পাতা:বাগেশ্বরী শিল্প-প্রবন্ধাবলী.djvu/২৪৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।
২৪০
বাগেশ্বরী শিল্প প্রবন্ধাবলী

পরিচয়ের দ্বারা ঔদাসীন্ত এনে দেয় না তাদের মনে, পলে পলে বা০ে বারে এর মনের সঙ্গে এসে লাগে, চোখে এসে লাগে এর নতুন হয়ে মধুর হয়ে । পবত একবার দুবার দেখলে তাকে দেখার তৃষ্ণ মিটে গেল আমাদের, কিন্তু রূপদক্ষ তারা আমাদের চেয়ে সৌভাগ্যবান, তারা .ে শুধু রূপ বা ভাবটাই পেলেন না পবতের বা অরণ্যের বা ফুলের ধ কবিতার বা ছবির অথবা গানের—র্তারা রূপের সঙ্গে রূপের ভাব এবং তাদের মাধুরী যা রূপকে চিরযৌবন দেয় তা পর্যন্ত পেয়ে ধন্য হলেন। র্যারা সত্যি রূপদক্ষ তাদের আনন্দের শেষ নেই, চোখ, মন সব দিয়ে একটি রূপকে তারা বিচিত্রভাবে দেখে যাচ্ছেন নতুন নতুন—চিরকাল ধরে নতুন । হিমালয় পর্বত সেও রূপের রঙের সঞ্চয় নিয়ে পুরোনো হ’য়ে শেষ হ’য়ে গেল যাদের কাছে এমন মানুষ খুব কম নেই, কিন্তু হিমালয়ের একটা পাথর একটা গাছ মাধুরী পেয়ে অফুরন্ত হয়ে রইলো, চিরনূতন হয়ে গেল যার কাছে এমন মানুষই কম দেখা যায়। গানে যে রূপ ফুটছে, কবিতায় যে রূপ, ছবিতে যে রূপ এবং বিশ্বের এই বিশ্বরূপ—সবারই কায মাধুরীতে মনকে তলিয়ে দেওয়া । এই মাধুরী স্পর্শ করে চলেছে তাবৎ জীব, কেউ এতে তলিয়ে যাচ্ছে, কেউ সমুদ্রের জলে তেলের মতো উপরে উপরে ভাসতে থাকছে তলাতে পারছে না। চন্দ্রোদয় দেখে ‘আহা সুন্দর’ বলে না এমন লোক কম, কিন্তু তারা সবাই চাদের মাধুরীকে পেয়ে যায় না। এই ধরণের সাধারণ ভাবপ্রবণতা চন্দ্রকান্ত-মণির মতো চাদ উঠতেই ভিজে ওঠে, কিন্তু কিছু উৎপন্ন করে না মনের সামগ্ৰী। অসাধারণ ভাবপ্রবণতা হ’ল মাটির মতে, রসে ভেজে, বীজে ফল ধরায়, শক্তি গজায়, ফুল ফোটায়, ফল দেয় নানা রকম । জিনিষটাকে বার থেকে বেশ করে চেনা হ’ল এবং তার ভিতরের ভাবটাও যাহক নিপুণভাবে বার করে দেখা হ’ল কিন্তু বাকি রইলো তখনো আসল যেটা পাবার সেটি পাওয়া—রুপের মাধুরীটুকু। আর্টের সঙ্গে আর্টিষ্টকে পাই তাই অার্টের আদর করি, রূপের আড়ালে অরূপকে দেখি তাই রূপের আদর করি, এমনি কতকগুলো বচন আর্ট-সমালোচনাতে প্রচলিত হ’য়ে গেছে । আর্টিষ্টের এবং অরূপের