পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৩৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেবযান SS কত উচু জাতির লোকের সঙ্গে ওর আলাপ আছে, দেখি এখন। তারা যখন আসেন, আমি থাকতে পারিনে তাদের সামনে । যতীন বল্লে—ম, তুমি কোন স্তরে আছ ? —আমি ওঁর সঙ্গে দ্বিতীয় স্তরে থাকি। ওঁকে ছেড়ে আসি কেমন করে ? ওঁকে এত করে বলি, কানে কথা যায় না। ঐ দেখলে না, এখানে বেশিক্ষণ থাকতে পারলেন না, বিশেষত পুষ্পের সামনে উনি দাড়াতে পারেন না, ওর তেজ উনি সহ করতে পারেন না । পুষ্প লজ্জায় রাঙা হয়ে বল্লে—কি যে বল মা !-তারপর সে ঘরের বাইরে চলে গেল । যতীনের মা বল্লেন, না মন্ট. সত্যি বলচি শোন । তুমি নতুন এসেচ, তোমার পক্ষে এখন বোঝা অসম্ভব যে পুপ কত উচুদরের আত্মা। ও যে-সব উচ্চস্তরে যায়, সেখানে যাওয়ার কল্পনাও করতে পারে না সাধারণ মানুষ পৃথিবী থেকে এসে । তোমার জন্যে ও এখানে কষ্ট করে থাকে, নইলে এর অনেক উচুতে ওর জায়গা। আর কী ভালবাসার প্রাণ ওর, সেই কবে ছেলেবেলায় সাগঞ্জ-কেওটাতে থাকতে তোকে ভাল লেগেছিল, জীবনে সেই ওর ধ্যান জ্ঞান । তোকে আর ভুলতে পারলে না। তুই বৌমার ব্যাপারে পৃথিবীতে কষ্ট পেতিস, পুষ্পর এখানে কি কান্না ! ওর মত আত্মার পৃথিবীতে যেতে কষ্ট হয়, কিন্তু তোমার জন্যে সদাসর্বদা ও সেখানে যেতো। ওকে দেখতে পাওয়া পুণ্যের কাজ । সম্মুখের এই স্বন্দর আকাশ, ঐ কলম্বনা ভাগীরথী, অদ্ভুত রঙের বনানী, অপরিচিত বনলতার সর্বাঙ্গ ছেয়ে সে সব অপরিচিত বনপুপরাজি, এই শান্তি, এই রূপ–এও যেমন স্বপ্ন-— পুষ্পের কথা, পুষ্পের ভালবাসাও তেমনি স্বপ্ন। তার জীবনে সে শুধু নিজেকে ভুলিয়ে এসেচে স্বখ পেয়েচে বলে, কিন্তু সত্যিই কোনো জিনিস পায়নি কখনো—আজ মৃত্যুপারের দেশে এসে তার সারাজীবনের স্বপ্ন সার্থক হতে চলেচে একথা তার বিশ্বাস হয় না। কোনটা স্বপ্ন, কোনট বাস্তব, তার কুডুলে-বিনোদপুরের বাড়ী, না এই স্বপ্নলোক ?--আশালতা, না পুষ্প ?... যতীনের মা বল্লেন–র্তারা ওকে বড় ভালবাসেন, মাঝে মাঝে অনেক ওপরে নিয়ে যান, তাদের রাজ্যে । আমি ওর মুখে সে সব গল্প শুনেচি, ইচ্ছে হয় এখুনি যাই, কিন্তু আমাদের অনেক বছর কেটে যাবে সে রাজ্যে পৌঁছুতে, তবুও পৌঁছুতে পারবো না। সাধারণ মানুষ পৃথিবী থেকে যারা আসে তারা এত নিম্নস্তরের জীব যে, এই তুমি যে দেশে আছ, এ-ই তাদের কাছে উচ্চ স্বর্গ। অন্য সব উচ্চস্তরের কথা বাদই দাও । একটা আশ্চর্য চাপা আলো আকাশের এক কোণ থেকে এসে পড়লো। সমস্ত স্থানট অল্পক্ষণের জন্তে নীল আলোয় আলো হয়ে উঠলো—আবার তখনি সেটা মিলিয়ে গেল। একটা ঠাগু, নীলোজ্জল আলোর সার্চলাইট যেন দু-সেকেণ্ডের জন্তে কে ঘুরিয়ে দিলে। যতীন বল্পে—ও কিসের আলো মা ? —আমি কিছু বলতে পারবো না বাবা। এ সব দেশের ব্যাপার ভারি অদ্ভুত, চন্দ্রস্বর্যির দেশ এ নয়। আমি মুখ মেয়েমানুষ, আমি কি করে জানবো কিসে থেকে কি হয়। দেখি চোখে এই পর্যন্ত । কেন ঘটে, কিসের থেকে ঘটে, সে সব যদি জানবো তবে তো জ্ঞানী