পাতা:বঙ্কিম-প্রসঙ্গ.djvu/১৬৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

বঙ্কিমচন্দ্র ও বঙ্গদর্শন ')\నిస ক্লাসের বিশ্রামঘরে বসিয়া বঙ্কিমবাবু ও আমি। দিন যার ত ক্ষণ যায় না। বহুদিন গিয়াছে, কিন্তু এবার বঙ্কিমবাবু ক্ষণ কাটাইতে পারিলেন না। শুভক্ষণে, অতি শুভক্ষণে, বঙ্কিমবাবু কথা কহিতে লাগিলেন। এ কথা সে কথা, ও কথা, কোথা হইতে কিরূপ করিয়া পড়িল—রহস্তকার রেণল্ডের কথা। তখন দুই জনে অসিধার রেণল্ডের মুগুপাত করিয়া, বসিয়া বসিয়া তৃপ্তিপূৰ্ব্বক, দুই জনে সেই মুড়ি চিবাইতে লাগিলাম। চৰ্ব্বণের সেই রসগ্রহে, দুই জনের ভিতরে সহৃদয়ত জন্মিল, দিন দিন সেই সমৃদয়ত ক্রমে ক্রমে অবিচ্ছেদে বিশেষ বন্ধুতন্ত্র পরিণত হইয়াছিল। তিনি , বড়, আমি ছোট, তিনি বয়সে বড়, জাতিতে বড়, বিষ্ঠায় বড়, কৃতিত্বে বড়, কিন্তু ছোট বড় বলিয়া বন্ধুত্বে কোনও ব্যাঘাত হয় নাই। বঙ্কিমবাবুর ‘বন্ধুবৎসলতার পরিচয় চন্দ্রনাথ দাদা যথেষ্ট দিয়াছেন। আমি আর চন্দনে সুগন্ধি প্রক্ষেপ করিব কেন ? আমাদের এই নব বন্ধুতার অচিরাং একরূপ পরিণতি হইয়াছিল। দুই দিকে তাহার দুইরূপ ফল পাওয়া গিয়াছিল। সেই কথার একটু সবিস্তার পরিচয় এক্ষণে দিব। পাঠক, আবার বলি, আমার আত্মম্ভরিতা আবার মার্জনা করিবেন। বহু পরে বঙ্কিমচন্দ্র “লুপ্ত-রত্নোদ্ধারে’র ভূমিকায় বলিতেছেন,— “উহাতেই (আলালের ঘরের দুলাল হইতেই) প্রথম এ বাঙ্গল দেশে প্রচারিত হইল যে, যে বাঙ্গলা সৰ্ব্বজনমধ্যে কথিত ও প্রচলিত, তাহাতে গ্ৰন্থরচনা করা যায়, সে রচনা মৃন্দরও হয়। বাঙ্গলা ভাষার এক সীমায় তারাশঙ্করের কাদম্বরীর অম্বুবাদ আর