পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/১২৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


छा?१ 町丽 و هذا –এই বাসার নিচের তলাতে ঘর খালি আছে, ডাক্তারখানা খোলো । —তুমি ভারি মজার মেয়ে পান্না ! অত সোজা বুঝি ! টাকা কই, ওষুধপত্র কিনতে হবে, কত কি চাই। টাকা দেবে ? —কত টাকা বলে ? —হাজার খানেক । —ক’ত ? —আপাততঃ হাজার খানেক । —উ রে ! পান্না দীর্ঘ শিস দেওয়ার স্বরে কথাটা উচ্চারণ করে চুপ করে গেল । আমি জানি ও অত টাকা কখনো একসঙ্গে দেখে নি। বঙ্গলাম—তুমি ভাবছিলে কত টাকা ? —আমি ? আমি ভাবছিলাম পচিশ ত্রিশ । —দিতে ? —আমার হার বাধা দাও, দিয়ে টাকা আনো । —থাক, রেখে দাও । সেদিন দু'টি ডিসপেনসারিতে গিয়ে চাকরির চেষ্টা করলাম। কোথাও স্ববিধে হোল না । বসে বসে অনেকক্ষণ ভাবলাম। একটা নির্জন স্থানে বসে । কিন্তু আসল কাজ হয়ে পড়লো অন্য রকম । পান্নাও নাচের আসরে বায়না নিতে লাগলো। আমি ওর সঙ্গে সৰ্ব্বত্রই যাই, বাইজীর পেছনে সারেঙ্গীওয়ালার মত। পরিচয় দিই দুলের রক্সইয়ে বামুন বলে, কখনো বলি আমি ওর দূর সম্পর্কের দাদা। এ এক নতুন ধরণের অভিজ্ঞতা ; কত রকমের লোক আছে, কত মতলব নিয়ে লোকে ঘোরে, দেখি, বেশ ভাল লাগে । ওরই রোজগারে সংসার চলে। মাঘ মাসের শেষে কেশবডাঙ্গা বলে বড় একটা গঞ্জের বারোয়ারির আসরে পান্নার সঙ্গে গিয়েছি। বেশ বড় বারোয়ারির আসর, প্রায় হাজার লোক জমেচে আসরে । তার কিছু আগে স্থানীয় এক পল্লীকবির ‘ভাব’ গান হয়ে গিয়েচে । অনেক লোক জুটেছিল ‘ভাব’ গান শুনতে। তারা সবাই রয়ে গেল, পান্নার নাচ দেখতে। কিছুক্ষণ নাচ হবার পরে দেখলাম পান্না সকলকে মুগ্ধ করে ফেলেচে। টাকা সিকি দুয়ানির প্যালাবৃষ্টি হচ্চে ওর ওপরে। গঞ্জের বড় বড় ধনী ব্যবসাদার সামনে সার দিয়ে বসে আছে আসরে । সকলেরই দৃষ্টি ওর দিকে। আমি বসেছিলাম হারমোনিয়ম-বাজিয়ের বা পাশে। আমায় এসে একজন বললে— আপনাকে একটু আসরের বাইরে আসতে হচ্চে— —কেন ? —ঝড় বাৰু তাকচেন । —কে ঝড় বাৰু?