পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


is/s এখানে সেই বিল্বমঙ্গল ও চিন্তামণির কথাই মনে পড়ে। সৰ্পে রজুলুম, হেন অন্ধ করেছে নয়ন।” এক বেস্তাকে ভালবেসে, তার প্রেমে অন্ধ হয়ে শেষে সেই ঈশ্বরের প্রেম লাভ করেছিল যেমন বিল্বমঙ্গল, শশাঙ্কর মনোভাবেরও তেমনি ক্রমপরিবর্তন লক্ষণীয়।—“ষোড়শী স্বরবালাকে আমি বিবাহ করেছিলাম। কিন্তু কিসের অভাব ছিল তার মধ্যে ? অভাব কিসের ছিল তা তখন বুঝি নি। এখন বুঝতে পারি, পান্নার ভালোবাসা পেয়ে আমার এই যে নেশার মত আনন্দ, এই আনন্দ দিতে পারে নি। নেশা ছিল না ওর প্রেমে । ওর ছিল কিনা জানি নে, আমার ছিল না। এত যে নেশা হয় তাই জানতাম না, যদি পান্নার সঙ্গে পরিচয় না হোত ! এর অস্তিত্বই আমার অজ্ঞাত ছিল।” এই যে অস্তিত্ববোধ, নিজের অস্তরে যে শ্ৰেয়বোধ সেটা জাগ্রত না হলে, মানুষ সেই পরম রসের আস্বfদ গ্রহণ করতে পারে না । সংসারের মধ্যে থেকে স্ত্রী-পুত্র পরিবেষ্টিত হয়ে সেই অমৃতের স্বাদ পাওয়া যায় না। তার জন্যে ত্যাগ স্বীকার চাই, সংসার—পথের কণ্টক, পায়ের বেড়ী। সেটাকে ভেঙে, সব কিছু ফেলে বেরিয়ে আসতে না পারলে বুঝি সেই পরম প্রেয়কে লাভ করা যায় না । অর্থাৎ সব ত্যাগ করে একজনের পায়ে দেহমন সব কিছু সমৰ্পণ না করলে সে মানবী হোক আর দেবী হোক তাকে পাওয়া সম্ভব নয়। এই পরম সত্যটিকে বিভূতিভূষণ যেন বৈষ্ণব মহাজনদের পরকীয়াতত্ত্বের রস উপলব্ধির মত এখানে পরিবেশন করেছেন । “অথৈজল’ তাই বিভূতিভূষণের একখানি শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। মহান শিল্পীর হৃদয়-মন্থন-করা শেষ অমৃত । - যারা ও-রসে বঞ্চিত, জানে না ওর আস্বাদ, তাদের তিনি বলেছেন—“ওরা বডড দুর্ভাগ। অমুতের আস্বাদ পায় নি জীবনে। ভালবেসে আনন্দ নয়, ভালোবাসা পেয়ে আনন্দ । এ কোন আইডিয়ালিয়াষ্টিক ব্যাপার নয়, নিছক স্বার্থপর ব্যাপার।” “to go os of: $fsso ofto–"It is better to have loved and lost, than never to have loved at all.” আরো বলেছেন, "একটু আস্বাদ করে, আরও আস্বাদ করতে প্রাণ ব্যগ্র হয়ে ওঠে।” ভগবৎ-প্রেমের আস্বাদও যারা একবার পায়, তারা ছাড়তে পারে না, আরো পাবার জন্যে ব্যাকুল হয়ে পড়ে। এমনি তার নেশা, এমনি মাদকতা ! উপন্যাসের নায়ক-নায়িকা মধ্যে দিয়ে লেখকের বক্তব্য হয়ত ঠিকভাবে তিনি পরিস্ফুট করতে পারেন নি—এই মনে করে সবশেষে তিনি এক কবিকে এনেছেন। ভাবের কবি ঝডুমল্লিক। তিনি বলছেন, “যার মধ্যে ভাবের অভাব তাকে বলি পশু, এই যে তুমি-তুমি লোকটি কম নয়, নমস্ত ! যদি বল কেন, তবে বলি—ডাক্তারী ছেড়ে ঘরবাড়ী ছেড়ে স্ত্রী-পুত্র ছেড়ে ওই এক ষোলো-সতেরো বছরের মেয়ের পেছনে পেছনে কেন ঘুরে বেড়াচ্ছ তুমি সর্বস্ব ছেড়ে ওর জন্যে। সবাই কি পারে ? তোমার মধ্যে বস্তু অাছে ভায়া, এসব সবাই বুঝবে না ן" *