পাতা:বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস (বৈশ্য কাণ্ড, প্রথমাংশ).djvu/২৭৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১ম অংশ। ] : অগরবাল-সেলুক-বংশ ኟዓግ আসিয়া বাণিজ্যনিৰ্ব্বাহের জন্য উভয় স্থানেই মোকাম বা কুঠী স্থাপন করিয়াছিলেন। সাহাকুলপরিচয়ে প্রথমে সাহু নামক এক সাধুর আগমন ও মোকামস্থাপন এবং র্তাহার পরে তঁহারই পরামর্শক্রমে ‘সুলোক’হইতে সপরিবারে বণিকৃগণের আগমন প্রসঙ্গ আছে, তাহ সুদূর অতীত কাহিনীর ক্ষীণ স্মৃতিমাত্র। আমাদের বিশ্বাস যে, সৌলুকদিগের মধ্যে সাহু প্রমুখ বণিকদলই সৰ্ব্ব প্রথম সমুদ্র বন্দর তামলিপ্তে আসিয়া স্থায়িভাবে বাস করিতে থাকেন, এবং সাধুবৃত্তি বা টাকা ধার দেওয়া ব্যবসা করিতেন বলিয়। সাধারণের নিকট “সাহ’ বলিয়া পরিচিত হন । সাহ|কুলপরিচয়ে ‘সাহু ব্যক্তিবিশেষের নাম বলিয়। গৃহীত হইয়াছে বটে,কিন্তু এ শব্দটী কোন ব্যক্তির নাম বলিয়া মনে হয় না, ইহা যে বণিকসমাজের একটি বৃত্তি ও বংশাখ্য' তাহ৷ সকলেই স্বীকার করিবেন। আমাদের মনে হয় যে, সুবাহু সমুদ্রবন্দরে আসিয়৷ পূৰ্ণবাগত সাহুবংশের সহিত মিলিত হন,এখানে বাণিজ্য ও বাস উভয়ই বিশেষ সুবিধাজনক ভালিয়া তিনি স্বদেশে গিয়া তথা হইতে আত্মীয় স্বজন ও পরিবারবর্গ লইয়া পুনরায় বঙ্গে আগমন করেন। নবাগত সোঁবুকগণ এখানে বাসস্থাপনকালে যে পূর্বাগত তামোলী সাহু বংশের যথেষ্ট সহানুভূতি ও সাহায্যলাভ করিয়াছিলেন, তাহারই ক্ষীণস্কৃতি সাহাকুল-পরিচয় হইতে পাইতেছি । তামোলবংশ পূর্বকাল হইতেই পাটলীপুত্র ও গৌড়ের রাজসভায় প্রতিপত্তি লাভ করিয়াছিলেন তাহা তামোলীকুলপরিচয় হইতে পূর্বেই উদ্ধত হইয়াছে। পূৰ্ব্ব প্রতিষ্ঠিত সাহু-বংশের আবেদনেই যে গৌড়পতি সুবাহু প্রমুখ সৌলুকদিগকে নিজ রাজধানীতে কারবার খুলিতে অনুমতি দান করিয়াছিলেন এবং বাণিজ্যের সুবিধার জন্য উপযোগী ভবনদি প্রস্তুত করাইয়া দিয়াছিলেন, তাহাও উদ্ধত কুলপরিচয় হইতে পাইতেছি । অগরলাল ও সেলুক এই দুই ভিন্ন আখ্যা দেখিয়া অনেকে মনে করেন যে দুইটি ভিন্ন জাতি, কিন্তু বাস্তবিক তাহা নহে। অগরবাল ও সৌলুকগণ যে মূলতঃ এক বংশসস্তুত, তাহার প্রমাণ পাওয়া গিয়াছে, সংক্ষেপে তাহ বিবৃত হইয়াই যে বঙ্গবাসী সমুদ্রবাণিজ্যে বাহির হইতেন, সহস্ৰ সহস্ৰ সমুদ্রপোত যে এক সময় তাম্রলিপ্তবনারে উপস্থিত থাকিত, তাহা ঐতিহাসিক সত্য ও সৰ্ব্ববাদিসন্মত । কিন্তু সাগরকানী গ্রামে কখন যে সেরূপ সমুদ্রবন্দর ছিল তাহার প্রমাণাভাব। এ কারণ আমরা কুলপরিচয়বর্ণিত সাগরবন্দরকে স্বপ্রাচীন তাম্রলিপ্তবন্দর বলিয়াই গ্রহণ করিলাম, সম্ভবতঃ সাহাকুলপরিচয়ের গ্রন্থকার এস্থলে প্রাচীন কুলজীর পুথি বিস্মৃত হইয়া স্বকপোলকরনার অবতারণা করিয়াছেন।