পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (তৃতীয় ভাগ).djvu/১৭৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


రిప్చె পে । চিন্তা নাই কেন ? আপনি আগ্রার একমাত্র অধীশ্বরী না হইলে যে সকলই বৃথা হইল । লু। আগ্রার সহিত সম্পর্ক রাখিব না। পে । সে কি ? আমি যে কিছুই বুঝিতে পারিতেছি না। আজিকার শুভ সংবাদটা তবে কি, বুঝাইয়াই বলুন। লু। শুভ সংবাদ এই যে, আমি এ জীবনের মত আগ্রী ত্যাগ করিয়া চলিলাম । পে । কোথায় যাইবেন ? লু। বাঙ্গালায় গিয়া বাস করিব । কোন ভদ্রলোকের গৃহিণী হইব । পে । এরূপ ব্যঙ্গ নুতন বটে, কিন্তু শুনিলে প্রাণ শিহরিয়া উঠে । - লু ব্যঙ্গ করিতেছি না। আমি সত্য সত্যই আগ্রH ত্যাগ করিয়৷ চলিলাম । বাদসাহের নিকট বিদায় লইয়া আসিয়াছি । পে । এমন কুপ্রবৃত্তি আপনার কেন জন্মিল ? লু কুপ্রবৃত্তি নহে। অনেক দিন আগ্রায় বেড়াইলাম, কি ফল লাভ হইল ? মুখের তৃষ্ণ বালাবধি বড়ই প্রবল ছিল । সেই তৃষ্ণার পরিতৃপ্তি-জন্ত বঙ্গদেশ ছাড়িয়া এ পর্য্যস্ত আসিলাম । এ রত্ন কিনিবার জন্য কি ধন না দিলাম ? কোন দুষ্কৰ্ম্ম না করিয়াছি ? আর যে যে উদ্দেশ্বে এত দূর করিলাম, তাতার কোনটাই বা হস্তগত হয় নাই ? ঐশ্বৰ্য্য, সম্পদ, ধন, গৌরব, প্রতিষ্ঠা, সকলই ত প্রচুরপরিমাণে ভোগ করি লাম । এত করিয়াও কি হইল ? আজি এইখানে বসিয়া সকল দিন মনে-মনে গণিয়া বলিতে পারি ষে, এক দিনের তরেও সুখী হই নাই, এক মুহূর্তের জন্যও কখন সুখভোগ করি নাই । কখন পরিতৃপ্ত হই নাই। কেবল তৃষা বাড়ে মাত্র ! চেষ্টা করিলে আরও সম্পদ, আরও ঐশ্বৰ্য্য লাভ করিতে পারি ; কিন্তু কি জন্য ? এ সকলে যদি সুখ থাকি ত, তবে এত দিন এক দিনের তরেও সুখী হইতাম । এই সুখকাজক্ষা পাৰ্ব্বতী নিঝরিণীর ন্যায়—প্রথমে নিৰ্ম্মল । ক্ষীণধারা বিজনপ্রদেশ হইতে বাহির হয়, আপন গর্ভে আপনি লুকাইয় রহে, কেহ জানে না ; আপনা আপনি কল কল করে, কেহ শুনে না | ক্রমে যত যায়, তত দেহ বাড়ে, তত পঙ্কিল হয় । শুধু তাহাই নয়, কখন আবার বায়ু বহে, তরঙ্গ হয়, মকর কুম্ভীরাদি বাস করে । আরও শরীর বাড়ে, জল আরও কর্দমময় হয়, লবণময় হয়, অগণ্য সৈকতচর মরুভূমি নদী হৃদয়ে বিরাজ করে, বেগ মন্দীভূত হইয়া যায়, তখন পারি যদি সেই সকৰ্দ্দম নদীশরীর অনস্ত সাগরে কোথায় লুকায়, কে বলিবে ? পে । আমি ইহার ত কিছুই বুঝিতে পারিলাম এ সবে তোমার মুখ হয় না কেন ? লু। কেন হয় না, তা এত দিনে বুঝিয়াছি। তিন বৎসর রাজপ্রাসাদের ছায়ায় বসিয়া যে সুখ না হইয়াছে, উড়িষ্যা হইতে প্রত্যাগমনের পথে একরাত্রে সে সুখ হইয়াছে। ইহাতেই বুঝিয়াছি। পে । কি বুঝিয়াছ ? লু। আমি এতকাল হিন্দুদিগের দেবমূৰ্ত্তির মত ছিলাম। বাহিরে সুবর্ণ রত্নাদিতে খচিত ; ভিতরে পাষাণ ইন্দ্রিয়স্থান্বেষণে আগুনের মধ্যে বেড়াইয়াছি, কখন আগুন স্পর্শ করি নাই। এখন একবার দেখি, যদি পাষাণমধ্যে খুজিয়া একটা রক্তশিরাবিশিষ্ট অন্তঃকরণ পাই । পে । এও ত কিছু বুঝিতে পারিলাম না । লু । আমি এই আগ্ৰায় কখনও কাহাকে ভাল বাসিয়াছি ? পে । (চুপি চুপি ) কাহাকেও না । লু। তবে পাষাণী নই ত কি ? পে । তা এখন যদি ভালবাসিতে ইচ্ছা হয়, তবে ভালবাস না কেন ? লু। মানস ত বটে। করিয়া যাইতেছি । পে । তারই বা প্রয়োজন কি ? আগ্ৰায় কি মানুষ নাই ষে, চুয়াড়ের দেশে যাইবে ? এখন যিনি তোমাকে ভালবাসেন, র্তাহাকেই কেন ভালবাস না ? রূপে বল, ধনে বল, ঐশ্বৰ্য্যে:বল, যাহাতে বল, দিল্লীর বাদশাহের বড় পৃথিবীতে কে আছে ? লু আকাশে চন্দ্র স্বৰ্য্য থাকিতে জল অধোগামী কেন ? পে । কেন ? লু। ললাটলিখন ! লুৎফউন্নিসা সকল কথা খুলিয়া বলিলেন না । পাষাণমধ্যে অগ্নি প্রবেশ করিয়াছিল। পাষাণ দ্রব হইতেছিল । না | সেই জন্ত আগ্র ত্যাগ