পাতা:প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান.djvu/১৮১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


s १२ প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসললানের অবদান ও ঘটনাবহুল বাস্তব-কাহিনীর মধ্যে শুধু মাঝে মাঝে একটি সুগন্ধি দম্‌কা হাওয়ার মত ক্ষণস্থায়ী আনন্দ বিতরণ করিয়া দিয়া বহিয়া যায় নাই- ইহা শুধু রঙ্গীন ভাবুকতার চিত্রও নহে। কৃষকের কঠিন শ্রমিক-জীবন তাহার নৈসর্গিক পরিবেষ্টনীর মধ্যে যে কিরূপ মধুময় হইতে পারে –দৈনন্দিন চাষ-আবাদের মধ্যে—বেলা-অবসানে স্বীয় কুটীরে—নান বিচিত্র অবস্থায়, দিনের পর দিন কৰ্ম্মক্ষেত্রে পরস্পরের সাহচর্য্যে ও তাহাদের দাম্পত্য-জীবনের আনন্দ জলাভূমিতে অজস্র কুমুদের মত কিরূপ বাড়িয়া উঠে, কবি সেই চিত্ৰ দিয়াছেন। কৃষিপ্রধান বঙ্গদেশের কবি যাহা দিয়াছেন, অন্ত কোন দেশের কোন কবি দিতে পারিয়াছেন বলিয়া জানি না। রামচন্দ্র চিত্ৰকূট পৰ্ব্বতের বিচিত্র কুসুম-সম্ভারের মধ্যে সীতার সঙ্গে বিচরণ করিতে করিতে বলিয়াছিলেন— “তোমার সঙ্গে এই পাৰ্ব্বত্য প্রদেশে বাস করিয়া আমি অযোধ্যার সাম্রাজ্যও তুচ্ছ মনে করিতেছি।” একদিন দেওয়ানগিরি পাইয়াও দুলাল তাহার কুটীর-জীবনের প্রতি অনুরাগ সেইরূপভাবে বুঝিতে পরিয়াছিল। এই প্রেম ভগবানের দান, কৰ্দমের মধ্যে প্রস্ফুট কমল, জঙ্গল-ঘের পুষ্পবন, দুর্গম স্থানের অনাস্বাদিত সুষমা। ব্রততী যেমন তরুকে জড়াইয়া ধরে, ঐ দাম্পত্য-প্রেম সেইভাবে কৃষকের কুটীরকে আনন্দের নিকেতনে পরিণত করে ; অথচ বুলবুলীকে ধরা, খাচায় পোষা, আমের চারা পোতা প্রভৃতি শৈশবের ঘটনাগুলি বাস্তব জীবনের মধ্যে অনৈসর্গিক পূৰ্ব্বরাগের জন্ম দিয়াছে। প্রেম ভূমিস্পর্শ করিয়া ভূমির উদ্ধে উঠিয়াছে। এই যে চাষার জীবনে বাস্তব-জীবনের খুঁটিনাটির মধ্যে প্রেমের প্রকাশ —তাহার মৌলিকত্বও আছে ; তাহাতে romance-এরও অভাব নাই। কৰি চাষার-প্রেমের যে চিত্র আঁকিয়াছেন ও তাহাতে যে উচ্চ আদর্শ দেখাইয়াছেন, তাহার তুলনা নাই। •,