পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/১১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Áá বিভূতি-রচনাবলী —পাবে না ? ফর্স হয়ে এল যে পূবে । —যুমোও না একটু । একটু পরে ভোর হয়ে গেল । পান্না তখন অধোরে ঘুচ্চে। ডান হাতে মাথা রেখে দিব্যি যুমুচ্ছে ও, দেখে মায়া হল। মা ছেড়ে, আত্মীয় স্বজন ছেড়ে ও কিসের আশায় চলে এল আমার সঙ্গে ? পান্ত ভদ্রঘরের কুলবধু বা কুমারী নয়, গৃহত্যাগ করে চলে এসেচে আমার সঙ্গে। আবার যখন অসুবিধে হবে, ও চলে যেতে পারবে, আটকাচ্চে কোথায় ? আমি চায়ের দোকানে চ খেয়ে পারার জন্যে চা নিয়ে এলাম । পান্না উঠে চোখ মুছচে । —ও পান্না ? পান্না এক কাগু করে বসলো। তাড়াতাড়ি উঠে মাথায় আঁচল দিয়ে আমায় এসে এক প্ৰণাম ঠুকে দিলে। আমি হেসে উঠলুম। বলি এ কি ব্যাপার ? —কেন ? নমস্কার করতে নেই ? —থাকবে না কেন ? হঠাৎ এত ভক্তি ? —ভক্তি করতে কিছু দোষ আছে ? —কি বলে আশীৰ্বাদ করবো ? —বলো যেন শীগগির করে মরে যাই । —কেন, জীবনে এত অরুচি হোল কবে ? —বেশিদিন বেঁচে কি হবে ? তুমি তো বান । —তাতে সন্দেহ আছে নাকি ? তুমি কি জীপ্ত ? —বাব ছিলেন ব্রাহ্মণ । মায়ের মুখে শুনেছি। —ওসব ভুল কথা । তোমার মা বংশের কৌলীন্ত বাড়াবার জন্তে ওই কথা বলেছেন। আমার বিশ্বাস হয় না । —ভয় কিসের ? আমি কি বলবো আমায় বিয়ে কর । , —সে কথা হচ্চে না। আমি বলচি তুমি যে জাতই হও, আমার কাছে সব সমান। বামুনই হও আর তাতিই হও—চ থাবে না ? —চ এনেচ ? --খেয়ে নাও, জুড়িয়ে যাবে। - এইভাবে সেদিন থেকে আমাদের নতুন জীবনধাত্রা নতুন দিন মতুনভাবে শুরু হল। জামার হাতে নেই পয়সা ! বাড়ী থেকে কিছু আনি নি, ভাড় নিয়ে এলুম জল খাবার জন্তে। সন্তায় ছ’খানা মাছর কিনে আনলুম। শালপাত কুড়িম্বরে কিনে আনি দু'বেলা ভাত খাওয়ার জন্তে। পান্না তাতে এতটুকু অসন্তুষ্ট নয়। যা আনি, ও তাতেই খুশি । আমার কাছে মুখ