিগড়ে যায়। ভিখারী দরজায় এসে বৃথা স্থাকে,-ভিক্ষে পাই মা ! কুকুরটারও খিচুনি বেড়ে উঠল। অথচ স্বামীর গা ঝাড়া দেবার লক্ষণ নেই। বংশী বেলা ন’টা অবধি বিছানায় গুয়ে পড়ে থাকে। কতক ঘুমিয়ে—কতক জেগে । যখন মুখের কাছে দেশলায়ের কাঠি জলে ওঠে, সতু বোঝে-জেগে । যখন পাশবালিশট হাতের বন্ধনে আটক পড়ে, জার নিশ্বাসের জোর শব্দ শোনা যায়, সতু ভাবে-খুমিয়ে।