পাতা:প্রবাসী (সপ্তদশ ভাগ, প্রথম খণ্ড).pdf/১৫২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২৫২ প্ৰবাসী— আষাঢ়, ১৩২৪ [ ১৭শ ভাগ, ১ম খণ্ড ক্ষে অঞ্চল দিয়া কঁাদিতে লাগিলেন। বীরেনের মা ফেলিয়াছে, মরণ যেন পঞ্চাননের স্পৰ্ব্বাকে হাসিয়া বিস্তুপ বাবা তাহার পায়ের ধূলা লইয়া বিদায় হইলেন । করিতেছে রাত্ৰে মায়ের কোলের কাছে শুইয়া বীৱেন কাতরস্বরে পঞ্চানন বীরেনকে টানিতে-টানিতে বাহিয়ে লইয়া কলিমা, আমাদের বাড়ীতে শেওয়া আজ এই শেষ আদিল । ধীরেন্দ্ৰ মা-মা করিয়া কাদিয়া লুটাইয়া মাষ্ট কাল কোথায় শো মা ? ডিজাইতে লাগিণ “তত্ব কি বাবা, তুই বেটাছেলে ৱিা তাহার তাহার কায়ার শঙ্গে পাড়া প্ৰতিবাসী চুটিয়া বাহিৰ আর কোনো কথা বলিতে পারিলেন না ; ছেলেকে হইয়া আসিয়া পখনকে জিজ্ঞাসা করিল-ভটচাবি-শায় বুকে চাপিয়া বিয়া কাদিতে লাগিলেন ছেলেও কাদিতে কি হয়েছে ? পঞ্চানন মুকি হাসিয়া বলি-মাগল গলার দড়ি দিয়ে কাঁদিতে -কাদিতে বীরেন নাইবা পড়িলে তাহার মা ময়েছে উঠা বসিলেন । তাহার একবার মনে হইল সমস্ত বাড়ীতে পঞ্চানন একান পাইককে বলিল— ওয়ে বসু, বা ত কেজোনি চাই আগুন লােগাইয়া দিবা বীরেন হাত হসে-দারোগাকে গা নিয়ে অা । ধরিয়া বাহির হইয়া গেলে কেমন হয় । তখনই মনে হইল প্ৰভাতে উঠিয়াই দয়ানেৰী ডান চিন্তাকুল মুখে যে আশেপাশের বাড়ীতে আগুন লাগিয়া অপরের সাৰ্ব্বনাশ গানলা হইতে বীরেনদের বাড়া দেখা যায় সেই জানাটিতে হইতে পারে। অনেকক্ষণ বসিয়া ভাবিদ্যা-ভাবিয়া সন্তৰ্পণে অসিয়া দাড়াইয় বীরেনদের বাড়ীর দিকে একদৃষ্টি পুরে মুখচুম্বন করিয়া তিনি আস্তে-স্বাস্তে কপাট পুলিয়া তাকাইয়া ছিলেন তিনি দেখিতে লাগিলেন পঙ্কাৰ ধৱ হইতে বাহির হইয়া গেলেন তালি, ধীরেন বাহিরে অসিয়া আবার বাড়ীর মধ্যে চলিয়া সকাল বেলা পঞ্চাননের ডাকাডাকিতে বীরেনের ঘুম গেল, একটু পথেই পঞ্চানন ৪টি বাড়ীর মধ্যে গিয়া আকুল তালি ! বীৱেন ঘরে মাকে নেপিতে পাইল না। কান্না-কাতর বীরেন্দকে টানিতে-টানিতে বাহিরে লই পেচা ডাকে সাড়া দিয়া সদর দরজা খুলিয়া পঞ্চাননের আসিল, বীরেন মাটিতে পড়িয়া গড়াগড়ি দিতেছে, পাড়া কাছে গিয়া সাড়াইল লোকো আসিয়া জমিতেছে দয়াদেবী ক্ৰোধে লিতে পঞ্চানন বলি -তোমার মাকে বল, আস্তে আস্তে