পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/২০৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দম্পতি فساد তিনি বলিয়াছেন—এখন কেন মা, পূজো-আচ্চা হয়ে যাক, বিধবা মানুষ, একেবারে সকলের শেষে যাহয় কিছু মুখে দেবো। তুমি রাজ-রাণী হও ভাই, তোমার বড্ড দয়া গরীবের ওপরে { আমার ছেলে তো মাসিমা বলতে অজ্ঞান । সন্ধার পরে পূজা আরম্ভ হইল। লোকজন একে-একে আসিতে আরম্ভ করিয়াছে । পাশের বাড়ীর ভদ্রলোকেরাও আসিলেন। এখনও গদাধর আসেন নাই—তিনি আসিলেই নিমন্ত্রিতদের খাওয়ানো শুরু হইবে। অনঙ্গ আজ খুব ব্যস্ত। নিজে সে রান্নার তদারক করিয়াছে বৈকাল হইতে । সব দিকে চোখ রাখিয়া চলিতে হইয়াছে, যাহাতে কেহ কোন ক্রটি না ধরে। পূজা শেষ হইয়া রাত পড়িল। নিমন্ত্রিত ভদ্রলোকের একটু ব্যস্ত হইয়া পড়িয়াছেন, গৃহস্বামী এখনও আসেন নাই ! দু’একজন তাগাদাও দিলেন, তাহাদের সকাল-সকাল বাড়ী ফিরিতে হইবে, কাজ আছে অন্যত্র । হরিয়া চাকরকে ডাকিয়া অনঙ্গ বলিল—দ্যাথ তো, আড়ত থেকে কেউ এসেচে ? হরিয়া বাহিরের ঘর দেখিয়া আসিয়া বলিল—চfর পাঁচজন এসেচে মাইজি। তবে ভড়মশায় আসেন নি এখনো । সিধুব মাকে ডাকিয়৷ অনঙ্গ বলিল—কি করবো দিদি, সব খেতে বসিয়ে দিই, কি বলেন ? উনি বোধ হয় কাজে আটকে পড়েছেন। ভড়মশায় যখন আসেন নি।--তখন দু'জনে কাজ শেষ ক'রে চাবি দিয়ে একসঙ্গে আসবেন । এদের বসিয়ে রেখে কি হবে ? সিধুর মা বলিলেন—তাই বসিয়ে দাও। আমি সব দিয়ে আলচি গিয়ে—আমায় সাজিয়ে দাও । বাহিরের লোক সব প্রসাদ খাইয়া চলিয়া গেল । আড়তের লোকদের খাওয়াইতে বসানো হইল না, গদাধর ও ভড়মশায়ের অপেক্ষায় । রাত ক্রমে দশটা বাজিল। তখন আর কাহাকেও অভূক্ত রাখিলে ভালো দেখায় না, সিধুর মার পরামর্শে তাহাদেরও বসাইয়া দেওয়া श्हेल । তাহাদের খাওয়া শেষ হইল, রতি তখন প্রায় এগারোট, পরিপূর্ণ জ্যোংস্কা রাত্রি—গ্যাস ইলেকট্রিকের আলোয় বাধা ঠেলিয়াও এখানে-ওখানে স্ব-মহিমা প্রকাশ করিতেছে। এমন সময় ভড়মশায় অসিলেন—একা । অনঙ্গ ব্যস্ত হইয়া বাহিরের ঘরের দরজার কাছে আসিয়া ভড়মশায়কে বলিল—উনি কই ? এত দেরি কেন আপনাদের ? ভড়মশায় বলিলেন—আমি হাটখোলায় তাগাদায় বেরিয়েছি ন’টার আগে । উনি তো তখুনি বেরুলেন-আমি ভাবচি এতক্ষণ বুঝি এসেছেন। \ ভড়মশায়ের গলার স্বর গষ্ঠীর। তিনি কি একটা যেন চাপিতে চেষ্টা করিতেছেন। অনঙ্গ ব্যস্ত ও ভীতকণ্ঠে বলিলেন--তাহ’লে উনি কোথায় গেলেন, তার খবরটা একবার নিম্—সঙ্গে টাকাকড়ি ছিল নাকি ? - ... "