পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/১৯৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ՖՊՎ9 বিভূতি-রচনাবলী গদাধর একটি সাহসের কাজ করিলেন। বিনীতভাবে বঙ্গিলেন-একটা কথা বলি– কিছু মনে করবেন না। শোভা বলিল—কি, বলুন ? —আপনার টাকার দরকার বলছিলেন,•••ও টাকাটা আমি কাল সকালেই আপনাকে পাঠিয়ে দিচ্চি। নিৰ্ম্মলের কাছ থেকে চেকের টাকা আমি আদায় ক'রে নেবো। • —আপনি ? না, না, আপনি কেন দেবেন ? —জাঙ্গে তা হোক। আপনি যদি কিছু মনে না করেন••• শোভা আর কোনো তর্ক না করিয়া বেশ নিৰ্ব্বিকার-কণ্ঠে বলিল—বেশ, দেবেন। গদাধর কৃতাৰ্থ হইয়া গেলেন যেন। বলিলেন—কাল সকালে কি থাকবেন ? —আমি এগারোটা পৰ্য্যস্ত আছি । —তাহলে আমি নিজেই ওটা নিয়ে আসবো । —আপনি আবার কষ্ট করে আসবেন কেন—কাউকে দিয়ে পাঠিয়ে দেবেন না হয়। গদাধর দেখিলেন, এ জায়গায় অন্য কাহাকেও চেক্ দিয়া পাঠানো চলিবে না—নতুবা ভড়মহাশয়কে পাঠাইয়া দিলে চলিত। ভড়মহাশয় বা অন্য কেহ মুখে কিছু না বলিলেও, নানারকম সন্দেহ করিতে পারে—কথাটা পাচ-কান হওয়াও বিচিত্র নয় সে-অবস্থায়। স্বতরাং তিনি বলিলেন—তাতে কি, কষ্ট করবার কি আছে এর মধ্যে ! আমি নিজেই আসবো-এখন । —কলকাতায় আপনি কোথায় থাকেন ? —আজে, লালবিহারী সা রোড, মানিকতলা । —নিৰ্ম্মলবাবুকে চিনলেন কি ক'রে ? —আমার গায়ের লোক-এক গায়ে বাড়ী। গদাধরের অত্যন্ত কৌতুহল হুইল, শোভারাণীর সঙ্গে নিৰ্ম্মলের কি ভাবে পরিচয় হুইল জিজ্ঞাসা করেন, কিন্তু শেষ পৰ্য্যস্ত কথাটা জিজ্ঞাসা করিতে পারিলেন না। কিছুক্ষণ আবার দু'জনেই চুপ। গদাধর অস্বস্তিবোধ করিতে লাগিলেন, এবার বোধ হয় যাওয়া ভালো—বেশি ক্ষণ থাকা হয়তো বেয়াদপি হইবে। কিন্তু হঠাৎ ওঠেনই বা কি বলিয়া ! শোভাই হঠাৎ বলিয়া উঠিল—চা খাবেন ? গদাধর জানাইলেন, এখন তিনি চায়ের জন্য কষ্ট দিতে রাজী নন—এইমাত্ৰ খাইয়া আসিলেন, শোভারাণী আবার চুপ করিল। কিছুক্ষণ উলখু করিয়া গদাধর বলিলেন—তাহলে আমি এৰার বাই,—রাত হয়ে গেল। শোভা বলিল—আচ্ছা,—আস্কন তবে। গদাধর উঠিলেন, এবার শোভা এমন একটি ব্যাপার করিল, তার মত গতি মেয়ের নিকট গদাধর বাহা প্রত্যাশ করেন নাই—শোভ ইজিচেয়ার হইতে উঠিয় লিড়ির মুখ পৰ্যন্ত তাহাকে জাগাইয়া দিতে আসিল। গদাধর সমস্ত দেহে এক অপূর্ব জানদের শিহরণ অনুভব করিলেন। নেশার মত সেটা তাহাকে আচ্ছন্ন করিয়া রাখিল সারা পথ গদাধরের পক্ষে এ