পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/২১৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেবযান ››ማ ভোগ কামনার জিনিস ধ্বংস করে তাকে নিঃস্ব, রিক্ত করে দেন । ভগবানের কৃপা সেখানে বজের মত কঠোর, নির্মম, ভয়ঙ্কর। সর্বনাশের মূর্তি ধরে তা আসে জীবনে, ধ্বংসের মূর্তিতে নামে । সে রকম কৃপার বেগ সামলাতে পারে ক'জন ? পুষ্প চুপ করে রইল। এর সত্যতা সে নিজের জীবনে বুঝেচে । ক্ষেমদাস বল্পেন—স্তাখে, আমি ভক্তিপথের পথিক, তুমি জানো। সন্ন্যাসী যে নিগুৰ্ণ ব্রহ্মের কথা বলে, তাকে বুঝতে হোলে জ্ঞানের পথ দরকার। জ্ঞান ভিন্ন ব্রহ্মকে উপলব্ধি করা যায় না। আমি সাকারের উপাসক, মধুর ভাবে মধুর মূর্তিতে তাকে পেতে চাই—তাই আমি বৃন্দাবনে গিয়ে সেই রস আস্বাদ করি । সন্ন্যাসী বলে, ও অপ্রাকৃত মূর্তির উপাসনা কর কেন ? আমি বলি, তোমার নিয়ে তুমি থাকে, আমার নিয়ে আমি থাকি। ও বলে, ব্ৰহ্ম আবরিত হতে হতে জীব হয়েচে, জীব হয়ে স্বরূপ ভুলে গিয়েচে । ব্ৰহ্ম দেশ-কালের মধ্যে ধরা দিয়ে জীব হয়েচে । কেন হয়েচে ? লীলা । আমি বলি, বেশ, এক যখন বহু হয়েচেন লীলার আনন্দকে আস্বাদু করতে, তখন আমিও তার লীলাসহচর তো ? আমাকে বাদ দিয়ে র্তার লীলা চলে না । এই তো প্রেমভক্তি এসে গেল । কেমন ? পুষ্প বল্লে-বনের সেই সন্ন্যাসিনী কিন্তু প্রেমভক্তির কাঙাল। আমি সেবার রঘুনাথদাসের আশ্রমে নিয়ে গিয়েছিলাম, বৃন্দাবনে নিয়ে গিয়েছিলাম –সেই থেকে গোপাল-বিগ্রহের ভক্ত হয়ে উঠেচেন । 朝 -- সে যে মেয়েমানুষ । শুষ্ক জ্ঞানপথে সে তৃপ্তি পায় না—লীলারস আস্বাদ করতে চায় । আমি চল্লাম খুকি, তুমি আজ তো বৃন্দাবনে গেলে না, কাল এসে নিয়ে যাবো। সন্ন্যাসী তোমাকেও কি বলেছিল না ? —বলেছিলেন, এখনও অপ্রাকৃত লোক আঁকড়ে আছ কেন ? তোমার তো উচ্চ অবস্থা, উচ্চ স্তরে চলো । পৃথিবীর হিসেবে আজ কয়েক বছর হোল পুপ এই স্বরচিত বুড়োশিবতলার ঘাটে সম্পূর্ণ একা । করুণাদেবীও ওকে উচ্চতর স্তরে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তত উচ্চ স্তরে গমন করলে আর সে পৃথিবীতে যাতায়াত করতে পারবে না বলেই এই গঙ্গার ঘাট আঁকড়ে পড়ে আছে। এই তার পরম তীর্থ—তার মহর্লোক, জন-লোক, তপোলোক, সত্যলোক, ব্রহ্মলোকলোকাতীত পরমকারণ পরব্রহ্মলোক । কোথাও পোষাবে না তার । কত সহস্ৰ স্মৃতিতে ভরা এই প্রাচীন ভাঙা ঘাটটি । কেউ নেই আজ এখানে । যতীনদী চলে গিয়েচে আজ দশটি বছর । ••• উঞ্চে যতদূর দৃষ্টি যায়—আজ এতকাল পরে তার কাছে শূন্ত অর্থহীন! এক এক সময়ে মনে হয় সেই ভ্ৰাম্যমাণ বহুদক দেবতা যদি আসেন ! তার মুখে বহু জগতের, বস্থ নক্ষত্ৰলোকের, ৰন্থ বিশ্বের গল্প শোনে । নিজে তিনি বেড়িয়ে দেখেচেন, এখনও