পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/১৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Ş বিভূতি-রচনাবল তাকে বলি পশু। এই যে তুমি, তুমি লোকটি কম নয়, নমস্ত। যদি বল কেন, তবে বলি। ডাক্তারি ছেড়ে, ঘরবাড়ী ছেড়ে, স্ত্রী পুত্র ছেড়ে ওই এক ষোলো সতেরো বছরের মেয়ের পেছনে পেছনে কেন ঘুরে বেড়াচ্চ তুমি ? সর্বস্ব ছেড়ে ওর জন্তে ? সবাই কি পারে ? তোমার মধ্যে বস্তু আছে। ভায়া, এসব সবাই বুঝবে না। আমি নিজের কথা খুব কমই ভেবেছি এ কমাস। চুপ করে রইলাম। ঝডু বললে—এ জন্মে এই, আসচে জন্মে এই ভাব দিয়ে তাকে পাবে ? —র্তাকে কাকে ? —ভগবানকে ? উত্তরটা যেন তিনি প্রশ্ন করবার স্বরে বললেন । আমার বেশ লাগছিল ওর কথা, শুনতে লাগলাম। কবি কিনা, বেশ কথা বলতে পারে। তবে বর্তমানে ভগবানের সম্বন্ধে আমার কোন কৌতুহল নেই, এই যা কথা । ঝড় আবার বললে—স্থ্য ভায়া, মিথ্যে বলচি নে। এই সৰ্ব্বশ্বভ্যাগের অভ্যেস ভাবের খাতিরে, এ বড় কম অভ্যেস নয়, পান্না তোমাকে শেখালে। ও না থাকলে শিখতে পেতে না । অন্য লোকে বলবে তোমাকে বোকা, নিৰ্ব্বোধ, খারাপ, অসৎ চরিত্র বলবে তোমায় । আমি বললাম—বলবে কি বলচো, গ্রামের লোক এতদিন বলতে শুরু করেচে। —কিন্তু আমার কাছে ও কথা নয় । আমি ভাবের লোক, আমি তোমাকেও অন্য চোখে দেখবো। তুমি ভাবের খাতিরে ত্যাগ করে এসেচ সৰ্ব্বস্ব ; তুমি সাধারণ লোক নও, জন্তু মাহুষের চেয়ে অনেক বড়। খাটি মানুষ ক'ট ? জন্তু মানুষই বেশি। পায়ের ধুলো দfও ভায়া-ভাব আছে তোমার মধ্যে— কথা শেষ না করেই ঝড় মদের ঝোঁকে কি ভাবের ঝোকে জানিনে, আমার পায়ের ধুলো নিতে এল ঝুকে পড়ে । আমি পা সরিয়ে নিয়ে তখনকার মত কবির কাছ থেকে চলে এলাম। মাতালের কাছে বেশীক্ষণ বসে থাকা ভালো নয় দেখচি । ঝডু মল্লিকের কাছ থেকে চলে তো এলাম, কিন্তু ওর কথা আমার মনে লাগলো। নেশায় পড়ে গিয়েছি কথাটা ঠিকই, আমিও তা এক এক সময় বুঝতে পারি। কিন্তু ঝড় মল্পিক কবি যখন, তখন জানে এ নেশার মধ্যে কী গভীর আনন্দ ! ছাড়া কি যায় । ছাড়া যায় না । পায় সেদিন নাচের আসরের পর এসে ঘুমিয়ে পড়েছে, অনেক রাত—বাইরে চাদ উঠেছে, শন শন করে হাওয়া বইচে—আমি বাইরের বারান্দায় শুয়েছিলাম—কিন্তু ও বলেছিল আমার কাছে এসে শোবে রাত্তিরে, নয়তো নতুন জায়গা ভয় ভয় করবে। নীলি এবার আসে নি, ও একাই মুজরো করতে এসেচে। ভয় ওর করতেই পারে, তাই রাত্রে আমি ঘরের মধ্যেই এলাম ।