পাতা:প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান.djvu/৩১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


२२ প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান শ্রেণীতে বিভক্ত হইয়। বঙ্গের পল্লীতে পল্লীতে আডড স্থাপন করিয়া আছে । ইহাদের গুরুরা কেহ অতি নিম্ন শ্রেণীর, যথা—বলরামী। বলরাম স্বয়ং হাড়িকুল সদ্ভূত ছিলেন । ‘খুলী-বিশ্বাসী দল’-এর নেতা খুসী-বিশ্বাস মুসলমান ছিলেন। কিন্তু এই গুরুদের প্রতিপত্তি অসাধারণ। সহস্ৰ সহস্র হিন্দু ও মুসলমান এই দলে আছে। তাহাদের অনেকে ব্রাহ্মণ । কোন কোন দলে হিন্দু-মুসলমান একত্র হইয়। গো-মাংস ভক্ষণ করে। কোন কোন দলে ব্রাহ্মণ-শূদ্র ভেদ নাই। কোন কোন দল এখন বৈষ্ণব-মণ্ডলীর মধ্যে আসিয়া পড়িয়াছে । তাহারা তাহাদের মণ্ডলীর জাতিভেদ আদেী মানে না । তাহার যে ভাষা ব্যবহার করে, তাহা সাঙ্কেতিক ; তাহদের গণ্ডীর বাহিরে উহা কাহারও বুঝিবার সাধ্য নাই। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মহাশয় এই ভাষার নাম দিয়াছেন ‘সন্ধ্যা ভাষা’ । এই জাতিভেদ-প্রতিবাদিগণের আদি কথাও আমরা বহুপূৰ্ব্বে প্রায় বৌদ্ধের সমকালে বৌদ্ধশাস্ত্রে পাইয়াছি। সেই সময়ের একখানি বৌদ্ধ-পুস্তকের একটা গল্প এইরূপ : – তিশঙ্কুর নামে এক চণ্ডাল তাহার পুত্র শালিকর্ণকে লইয়। আর্য্যাবর্তের কোন স্থানে বাস করিত। এই পুত্র বেদাদি সৰ্ব্বশাস্ত্রে কৃত-বিদ্য ছিল, চণ্ডাল উৎসাহিত হইয় তাহার পুত্রের সঙ্গে একটি ব্রাহ্মণ কন্যার প্রস্তাব করে. উক্ত প্রস্তাবে ব্রাহ্মণ অতিশয় ক্রুদ্ধ হইলে—চণ্ডাল তাহাকে এই কথা বলে :– “সোনাতে আর ছাইতে খুব একটা প্রভেদ আছে। কিন্তু ব্রাহ্মণে আর অপর জাতীয় লোকের মধ্যে তেমন কিছু পার্থক্য নাই। কাঠে কাঠে ঘষিলে আগুন জন্মে, ব্রাহ্মণ তেমন কোন কাও হইতে জন্মে না। তাহারা আকাশ হইতে পড়ে না, ভূই ফুড়িয় উঠে না, ঠিক চণ্ডালের মতই ব্রাহ্মণ মায়ের পেট হইতে পড়ে। যখন মরে, তখন অন্ত জাতির মতই তাহার শব অশুচি হয়। ব্রাহ্মণ মাংস খাওয়ার লোভে ভয়ানক নিষ্ঠর যজ্ঞ করে । তাহারা বলে--"ছাগল-আদি পশুকে মন্ত্রদ্বারা পবিত্র করিয়া যজ্ঞে বধ করিলে