পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/১৩২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


S 8ર বিভূতি-রচনাবলী —আচ্ছা, তুমি এখন ঘুমোও, রাত অনেক হলো। আবার কাল তো সকাল সকাল নাচের আসর । –ধুমুই আর তুমি আমাকে মেরে ফেলো গল টিপে, না ? --ত ইচ্ছে হয় তো গলা টিপে মারবো । ঘুমোও । ঘুম ভেঙে উঠে দেখি পান্না তখনও অঘোরে ঘুচ্চে। আমি উঠে বুইরে গেলাম। একটা কদম গাছ ডালপালা বেরিয়ে দাড়িয়ে আছে, সকালের রোদ বাকাভাবে গাছটার উপর পড়েচে। গাছটার দৃপ্ত আমার মনে এমন এক অপূৰ্ব্ব ভাব জাগালো যে আমি প্রায় সেখানে বসে পড়লাম। কি যে আনন্দ মনে, আমার এত বৎসরের অভিজ্ঞতায় কখনো আস্বাদ করি নি। আজ আমি পথের ফকির, পসারওয়ালা ‘ডাক্তার’ হয়ে খেমটাওয়ালীর সারেঙ্গী নিয়ে বেড়াচ্ছি—কিন্তু আমার মনে কোন কষ্ট নেই, কোন খেদ নেই। ঝড়, মল্লিক ভাবওয়ালা যে পুরনো দোতলা বাড়িতে থাকে, সেটা একটা পুকুরপাড়ে। সারা রাত ভাল করে ঘুম হয় নি, পুকুরে স্বান করতে গিয়ে দেখি ঝড় ভাবওয়ালা পুকুরের ওপারে নাইচে । আমায় দেখে বললে-ডাক্তারবাবু— —কি বলুন ? —চা খেয়েছেন সকালে ? আমুন দয়া করে আমার আস্তানায়। —চলুন যাচ্চি। লোকটা আমার জন্য খাবার আনিয়েচে বাজার থেকে । খুব খাতির করে বসালে । লোকটাকে আমারও বড় ভালো লেগেছে, এমন দিলদরিয়া ধরণের লোক হঠাৎ বড় দেখা যায় না। সবিনয়ে আমার অনুমতি প্রার্থনা করে (যদিও তার কোনো প্রয়োজন ছিল না ) একটু মদও সে নিজের চায়ের সঙ্গে মিশিয়ে নিলে । এক চুমুকে চাটুকু খেয়ে নিয়ে আমায় বললে-চলবে ? —ন । আপনি খান— —তুমি ভাই নতুন ধরনের মানুষ। আমরা ভাবওয়াল কিনা, ধরতে পারি। তোমায় নিয়ে ভাব লিখবো কিনা, একটু দেখে নিচ্চি। তুমি বড় ডাক্তার ছিলে, আজ ভাবের জন্তে সারেঙ্গীওয়ালা সেজেচ— —তা বলতে পারেন— —আর একটা কথা জিজ্ঞেস করি। কিছু মনে কোরো না। মা লক্ষ্মী বৰ্ত্তমান ? -ह । —কোথায় ? —দেশের বাড়িতে আছেন। ঝড় একটু চুপ করে থেকে বললে-তাই তো ! ও কাজটা যে আমার তেমন ভালো লাগচে না। মা লক্ষ্মীকে যে কষ্ট দেওয়া হচ্চে । ওটা ভেবে ভাথে নি বোধ হয় ভায়া।