পাতা:বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয় (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৯৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৮৯৭
পরিশিষ্ট—বিবিধ গান।

সেই না পাপে হইলাম আমি
অল্প বয়সে রাঁড়ি॥
কার যেন ভরা ক্ষেতেরে
আমি দিয়াছিলাম হাত।
সেই পাপেতে ছেড়ে বুঝি
গেল প্রাণনাথ॥
কার যেন মাথার সিন্দুর
দিছিলাম মুছিয়ে।
সেই না পাপে প্রাণনাথ
গিয়াছে ছাড়িয়ে॥

( ২ )

বঁধু তোমায় কর্‌বো রাজা বসে তরুতলে।
চক্ষের জলে ধুয়ে পা মুছাব আঁচলে।
বনফুলের মালা গেঁথে দেবো তোর গলে॥
সিংহাসনে বসাইতে, দিব এই হৃদয় পেতে,
পীরিতি পরম মধু দিব তোরে খেতে; * * *
বিচ্ছেদেরে বেঁধে এনে ফেলবো পায়ের তলে।
মালঞ্চ আর পুষ্প এসে ফুট্‌বে কেওয়ার ডালে॥

( ৩ )

হেন সোণার বিলরে কত ফুল ফুটেছে হায়রে।
নরাল সরাল সোণার পাখী চড়ে এই বিলেরে॥
গুলোল বাঁশে[১] মার্‌বো পাখী পরাণে বধেরে।
(ও না সোণার পাখীরে)
আমার পরাণে সহিবে কত আমি অবলা নারীরে॥

( ৪ )

আমার এই সুখের সময় মরা মালঞ্চে ফুল ফোটেরে।
এমন ব্যথিত সই রে মোর দুঃখে জনম গেল রে॥
সুখের দিন পেয়েও হায় পেলেম নারে।
সিঁদ কেটে চোর গিছ্‌লো ঘরে, ঘরের লোক সব পলাইল ডরে,
আমার অঞ্চলের ধন কুচো সোণা খ’সে প’লো অন্ধকারে॥
ও যেমন কুমরেতে এনে মাটী, ছেনে করে পরিপাটী,
কাচায় তার রং মেশে না, মধুমালার ভাগ্যে আজ বুঝি তাও
হ’লো না॥

২৩৮
 
  1. যে বাঁশ দ্বারায় গুলি মারা যায়, পূর্ব্ববঙ্গে ধনুকে গুলোল বাঁশ বলে।