পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৪০৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিধু মাষ্টার bro —কত বেলা হয়ে গেল, আমার ভাত দিৰি নে ? —সে কি মামীম । তুমি রোগা মানুষ, নটার সময় যে তোমকে ভাত দিয়ে খাইয়ে গেলাম পাশে বসে। - —না, আমি খাই নি—দে, ভাত দে– —তুমি ভুলে গেলে মামীম, ভাত দিয়ে গেলাম ষে। তুমি যে খেয়ে শুয়ে ছিলে— —ই্য, তোদের সব মিথ্যে কথা। আমায় খেতে দিবি নে তাই বল। দে দুটাে ভাত !" বিমলা ছেলেমানুষের মত কাদতে শুরু করলে । জয়ন্তী স্নেহের ‘স্বরে বললে—কাদতে নেই মামীম ছি, তোমার মনে থাকে না কিছু। ভাত তোমাকে খাইয়ে গিয়েছি—আচ্ছা মামাবাবু এলে জিজ্ঞেস করে— —ই্য, যেমন তুই, তেমনি তোর মামাবাবু-আমি এদিকে থিদের জালায় মরছি— জয়ন্তী নানারকমে ভুলিয়ে তার দুৰ্ব্বলমস্তিষ্ক মামীমাকে শান্ত করে ঘুম পাড়ালে । শ্রাবণের শেষ। ভীষণ বর্ষ পড়ে গেল। দিন নেই রাত নেই, সব সময় বৃষ্টি। থানাডোবা জলে থৈ থৈ করছে, পটলের ক্ষেত সব জলে ডুবে গিয়েছে বলে হাটে-বাজারে পটল বেজায় আক্রা । একদিন বিমলা স্বামীকে ডেকে চুপি চুপি অপরাধিনীর মত বললে—ওগো, একটা কথা বলব ? —কি ? —আমি একটা ভুল করে বড় লোকসান করে ফেলেছি,—বল, আমায় বকবে না ? —আগে শুনি না ? —বকবে না আগে বল— —আচ্ছা, বকছি নে । —দেখ, তুমি সেই একবার আমায় টাকা দিয়েছিলে মনে আছে। আমার অমুখের আগে ? সে আমি তাকের ওপর ছোলার কলসীটার মধ্যে রেখেছিলাম। আজ আস্তে আস্তে ভাড়ার ঘরে গিয়ে ছোলার কলসীটা পেড়ে দেখলাম সে টাকা নেই । সে তো কেউ জানত না। আমার অমুখের সময় কে বের করে নিয়েছে। আমার মনে হয় ঝি মাগীটা—এখন কি ও কবুল যাবে ? কত টাকা ছিল তোমার মনে আছে ? অতুলের মনে কি কুবুদ্ধি চাপল। অনেক টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে স্ত্রীর অমুখে। বেশি তো নয়, আঠার টাকা সাত আন মাত্র। বিমলার মনে নেই যে ভীষণ অমুখের সময় টাকাটা সে তারই হাতে দিয়েছিল। বললে, তা থাক গে। গিয়েছে তো গিয়েছে—সামান্ত টাকা— @ 會 - —ঝিকে একবার বল না ? —ও ঝগড়া বাধাবে তা হলে। কেউ তো ওকে দেখে নি টাকা.নিতে কি আর হবে ।