ছিলেন, এই মনে করিয়া, যে, পাষণ্ড পেগোটা ঐ দুয়ে মানে মানে বেরিয়ে যান, আৰ্থালতে পেয়াদা এসে বা ছেলেটার গাৱে হাত তুলি: পাতিছে করে দেবে সেটা কি ভালো হৰে ? লোক সব পাড়াইয়া দেপিছে ! বেদনায় তিনি নিষ্কল ীরেন্দ্ৰ মাকে বলিতে বাড়ীর মধ্যে আসিৱা ডাকি — ঘন ঘন চেগে পুছিতে লাগিলেন তারপর দেখিলে হাসে দারোৎ ঢেকীয়া পদে করিয়া আসিল । কোনো সাড়া পাইলা না দেবীর বুক কাপিয়া উঠিল, এত করিয়া ও ইহাদেৱ মনে এ-ঘৱ সে-যর পুলি, কোথাও তােহর মা নাই সাধ পূৰ্ণ হইল না। শৰে দুধের ছেলেটকে পুলিশ দিৰে খিড়কির পুকুরে হাতমুখ ধুইতে গিয়াছেন মনে করিয়া নাকি লাগে দুঃপে তাহার চিরম দুৰ্ব্বণ শরীর খেয়া খিড়কির দিকে যাইতেই ভয় পাইয়া বীরেন চীৎকার করিয়া করিয়ু কপিতে লাগিণ উঠিল । সেই চীৎকার নিয়া পঞ্চানন চুটিয়া আসিয়া এমন সময় মোহিনী পি চুটিয়া আসিয়া বলিল—যাগে দেখিল খিড়কির পথের ধাৱে শিউৰি-গাছের ডালে গলায় মা শুনে ?- বেন দাদার মা গলায় দড়ি দিয়ে ময়েছে দড়ি দিয়া বীরেনের মা বুলিতেছেন ; মরণব্যস্ত্ৰণা য়ে সঙ্গাঙ্গের দয়াদেবী শাকম্‌ষ্টি হইয়া কপালে চোপ তুলিয়া ভার্চ অক্ষেণে নাড়া পাইয়া শিউলি গাছ হইতে হাসির মতন শুদ্ৰ বাণিত কণ্ঠে বিস্ময় প্ৰকাশ করিয়া শুধু বলিতে পাৰিলে- । কুলগুলি রিয়া ৱিা গাছের তলা একেবারে ছাইয়া অঁ । ৩য় সংখ্যা ] দুই তার ২৫৩ তারপর উন্মাদিনীর ন্যায় বেগে ঘর হইতে বাহির হইয়া পঞ্চানন আগাইয়া আসিয়া বলিল-আহে পায়ী দিয়া জোতের স্নায় নামিয়া খিড়কি দরজা পার হইয়া আনতে লোক গেছে । রেনদের বাড়ীর দিকে নক্ষত্ৰ গতিতে চুটিলেন । তাহার দয়াদেবী জোর করিয়া লিতে-লিতে উঠিয়া দাড়াইয়া মাথা হইতে ঘোমটা খসিয়া পড়িয়াছে, বাrিবাসে কবরী বীরেনকে বণিলেন-বাবা , তুই আয়। খিল হইয়া বুলিয়া পড়িয়াছে, উত্তেজনায় তাহার মুখখানি পঞ্চানন অমনি বলিয়া উঠিল—ীরে, ধীরে, বর, ঘর, গন্মের মতন হইয়া উঠিয়ছে। তিনি সমাগত জনতার রাণীবেী টলছেন, এখনি পড়ে যাবেন : নিকেতক্ষেপ না করিয়া বীরেনের বুকের উপর ফাঁপাইয়া বীৰেন তাড়াতাড়ি উঠিয়া চাহাকে ধৰিল ; একজন ৱিা দুই হাতের সমস্ত বলে তাহাকে বুকের মধো চাপিয়া সীলোক ও ধতিল ; অনেক লোকে ধৰিল দেখিয়া ধীরেন ীিয়া আৰ্ত্তম্বরে ডাকা উঠিলেন — বাবা ধীরেন