বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বাঙ্গালা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ক বক্তৃতা.pdf/৬৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
বাঙ্গালা ভাষা ও সাহিত্য।
৬১

পরস্পরের গাত্রে নিক্ষেপ করিলে যেরূপ জঘন্য দৃশ্য হয়, সেইরূপ জখন্য দৃশ্য হইত। প্রীযুক্ত দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ বাঙ্গালা সম্বাদপত্রকে প্রথম এই দুরবস্থা হইতে উদ্ধার করেন।

 এক্ষণে আমরা সাময়িক পুস্তিকার বিষয় বলিতে প্রবৃত্ত হইতেছি। ১৮১৮ সালে প্রথম সাময়িক পুস্তিকা মিসনরিদিগের দ্বারা শ্রীরামপুরে প্রকাশিত হয়। তাহার নাম “দিগ্‌দর্শন।” ইহাতে বিজ্ঞান, পুরাবৃত্ত ও সাহিত্যবিষয়ক প্রস্তাব সচিত্র প্রকাশিত হইত। ১৮২১ সালে রামমোহন রায় “ব্রাহ্মণ সেবধী” প্রকাশ করেন। ইহাতে তিনি মিসনরিদিগের সহিত তর্ক করিতেন। ১৮৩১ সালে কালেজের বিখ্যাত শিক্ষক রামচন্দ্র মিত্র “জ্ঞানোদয়” প্রকাশ করেন। ইহাতে পুরাবৃত্ত, জীবনচরিত, প্রাণিবৃত্তান্ত এবং বিজ্ঞানবিষয়ক প্রস্তাব লিখিত হইত। ১৮৩২ সালে কালেজের বিখ্যাত ছাত্র গঙ্গাচরণ সেন “বিজ্ঞান সেবধী” প্রকাশ করেন। হিন্দুকালেজের ছাত্রেরা ঐ পত্রিকা সম্পাদন করিতেন। উহাতে নানাবিষয়ক প্রস্তাব লিখিত হইত। ১৮৪২ সালে অক্ষয়কুমার দত্ত “বিদ্যাদর্শন” প্রকাশ করেন, তাহার পরবৎসর তিনি তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা সম্পাদকের পদে নিযুক্ত হওয়াতে বিদ্যাদর্শন সম্পাদনকার্য্য পরিত্যাগ করেন। ১৮৫০ সালে মদনমোহন তর্কালঙ্কার, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রভৃতি লেখকেরা “সর্ব্বশুভকরী পত্রিকা” নামে একখানি পত্রিকা প্রকাশ করেন। পণ্ডিত রামগতি ন্যায়রত্ন বলেন, “এই পত্রিকায় স্ত্রীশিক্ষা বিষয়ে মদনমোহন তর্কালঙ্কার-রচিত এমন একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়, যাহা দেখিয়া অনেকে বলিয়াছেন যে,