ৱাদেবীকে ছাড়িয়া দিয়া মায়ের পায়ের কাছে আবার সমস্ত লোক তটস্থ হইয় সরিয়া গিয়া সময় বিস্ময়ে বসিয়া পুলি পাগলার বলিয়া উঠিল— ণীম, দয়াদেী ধরেনের দিকে কিরিয়া বলিলেন—াৰা ধীরেন, বীরেন দ্বিগুণ ব্যথায় উচ্ছসিত হইয়া কাদি বলি৷ আমাকে বাড়ীতে তুই নিয়ে চ, ছোটবোঁ এর সংস্কারে ঠিল—জেঠিমা গো, মা নে মরে গেল, আমার কি হবে ? বাবস্থা করে দিইগে —ভয় কি বাবা, আমি তোর ম আর তুই আমার বীরেন কাতর দৃষ্টিতে তাহার মুখের দিকে চাৰিয়া সঙ্গে বাড়ীতে ।—বলিয়া দয়াদেবী বীরনের হাত ধরিয়া বলিল-আমি তোমাদের বাড়ীতে যেতে পাৱব না জেমি ঠিা দাড়াইলেন আমায় ওখানে যেতে বোলো না । ঠিক সেই সময় দু’জন লোকে ধরাধরি করিয়া বীরেনের দয়াদেবী ফিরিয়া দাড়াইয়া বলিলেন - ও বাড়ীতে মায়ে শবদেহ বাড়ীর ভিতর হইতে বাঢ়িবে লই ৷ মালি ীেকে বোতে বলব কেন ? ই বাড়ীই আজ থেকে দশাৱটিা মাটিতে লুটাইতে লুটাইতে আসিতেছে । ইহা আমার বাড়ী, আমি যে তোর মা ! দেখিলাই দাদেবী জোরে বলিৱা উঠিলেন—উঃ !—তারপর ধীরেন আর পঞ্চানন অবাক হইয়া তাহার মুখের দিকে থর করিয়া কঁাপিতে-কাপিতে ধরেনে পায়ের কাছে চাহিয়া ছিল সমস্ত লোক স্তু স্থত হইয়া পড়িয়া গেলেন দয়াদেবী হংসেম্বর দারোগার দিকে ফিৰিয়া কুদের চারিদিকে মহা কলৰ পঢ়ি গো-চল অনে, স্বৱে বলিলেন—াস আপনারা নিয়ে যাবেন না শাখা আনো, লাস সৱাও, শিগগির একখানা পাৰ্থী অনা, হংসের ব্যস্ত হইয়া বলিল—আছে না, আপনাৱা বামুক খবর দাও জল আসিল, পাথা আসিল, কিন্তু জমিদারের গৃহিণীর দয়াদেবী ডাকিলেন—ীরেন, লোক ডাক যে হাত নিবে কে ? সকলেই বলিতে লাগিল—ীনে সমবেত জনতার ভিতর হইতে অনেকেই বলিয়া উঠিল হেৰ, তুই মুখে জল দে, আমরা বাতাস করছি অময়াই নিয়ে যাছি দেখিতে দেখিতে পাড়াপী খ্ৰীলোকেরা লক্ষা অতি পঞ্চানন আগাইয়া আসিয়া বলিল—আপনি বাণী কবিয়া সেখানে আসিয়া দাদেবীর সেবার নিযুক্ত মধ্যে স্নান, আমরা সব ঠিক করে দিছি ইল । দয়াদেবী দুৰ্ব্বল চরণে ধীরে ধীরে ধীয়েনের বান্ধীয় দয়াদেবী চোখ মেলিয়াই চারিদিকে চাহিয়া মাথার মধ্যে গিয়া প্ৰবেশ করিলেন। মোটা টানিতে চেষ্টা করিলেন । একজন খ্ৰীলোক গা কাপড়টা তুলিয়া দিল। দয়াদেবী ক্ষীণকণ্ঠে বলিলেন চা বন্দ্যোপাধ্যায় । থা বীরেন, আমাকে তুই ধরে বাচী দিয়ে ;